থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে কি করোনা ভাইরাস ধরা যায়?

পুরো বিশ্ব জুড়ে কোরোনা ভাইরাস আতঙ্কের জেরে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা মানুষদের এমনকি দেশের মধ্যেও নানান শপিং মলে বা হাসপাতালে মুখোমুখি হতে হচ্ছে থার্মাল স্ক্যানার এর। বিশেষত দেশের সব বিমান বন্দরে বা সমুদ্র বন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষদের এই স্ক্যানার পেরিয়ে আসতে হচ্ছে। সারস ও ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণের সময় থেকেই এই স্ক্যানারের ব্যাবহার শুরু করেছ বিভিন্ন দেশের সরকার।

কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণেও তাই সরকারের তরফ থেকে দেশের সমস্ত চেকপোস্টে এই স্ক্যানারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এই স্ক্যানিং এর মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়বে আর তার পরই মানুষকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। কিন্তু কতটা বিশ্বাসযোগ্য এই থার্মাল স্ক্রিনিং। হ্ন এর তরফ থেকেই বলা হয়েছে যে কোনো ব্যাক্তির উপসর্গ হলে তবেই থার্মাল স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে ধরা পড়বে তার সংক্রমণ কিন্তু সংক্রমণ ঘটেছে অথচ উপসর্গ নেই সেরকম মানুষদের সংক্রমণ ধরা পড়বে না এই স্ক্যানার এ।

বিশেষজ্ঞ দের মতে, এটি ভাইরাস সংক্রমণ নির্ণয়ের প্রাথমিক ধাপ। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ডের মধ্যে রোগীর রোগ ধরা পড়বে এই স্ক্যানারে র বিশেষ হিট ক্যামেরার মাধ্যমে।তবে রোগীর উপসর্গ দেখা না দিলে সেক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারবে।

থার্মাল স্ক্রিনিং কীভাবে কাজ করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাণীদের শরীরে যে তাপমাত্রার প্রতিফলন ঘটে সেটিই ধরা পরে এই স্ক্যানারে যেখানে লাগানো থাকে বিশেষ হিট সেন্সর লাগানো ক্যামেরা।এর ফলে শরীরের তাপমাত্রার হেরফের হলে তার প্রতিফলন ঘটে এই স্ক্যানারে। তাপমাত্রার হেরফের এর পরিমাণ ধরা পড়ে ২ডি ইমেজে কম্পিউটার স্ক্রিনে। কোনো সজীব বা জড় বস্তুর তাপমাত্রার হেরফের দেখা দিলে এই স্ক্রিনে একটি রঙের প্যালেট দেখা যাবে তার থেকেই ধরা পড়ে সংক্রমণ।

কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ এই স্ক্রিনিং এ ধরা পড়ার সম্ভাবনা কতটা?

এই স্ক্রিনিং এর ওপর সম্পূর্ণ নয় বরং আংশিক ভাবে ভরসা করা যায়। মোহালির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার)-এর ভাইরোলজিস্ট ড. ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এর মতে এই ভাইরাস সংক্রমণের ইনকিউবেশন পিরিওড হলো ২ থেকে ১৪ দিন সময়ের মধ্যে। এর মধ্যে রোগীর সংক্রমণকে ডিটেক্ট করতে পারবে এই থার্মাল স্ক্রিনিং।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাস নিয়ে সমস্ত প্রশ্ন ও তার উত্তর

কিন্তু অন্য দিকে রোগীর যদি কোনো রকমের উপসর্গ যেমন সর্দি কাশি জ্বর ইত্যাদি না থাকে সেক্ষেত্রে এই স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে ধরা পরবেনা সংক্রমণ। এই জন্যই শুধু মাত্র থার্মাল স্ক্রিনিং নয় বরং তারপর রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন।

বিমানবন্দরে এই স্ক্রিনিং এ ভাইরাস সংক্রমণের ধরা পড়বে নাকি তা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।এর মধ্যে থাকবে ট্রাভেলার সময়, স্ক্রিনিং এর ক্ষমতা, উপসর্গ কতটা আছে কারণ রোগীর মধ্যে উপসর্গ দেখা না দিলে স্ক্রিনিং এ সংক্রমণ ধরা পড়েনা।

আরও পড়ুন :- সর্দি জ্বর আর করোনা জ্বরের পার্থক্য, করোনা জ্বর হয়েছে বুঝবেন কীভাবে

এইজন্যই অনেক সময় এন্ট্রি স্ক্রিনিং এ কিছু ধরা পড়েনি এমন ব্যাক্তির পড়ে সংক্রমণ ও উপসর্গ ধরা পড়েছে। এছাড়া সংক্রমণ ঘটার সময় এবং ইনকিউবেশন পিরিয়ড খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইনকিউবেসন পিরিওড পেরিয়ে গেলে টা এক্সিট স্ক্রিনিং এ ধরা পড়েনা।