ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের স্বপ্ন নিয়ে ওষুধের দোকানের কর্মচারীর ছেলে মেধা তালিকায় পঞ্চম

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সারাদিন বিভিন্ন বৈদ্যুতিন খবরের চ্যানেলে  কৃতীদের নিয়ে সংবর্ধনা বা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখন নিজেকে দূরেই রেখেছে প্রমথকান্তি মজুমদার। তবে সাফল্যের আলোকে কখনো দারিদ্র্যের অন্ধকার ঢেকে রাখতে পারে না। তার সাফল্যের কথা যখন সকাল ৯ টার পর মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জানা যায় তখন তাকে ঘিরে পরিবার ও আত্মীয় স্বজন এবং পাড়ার লোকেদের দেখা যায় এক অদ্ভুদ উন্মাদনা। আর কেনই বা হবে না। সে যে এবার কৃতী দশ জনের তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে।তার প্রাপ্ত নাম্বার ৬৮৫। পরিবারের সাথে সাথে পাড়ার ও জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে সে।

Photo : Facebook

প্রমথ একজন সাধারণ পরিবারের অসাধারন ছেলে। বাড়ি নদীয়ায়।  বাবা মা ও তাকে নিয়েই তাদের এক ছোট্ট পরিবার। তার বাবা একজন সামান্য অস্থায়ী কর্মচারী। তিনি ওষুধের দোকানে সামান্য কিছু টাকার মাইনেতে কাজ করেন। তবুও বরাবরের মেধা ছেলে প্রমথ সকল প্রতিকূলতা ছাড়িয়ে আজকের সাফল্য বাবার মুখে এনেছে যুদ্ধে জয়ের আনন্দ। পরিবারে আর্থিক অনটন সর্বদা থাকলেও সে তার মেধা ও অধ্যবসায় দিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে এই সফলতা।

প্রমথনাথ এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল কাঁচড়াপাড়া হারনেট বিদ্যালয় থেকে। বাল্য অবস্থা থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি তীব্র আসক্তি। আর তাই আজকের এই সফলতার জন্য সে বরাবর তার পড়াশোনার প্রতি অনুরাগকে  তুলে ধরেছে। তার কথায় পাঠ্য বই খুব ভালো করে সে পড়েছে। বারবার প্রতিটি অধ্যায় থেকে অনুশীলন করেছেন ভালোভাবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাহায্য তার সফলতার পথকে আরও সহজ করেছে তা একবাক্যে স্বীকার করে নেয়  মুখচোরা ও লাজুক প্রমথকান্তি।

আরও পড়ুন : টালির ভাঙা ঘর থেকে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নে গামছা বিক্রেতার ছেলে অমিয়

Photo : Facebook

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে সে জানায, বর্তমানে সে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে উচ্চ মাধ্যমিকে এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পর কোন গতানুগতিক চাকরি যেমন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান না সে। তার ইচ্ছা সকল মানব সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য মারন রোগ ক্যানসার নিয়ে গবেষনা এবং ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করা।

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকে দশম টিকিট বিক্রেতার ছেলে শুভম রায়

Photo : Facebook

আরও পড়ুন : সবজি বিক্রেতার ছেলে আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে মেধাতালিকায় ছিনিয়ে নিল অষ্টম স্থান

ছেলের এই সাফল্যে তার বাবা মা দারুন ভাবে উচ্ছসিত হলেও তারা কিছুটা শঙ্কিত। তাদের আর্থিক অবস্থা যে বিরাট কিছু আহামরি তা কিন্তু নয়। তাই ছেলের ভবিষ্যৎ পড়ার খরচ কীভাবে জোগাতে পারবেন সেই নিয়ে তারা চিন্তিত। তবে তার ছেলের পাশে তারা যে সবসময় আছে এটা তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জানিয়েছে। অনটনকে হেলায় হারিয়ে তার ছেলে যে সাফল্য মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অর্জন করেছে তা যেন ভবিষ্যতেও যেন থাকে তার জন্য সকল রকম চেষ্টা তারা করবেন বলেই জানান।