নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি দিয়ে রেকর্ড ভাঙ্গা এই জল্লাদকে চিনে নিন

সাড়ে পাঁচ বছর মামলা চলার পর ইনসাফ পেল নির্ভয়া। নির্ভয়া অর্থাৎ জ্যোতি সিং পান্ডের ধর্ষক ও খুনিদের আগামী ২২ শে জানুয়ারি সকাল সাতটায় ঝোলানো হবে ফাঁসিকাঠে। মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা, পবন কুমার গুপ্তা, ও অক্ষয় ঠাকুর কে উত্তরপ্রদেশর মেরঠ জেলে ফাঁসি দেওয়া হবে। তবে মেরঠ জেলে কোনো ফাঁসুড়ে না থাকায় মেরঠ জেল কতৃপক্ষ তিহার জেল কতৃপক্ষের কাছ থেকে ফাঁসুড়ে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, পবন জল্লাদ নামক ফাঁসুড়েকে তিহার জেল থেকে নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসি দিতে নিয়ে আসা হবে, যদিও পবন জল্লাদের দাবি, তিনি এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দেশ না পেলেও তিনি প্রস্তুত। একইওসাথে তাঁর দাবি নির্ভয়া কান্ডের দোষীরা সাজা পেলে, ধর্ষনের সাজা কি হতে পারে তার দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

Source

পবন জল্লাদ বংশগত ফাঁসুড়ে। তাঁর ঠাকুরদাও পেশায় জল্লাদ ছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীদের তিনিই ফাঁসি দিয়েছিলেন। এমনকি গীতা ও সঞ্জয় চোপড়া কিডনাপিং ও মার্ডার কেস কুখ্যাত বিল্লা ও রঙ্গার ফাঁসি দিয়েছিলেন পবন জল্লাদের ঠাকুরদা। এবার নির্ভয়া কান্ডের দোষীদের শাস্তি দিয়ে নয়া রেকর্ড করবেন পবন জল্লাদ।

বংশ পরম্পরায় বাপ-ঠাকুরদা সকলেই ছিলেন ফাঁসুড়ে। বাবা মামু জল্লাদ তাঁর জীবনে দু’জনকে ফাঁসিতে ঝোলালেও পবনের ঠাকুরদা ছিলেন নামকরা ফাঁসুড়ে। তবে নির্ভয়াকাণ্ডের দোষীদের ফাঁসি দিতে পারলে ঠাকুরদার রেকর্ড ভেঙে দেবেন পবন। তাঁর কথায়, “এটা আমাদের পারিবারিক পেশা। এদের ফাঁসিতে ঝোলাতে পারলে আমি গর্বিত হব। আমি প্রস্তুত।” চার পুরুষ ধরে ফাঁসুড়ে এই জল্লাদ পরিবার। ফাঁসি দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন পবনের বাবার ঠাকুরদা লক্ষ্মণ রাম।

১৬ ই ডিসেম্বর ২০১২,  সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ এর ফিজিওথেরাপি ইন্টার্ন জ্যোতি সিং পান্ডে। রাত সাড়ে নটায় উঠে বসেছিলেন একটি বেসরকারি বাসে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু অবীন্দ্র প্রতাপ পান্ডে। মুনিরকা থেকে ধরকাগামী বাসটি তার নির্ধারিত রুট ছেড়ে অন্য রুট দিয়ে যাওয়া শুরু করলে সন্দেহ হয় অবীন্দ্রের। সেই সময় বাসে থাকা ড্রাইভার ছাড়া বাকি সাত জন যাত্রীরা জ্যোতিকে উদ্দ্যেশ্য করে কুমন্তব্য করতে শুরু করলে প্রতিবাদ করে জ্যোতির বন্ধু অবীন্দ্র। এর পরের নির্মম ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ।

লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে চলন্ত বাস থেকে ছূড়ে ফেলে দেওয়া হয় অন্দ্রকে।জ্যোতিকে নিয়ে যাওয়া হয় বাসের পিছনের সিটে তারপর ড্রাইভারসহ সাতজন লাগাতার গনধর্ষন করে জ্যোতিকে। শুধু তাই নয় লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয় জ্যোতির যৌনাঙ্গে ছিঁড়ে বের করে আনে ইনটেস্টাইন।এর পর প্রতিবাদ বহু মিছিলের সাক্ষী দিল্লী থেকে কোলকাতার রাজপথ।দাবি ছিল একটাই কঠোর শাস্তি চাই নির্ভয়া কান্ডের দোষীদের। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একাধিক কোর্টে মামলা চলার পর শাস্তি পেল নির্ভয়ার ধর্ষক ও খুনিরা।

নির্ভয়ার দোষীদের সাজা ঘোষনার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন জেল কতৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই বিহারের বক্সার জেল থেকে এসে গিয়েছে ফাঁসির দড়ি। ফাঁসির দু তিন দিন আগেই নিয়ে আসা হবে জল্লাদ। ও বালির বস্তা দিয়ে দেওয়া হবে মহড়া। জেলের সুপার ও ডাক্তারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হবে ফাঁসির প্রক্রিয়া।