কোন রোগে আক্রান্ত সঞ্জয় দত্ত, এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

জীবনে অনেক অথাপড়া দেখার পর অবশেষে বেশ স্থিতি পেয়েছিল তার জীবন। কেরিয়ার এবং ব্যাক্তিগত জীবন, উভয়ই চলছিল বেশ সুন্দর। বয়সও বেশী নয়, সবে ৬১। এমন সময়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন সঞ্জয় দত্ত। হঠাৎ শ্বাসকষ্টের সমস্যায় কয়েকদিন আগে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

স্বাভাবিক ভাবেই কোরোনা সংক্রমন মনে করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু কোরোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। RT-PCR টেস্টের ফলও নেগেটিভ। আরও বেশ কিছু পরীক্ষার পরে জানা যায় লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত মুন্নাভাই! তার ফুসফুসের ক্যান্সার ইতিমধ্যেই তৃতীয় স্টেজে পৌঁছে গেছে।

নিজের এই অসুস্থতার খবর নিজেই ট্যুইট করে অনুরাগীদের জানান তিনি। তিনি লেখেন যে চিকিৎসার কারণে বেশ কিছু দিন কাজ থেকে বিরতি নিচ্ছেন তিনি। তিনি আরও জানান যে পরিবার এবং বন্ধুরা তার সাথে আছে এবং চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিজের অনুরাগীদের অহেতুক চিন্তা করতে এবং কোনও স্পেকুলেশনকেও গুরুত্ব দিতে মানা করেন তিনি। আশাবাদী ভাবে তিনি বলেন, শীঘ্রই দেখা হবে।

কী কী কারণে এই ক্যান্সার হয়?

সাধারণত অত্যধিক ধূমপান এর কারণে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে। প্যাসিভ স্মোকিং অর্থাৎ ধূমপান না করেও ধূমপানকরীর সংস্পর্শে থাকলে এটি হতে পারে। জেনেটিক কারণে, অর্থাৎ পরিবারের কারুর এই অসুখ থাকলে। অত্যধিক দূষিত অঞ্চলে বা ক্ষতিকারক ধোয়ার আশেপাশে বেশী সময় থাকলে। কোন ক্ষতিকারক মৌলের ( আর্সেনিক, অ্যাসবেস্টোস, ক্রোমিয়াম) সংস্পর্শে আসলে।

লাং ক্যান্সারের লক্ষণ কী কী?

এই ধরনের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। এটি মূলত নির্ভর করে ফুসফুসে তৈরি হওয়া টিউমারের আকৃতির ওপর। তাও, সাধারণ ভাবে যে লক্ষণ গুলি দেখা যায় সেগুলি হলো –

প্রচণ্ড কাশি, কিছু ক্ষেত্রে কাশির সাথে রক্ত উঠে আসা। বুকে চাপ ধরা ব্যাথা তীব্র শ্বাসকষ্ট গলার আসল স্বর পাল্টে যাওয়া বা বিকৃত হয়ে যাওয়া। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পাওয়া। তীব্র মাথার ব্যাথা। অবসাদগ্রস্ত মনে হওয়া ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ও ভারসাম্যহীনতা। শরীরের বিভিন্ন পেশীতে ও হারে ব্যাথা।

লাং ক্যান্সার কত প্রকারের হয়?

এটি মূলত দুই প্রকারের হয়। স্মল সেল লাং ক্যান্সার সাধারণত তাদের ক্ষেত্রে  দেখা যায় যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন। নন স্মল সেল লাং ক্যান্সার আবার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন  স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা ও লার্জ সেল কার্সিনোমা ইত্যাদি।

লাং ক্যান্সারের পর্যায়?

এই অসুখের সাধারণত ৫ টি স্টেজ থাকে। স্টেজ-০, স্টেজ-১, স্টেজ-২, স্টেজ-৩ ও স্টেজ-৪। খুব কম ক্ষেত্রেই এই অসুখ প্রথম পর্যায় ধরা পড়ে। সাধারণত সতেজ থ্রি তেই উপসর্গ বেশী পরিমাণে দেখা যায়। তেমনই হয়েছে সঞ্জয় দত্তের।

লাং ক্যান্সার কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

এই রোগ সাধারণত বায়োপসি, রক্ত পরীক্ষা এবং কফ পরীক্ষার মাধ্যমে বা এক্সরে এর মাধ্যমে নির্নয় করা যায়।

লাং ক্যান্সারের চিকিৎসা কীভাবে হয়?

এই রোগের চিকিৎসা এই রোগের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। কোন পর্যায় এই রোগ ধরা পড়ে তার ওপর। সাধারণত প্রথম পর্যায় চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেন যাতে সেই অসুখ অন্যান্য কোষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারেন। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর কেমোথেরাপি হয়। অস্ত্রপ্রচার এর পরিবর্তে রেডিও থেরাপি দেওয়া হয়। অনেকটা ছড়িয়ে পড়ার পর যদি ধরা পড়ে তবে কেমো থেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে।

কীভাবে এই রোগ ঠেকানো যায়?

একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় প্রতি বছর ভারতে যে সংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তার ৬.৯ শতাংশ মানুষ এই লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। দেশের শহুরে অঞ্চলে অর্থাৎ কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে অন্যান্য অঞ্চলের থেকে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশী। এই ক্যান্সার এড়ানোর প্রথম শর্ত ধূমপান ছাড়তে হবে। যতটা সম্ভব পলিউশন ধোয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে। দূষণ এড়িয়ে চলার জন্য মাস্ক ব্যাবহার করা যেতে পারে। আরও একটি বিষয় শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি।