নামমাত্র বেতন ছিল, কলকাতার রাস্তায় ফুচকা খেয়ে কেটেছে কতদিন! স্মৃতিতে অমিতাভের চোখে এল জল

মাইনে ছিল ৩০০ টাকা! কলকাতার রাস্তায় ফুচকা খেয়ে খিদে মেটাতেন অমিতাভ, স্মৃতির আবেগে ভাসলেন অভিনেতা

Amitabh Bachchan opens up about his memory with Kolkata Victoria and fuchka

বলিউড (Bollywood) সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) প্রথম জীবনে যে কলকাতাতে একটি সংস্থাতে চাকরি করতেন সে কথা তার ভক্তরা বেশ জানেন। কম বয়সে অমিতাভ বচ্চন কলকাতার একটি জাহাজ প্রস্তুতকারী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাই বাংলার সঙ্গে তার গভীর টান রয়েছে। বিশেষত কলকাতার সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সম্প্রতি কৌন বানেগা ক্রোড়পতির মঞ্চে সেই পুরনো স্মৃতি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা।

কিছুদিন আগেই কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলেন কলকাতার মেয়ে গার্গী। তিনি পেশায় ফিনান্সিয়াল কনসালটেন্ট। প্রতিযোগিতায় ‘তাজ অফ দ্য রাজ’ নামের মিউজিয়ামের ছবি দেখে চিনতে হত তাকে। অমিতাভ জানান এই মিউজিয়াম উপনিবেশিক শাসনে গড়ে তোলা হয়েছিল। ছবিটি দেখেই এক মুহূর্তের মধ্যে ‘ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল’কে চিনে নেন গার্গী।

এরপরই স্মৃতির পাতা উল্টে পুরনো দিনের কথা গার্গীর সঙ্গে শেয়ার করে নেন শাহেনশাহ। তিনি বলেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং ফুচকার প্রতি তার বহু পুরনো টান রয়েছে। ভিক্টোরিয়ার সামনে একটা দরজা রয়েছে যেখানে দুনিয়ার সেরা ফুচকা পাওয়া যেত, সেই ফুচকার স্বাদ অমিতাভ তার কম বয়সে পেয়েছিলেন। সেই সময় নামমাত্র বেতন পেতেন অমিতাভ। অন্যদিকে ফুচকা ছিল তখন সস্তা খাবার। তাই দিনের পর দিন ভিক্টোরিয়ার সামনে ফুচকা খেয়েই পেট ভরিয়েছিলেন তিনি।

অমিতাভ বলেন, “ভিক্টোরিয়ার সামনে একটা ফটক আছে। সেখানে দুনিয়ার সেরা ফুচকা পাওয়া যায়। আমার মত লোক যারা মাসে ৩০০-৪০০ টাকা মাইনে পেত, যখন আমি সেখানে চাকরি করতাম, খাওয়া-দাওয়ার খুব অসুবিধা ছিল তখন। আমরা ফুচকা খেয়েই কাটিয়ে দিতাম। কারণ তখন ফুচকার দাম খুব কম ছিল। দু-আনা চার আনার ফুচকা খেতাম। দারুণ ফুচকা মিলত, পেট ভরে খেতাম।”

আজ প্রায় ৫০ দশক পেরিয়েও কলকাতা অমিতাভের স্মৃতি জুড়ে রয়েছে। তিনি তার যৌবনের বেশ কিছুদিন বাংলাতে কলকাতা শহরে কাটিয়েছিলেন। তারপর এখান থেকে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে তিনি মুম্বাই চলে যান এবং সেখানে নতুনভাবে কেরিয়ার শুরু করেন। দীর্ঘ স্ট্রাগলের পর আজ তিনি বলিউডের শাহেনশাহ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তবে কলকাতার শহরে তার কাটানো মুহূর্তগুলো তিনি ভোলেননি।

বাংলার সঙ্গে বরাবর অমিতাভের গভীর সম্পর্ক থেকে। প্রথম জীবনে তিনি চাকরি নিয়েছিলেন এখানেই, আবার বাংলার মেয়েই হয়েছেন তার স্ত্রী। অমিতাভ নিজেও ঝরঝর করে বাংলায় কথা বলতে পারেন। সেই সঙ্গে বাঙালি খাবার তার আজও বড়ই প্রিয়। যখন তিনি এখানে থাকতেন তখন তার হাতে বিশেষ টাকা-পয়সা ছিল না, খাবারও জুটতো না সেরকম, তবে কলকাতাকে ঘিরে স্মৃতিগুলো তার মনে এখনও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।