জ্বর হলেই জানতে পারবে সরকার, নতুন অ্যাপ চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী

all-you-need-to-know-about-covid-19-medical-service-in-west-bengal

ভারতে ক্রমশই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রশাসন শক্ত হাতে লাগাম না ধরলে করোনা পরিস্থিতি সামলানো মুশকিল হবে তাই একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন সরকার। করোনার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি তাই প্রতিরোধের উপর ভিত্তি করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করছেন সরকার। এদিন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারগুলিকে আঁতুড়ঘর অর্থাৎ হটস্পট নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। তাই করোনা বিষয়ক সব তথ্য জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করলেন একটি বিশেষ অ্যাপ।

চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধ করতে নিয়মিত টেস্টে ভরসা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজ্যের সমস্ত জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো এলাকার একাধিক বাড়িতে করোনা সংক্রমনের হদিশ পাওয়া গেলে সেই এলাকাকে বাকি সমস্ত এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। সেইসব এলাকার মানুষদের কঠোর ভাবে লকডাউন মানতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারকে দ্বায়িত্ব নিয়ে সেইসব এলাকার মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় রসদের জোগান দিতে হবে। চিকিৎসকদের দাবি এইভাবে যদি করোনার আঁতুড়ঘর চিহ্নিত করা যায় তাহলে করোনা সংক্রমন রোখা যাবে।

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে হাওড়া ও দক্ষিন ২৪ পরগনাকে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু কোথায় সংক্রমন বেশি হচ্ছে তা জানতে হলে রাজ্যের সব জায়গার আপডেট পেতে হবে সরকারকে। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ‘সন্ধানে’ নামে একটি অ্যাপ নিয়ে এসেছেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্য সরকার করোনা সংক্রান্ত রাজ্যের সমস্ত জায়গার আপডেট পাবেন। আশা কর্মীরা প্রত্যেকটি এলাকার সমস্ত বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষা করবেন। জ্বর সর্দি কাশির লক্ষণ দেখতে পেলেই ‘সন্ধানে’ অ্যাপে সেই তথ্য তুলে ধরবেন আশা কর্মীরা। ডেটা সার্ভারের সাহায্যে এই তথ্য সরাসরি নবান্নে পৌঁছে যাবে। ফলে রাজ্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে মুখ্য়সচিব জানান, ”রাজ্য়ের কোন এলাকায় করোনার উপসর্গ বেশি রয়েছে, সেটা চিহ্নিত করতে সাহায্য় করবে এই অ্য়াপ। যেখানে সংক্রমণ বেশি, তা চিহ্নিত করা গেলে, সেখানে যাঁরা বাস করছেন, তাঁদের স্বাস্থ্য় পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া যাবে। কারও জ্বর হলে সেই তথ্য়ও চলে আসবে এই অ্য়াপে”।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাস কতদিন বেঁচে থাকে, গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এই ‘সন্ধানে’ অ্যাপটি মূলত আশা কর্মীরা ব্যবহার করবেন। অ্যাপটির মাধ্যমে করোনার গতিবিধি বুঝে তা নিয়ন্ত্রনে সুবিধা হবে। এই অ্যাপটি সমস্ত আশা কর্মীর স্মার্ট ফোনে ইন্সটল করা থাকবে। সমস্ত বাড়ি গিয়ে কর্মীরা পরীক্ষা করে সমস্ত তথ্য এই অ্যাপে জমা করলে সরকারের বুঝতে সুবিধা হবে যে কাকে আইসোলেশনে পাঠাতে হবে। কেন্দ্র সরকার আগেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে ‘আরোগ্য সেতু’ নামে একটি অ্যাপ এনেছেন। এবার সেই পথে হেঁটেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা মোকাবিলায় নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার।