২ লক্ষ টাকা পাবে করোনায় মৃত ব্যক্তির পরিবার কেন্দ্রের এই বিমার আওতায়

183

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। এই সংকটময় মুহূর্তে অক্সিজেন সিলিন্ডার, জীবন দায়ী ওষুধপত্র, হাসপাতালের বেড জোগাড় করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবুও স্বস্তি নেই। সারা দিনরাত এক করে শেষ মুহূর্তে সবকিছু জোগাড় করতে পারলেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। স্বজন হারানোর হাহাকার শোনা যাচ্ছে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই।

বর্তমানে দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। কোনমতেই সংক্রমণের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের জীবনযাত্রা এক চরম ঝুঁকির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। করোনার এই ঢেউ মূলত আক্রমণ করছে প্রাপ্ত বয়স্ক, মধ্যবয়সী এবং প্রৌঢ়দের। বিশেষ করে প্রত্যেক পরিবারের আর্নিং (রোজগেরে) সদস্যদের। তাই তাদের কিছু হয়ে গেলে তাদের পরিবার চরম অর্থ সংকটের মুখে পড়তে পারে।

তবে এই বিপদের দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিমা প্রকল্প কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত রোগীর পরিবারের বিশেষ উপকারে আসতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় করোনায় মৃত রোগীর পরিবার ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা পেতে পারেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গৃহীত এই বিশেষ জীবন বিমা প্রকল্পের নাম “প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা” (Pradhan Mantri Jeevan Jyoti Bima Yojana)।

১৮-৫০ বছর বয়সি যে কোনো ব্যক্তিই কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। ৫০ বছর বয়সের কম কোনও ব্যক্তি বছরের যেকোনো সময়ে নিজের ব্যাংক থেকে এই বিমা কিনতে পারবেন। দুই মাস বা তিন মাসের মেয়াদে ছোট কিস্তিতেও এই যোজনার প্রীমিয়ামের টাকা দেওয়া যায়। করোনার কারণে কিংবা দুর্ঘটনায় বিমাকারীর মৃত্যু হলে বা আত্মহত্যা করলে তার পরিবার নিজের ব্যাংক থেকেই (যে ব্যাংক থেকে বিমা নিয়েছেন) বিমার টাকা ক্লেম করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে যিনি বিমা নিচ্ছেন এবং প্রীমিয়ামের টাকা দিচ্ছেন তার মৃত্যুর পর তার নমিনিকে বিমার টাকা দেওয়া হবে। সাধারনত এই ধরনের বিমা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিমাকারীর মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই বিমা ক্লেম করতে হয়। তবে মেডিকেল রিপোর্ট, ডেথ সার্টিফিকেট জোগাড় করতে করতে অনেকটা সময় লেগে যায়। সেক্ষেত্রেও কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে এই বিমা প্রকল্পে।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হারের জন্য দায়ী এই ৫টি কারণ

“প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা” (Pradhan Mantri Jeevan Jyoti Bima Yojana) গ্রাহকদের জন্য টাকা ক্লেম করার ব্যাপারে বিশেষ স্বস্তি দিয়েছে। যাবতীয় প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র জোগাড় করার জন্য উপযুক্ত সময় পাওয়া যাবে। তারপর বিমা ক্লেম করার এক মাসের মধ্যেই একাউন্টে পৌছে যাবে বিমার টাকা।

আরও পড়ুন : এই ৫টি কারণে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে জিতলেন শুভেন্দু অধিকারী