অভাবে নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে ভাইয়ের সংসারে, ফিরেও দেখেন না অমিতাভ

সম্পত্তি নিয়ে চুলোচুলি বচ্চন পরিবারেও, গরিব ভাইয়ের খোঁজখবরও নেন না অমিতাভ

সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ-লড়াই চলে আসছে সেই রাজা-রাজড়াদের আমল থেকে। আজও এর উর্দ্ধে নয় সমাজ। যত নামিদামি ব্যক্তিই হোন না কেন, নিজের নামে সম্পত্তি রক্ষার জন্য পারিবারিক কলহ কিংবা ভাই-বোনদের সঙ্গে বিবাদে জড়াননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই ভার। বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। সম্পত্তি নিয়ে তিনিও তার ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে ছিলেন।

বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের তরফ থেকে প্রতিভা এবং সম্পত্তি বংশানুক্রমেই পেয়েছিলেন অমিতাভ। যদিও অমিতাভের আমলেই বচ্চন পরিবারের সম্পত্তি ফুলেফেঁপে উঠেছে তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি যতই থাকুক না কেন, অমিতাভ তার পৈতৃক বাড়ির অধিকার ত্যাগ করতে চাননি দুস্থ ভাইয়ের কথা ভেবেও।

অমিতাভ বচ্চনের নিজের ভাই আজিতাভ বচ্চন থাকেন বিদেশে। তবে অনুপ নামে তার এক পিসতুতো ভাই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশে। হরিবংশ রাই বচ্চনের আদিবাড়ি রয়েছে উত্তরপ্রদেশেরই কাটঘড়ে। মুম্বাইতে আসার আগে অমিতাভ এই বাড়িতেই তার বাবা-মা, পিসি, বোনপোদের সঙ্গে থাকতেন।

হরিবংশ রাই বচ্চন বেঁচে থাকতেই তার বোনপোর দায়-দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় তার মৃত্যুর পর। বাবার মৃত্যুর পর পিসতুতো ভাইয়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে দেন অমিতাভ। সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয় দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ।

হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যুর পর অনুপ প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই আদি বাড়ির একাংশকে প্রখ্যাত কবির মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা হোক। তবে অমিতাভ সেই প্রস্তাবে সহমত ছিলেন না। এই নিয়ে বিবাদ চরমে পৌঁছালে তিনি তার ভাইকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ওই আদি বাড়ির এক অংশে কোনওমতে দিন গুজরান করছেন অনুপ এবং তার পরিবার। অনুপ পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। অমিতাভের পরিবারের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি অভিষেক-ঐশ্বর্যের বিয়েতেও তাদের নিমন্ত্রণ করা হয়নি। আজ এই দুঃস্থ পরিবারের দিকে ঘুরেও তাকান না অমিতাভ। তাদের নিয়ে কোনও কথাও বলতে চান না।