সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে নামলেন যে ৩ CBI অফিসার চিনে নিন তাদের

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুরহস্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। আত্মহ’ত্যা না প্ল্যান মা’র্ডার তা নিয়ে একের পর উঠে আসছে চা’ঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে বলিউডের স্বজন পোষণের কারণেই এই আত্মহ’ত্যা। একমাস পর তদন্তের মোড় ঘুড়ে যায় সুশান্ত সিং রাজপুতের পিতা সুশান্তের লিভ ইন সঙ্গি রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পাটনায় মামলা দায়ের করার পর।

মুম্বই পুলিশ ও মহারাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে খোদ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। দুই রাজ্যের পুলিশের যুযুধান লড়াইয়ের মাঝে সিবিআই তদন্তভার গ্ৰহণ করে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফআইআর দায়ের করে। এই এফআইআরে নাম রয়েছে রিয়া চক্রবর্তী সহ মোট ছয় জনের।

সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারের তরফে পাটনা পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতেই সিবিআই বৃহস্পতিবার এই এফআইআর দায়ের করে। মূল অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী, মা সন্ধ্যা চক্রবর্তী, ভাই সৌভিক চক্রবর্তী, অ্যাসোসিয়েট স্যামুয়েল মিরান্ডা এবং ম্যানেজার শ্রুতি মোদীর নামে।

চা’ঞ্চল্যকর এই মামলার দায়িত্ব সিবিআইয়ের যে বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে দেওয়া হয়েছে তারাই এই মুহূর্তে অগস্টাওয়েস্টল্যান্ড ও বিজয় মালিয়ার অর্থনৈতিক জালিয়াতি কান্ডের তদন্ত করছে। এই তদন্তকারী দল অ্যান্টি-কোরাপশন ৬ নামেও পরিচিত। এর নেতৃত্বে রয়েছে গুজরাত ক্যাডারের আইপিএস অফিসার মনোজ শশীধর।

বর্তমানে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরও তিনি। ২০১৬ সালে জুনে এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয় তৎকালীন সিবিআই স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে। গত চার বছর ধরে হাইপ্রোফাইল ওপরের উল্লেখিত দুটো মামলার তদন্ত করছে তাঁরা। অ্যান্টি-করোপশন ৬ এর হাতে চার বছর পর এই মামলার তদন্তভার গেল। যা খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

মনোজ শশীধরের সঙ্গে আইপিএস অফিসার গগনদীপ গম্ভীর (২০০৪ ব্যাচ) এবং এসপি নূপর প্রসাদ এই তদন্তকারী দলে অংশ নিচ্ছেন। এসএসপি গগনদীপ গম্ভীর বিহারের মজফফরপুরের বাসিন্দা। গত দেড় বছর ধরে সিবাআই অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের দায়িত্বে আছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই রহস্য সমাধান দিল্লি থেকে মুম্বই আসবেন মনোজ শশীধর, গগনদীপ গম্ভীর ও নূপর শর্মা।

ইতিমধ্যেই তথ্যে উঠে এসেছে সুশান্ত সিংয়ের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গেছে রিয়া ও তাঁর ভাই সৌভিক চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে। রিয়ার বাৎসরিক ইনকাম যেখেনে ১৪ লাখ সেখানে সদ্য মুম্বইয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন রিয়া। উঠে এসেছে সুশান্ত সিংয়ের ব্যক্তিগত ডায়েরির শেষ পৃষ্ঠা ছেড়ার মতো রহস্য। যা এতদিন মুম্বই পুলিশের হাতে আসেনি। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এক্ষেত্রে সিবিআইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইতিমধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিপারমেন্ট কথা বলেছে রিয়া চক্রবর্তী, শৌভিক চক্রবর্তী ও শ্রুতী মোদীর সঙ্গে। অর্থনৈতিক গরমিলের যে অভিযোগ তুলেছে সুশান্তের পরিবার তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও বিহার পুলিশের জুরিসডিকশন নিয়ে বিবাদ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এই মামলা বিহার পুলিশের সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী সপ্তাহে রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। শনিবারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সুশান্ত মামলার সমস্ত তথ্য আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিদিন তদন্তের মোড় নুতন দিকে ঘুরলেও রহস্যের কিনারা এখনোও অধরাই। তার মাঝেই সুশান্ত সিং রাজপুতের ন্যায় পাওয়ার দাবি দেশজুড়ে জোড়ালো হচ্ছে।