শুধুমাত্র জল বেচে আম্বানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার ১ নম্বর ধনী এই ব্যবসায়ী

জলের ওপর নাম জীবন। আর সেই জলের ব্যবসা করেই মুকেশ আম্বানিকে টপকে গিয়ে এশিয়ার সবথেকে ধনী ব্যাক্তির শিরোপা পেলেন ঝং শানশান (Zhong Shanshan)। তিনি কে, সেটা অনেকেই হয়তো জানেননা কারণ এখনও কোটিপতি জগতে তেমন খ্যাতি নেই তার।কিন্তু তিনিই এখন আমেরিকার আর্থিক সংস্থা ব্লুমবার্গের বিচারে এশিয়ার সবথেকে ধনী ব্যাক্তি।

করোনা আবহে যখন বিশ্ব অর্থনীতির নেজেহাল দশা তখনই কোটিপতির মুকুট মাথায় পড়লেন তিনি। আলিবাবার কর্ণধার জ্যাক মাকে আগেই পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবার পেছনে ফেলে দিলেন মুকেশ আম্বানিকেও (Mukesh Ambani)।এশিয়ার ধনীতম ব্যাক্তি হওয়ার পাশাপাশি তিনি বিশ্বের ১১তম ধনী ব্যক্তি।

তিনি চীনের ব্যবসায়ী।স্থানীয়রা অবশ্য ‘লোন উলফ’ নামেই চেনেন তাকে।একসময় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেছেন তিনি, চাকরি করেছেন সেলসম্যান হয়েও।নিজের জীবনের একটা পর্যায় সাংবাদিক হিসেবেও কাটিয়েছেন তিনি।কিন্তু কোটিপতি পরিচিতি তাকে এনে দিক শুধুমাত্র মিনারেল ওয়াটার।কিন্তু এই স্থানে পৌঁছানোর জন্য নানান সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

তখন মাত্র ১২ বছর বয়স। ক্লাস সিক্সেই আর্থিক অভাবের জেরে স্কুল ছাড়তে হয় তাকে।পয়সার জন্য কখনও ঠিকাদারি করেছেন তো কখনও হয়েছেন সেলসম্যান। করেছেন সাংবাদিকতাও।১৯৯৬ সাল থেকে ‘নংফু স্প্রিং’ নামের একটি কোম্পানি খোলেন।

হাজারের বেশী ছোট ছোট দ্বীপের চারদিকে লেক নিয়ে যেন স্বপ্নের মতন এই কোম্পানি তার।২০০১ সাল থেকে বাজারে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নেয় এই কোম্পানি।মিনারেল ওয়াটার ও সফট ড্রিংকস তৈরি করতো এই কোম্পানি। বর্তমানে পুরো চিনে এই কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসা করছে।

শুধু তাই নয়, বেজিংয়ের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ওয়ান্টাই বায়োলজিক্যাল ফার্মাসির মালিকানা নিয়েছেন ঝং যার ফলে এক ধাক্কায় ১৫৫ শতাংশ বেড়ে গেছে নংফু স্প্রিংয়ের শেয়ার। বর্তমানে ঝং এর সম্পত্তি বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার।অর্থাৎ জলের বোতল এবং পাশাপাশি ভ্যাকসিন নির্মাতা কোম্পানি কিনে নিয়ে এখনই ঝং শানশানই সবার সেরা।