পাননি ভালোবাসা, বারবার ভেঙেছে সংসার, হারিয়েছেন বাবাকেও, জীবনভর সংগ্রাম করেই জয়ী রচনা

ভালোবেসে শুধু কষ্টই পেলেন, পুরুষসঙ্গ ছাড়াই ছেলেকে নিয়ে একা জীবন কাটাচ্ছেন রচনা

DIDI NUMBER ONE

গোটা বাংলার মহিলাদের কাছে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ (Didi Number One) একজনই, তিনি হলেন রচনা ব্যানার্জি (Rachana Banerjee)। রচনা ব্যানার্জীর এই শো গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে মহিলাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। রচনা বারবার বাংলার দিদিদের একটা কথাই বলেন, ‘নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হতে হবে। বাংলার দিদিদের কিছু না কিছু করতেই হবে’। এহেন রচনার জীবনের অজানা কাহিনীটাও নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা যোগায়।

বলতে গেলে সিনেমার থেকে কিছু কম নয় রচনার জীবন। যে সিনেমার একক নায়িকা তিনি নিজেই। তার জন্ম হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। তার আসল নাম ঝুমঝুম। বাংলার ‘দান প্রতিদান’ ছবিতে ঝুমঝুম বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়ে ওঠেন রচনা। তারপর থেকে বাংলা এবং ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রি তাকে এই নামেই চেনে।

টলিউডে কিছুদিন কাজ করেই দক্ষিণে পাড়ি দেন নায়িকা। অমিতাভ বচ্চন থেকে চিরঞ্জীবী, দক্ষিণের এবং বলিউডের নামি দামি তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন তিনি। বাংলাতে প্রসেনজিতের সঙ্গেও ৩৫ টি ছবিতে তিনি কাজ করেন। তবে ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিতে সিদ্ধার্থ মহাপাত্রের সঙ্গে রচনার জুটি ছিল সবার সেরা।

শুধু অনস্ক্রিন নয়, সিদ্ধার্থের সঙ্গে রচনার প্রেমের সম্পর্ক গড়িয়েছিল অফস্ক্রিনেও। ২০০৪ সালে সিদ্ধার্থকে বিয়েও করেছিলেন রচনা। কিন্তু এক বছর গড়াতে না গড়াতেই সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর রচনা চলে আসেন কলকাতায়। দু বছরের মাথায় আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি।

ব্যবসায়ী প্রবাল বসুর সঙ্গে রচনার বিয়ে হয়েছিল ২০০৬ সালে। তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে, নাম তার প্রনীল। এই সন্তানই রচনার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। দ্বিতীয় বিয়েটাও সুখের হয়নি। শোনা যায় রচনা এবং তার স্বামী প্রবাল নাকি সেপারেশনে থাকেন।

কয়েক মাস আগেই জীবনে আরও বড় এক ধাক্কা পেয়েছেন রচনা। মৃত্যু হয়েছে তার বাবার। বাবা অন্ত প্রাণ ছিলেন রচনা। বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন নায়িকা। তবুও তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন। আবারও হাসিমুখে মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “নমস্কার! আমি রচনা ব্যানার্জি। আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই…”, প্রকৃত অর্থে তিনিই তো দিদি নাম্বার ওয়ান।