করোনাতঙ্কে চলছে অক্সিমিটার কেনার হিড়িক, অক্সিমিটার কি, অক্সিমিটারের কাজ কি

Oximeter

কোনও ব্যাক্তির শরীরে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমন ঘটলে সেক্ষেত্রে যেসব উপসর্গ গুলি দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। অনেকের ক্ষেত্রে আবার অজান্তেই শরীরে অক্সিজেন কমতে থাকছে যার ফলে হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ ভরসা করছে পালস অক্সিমিটারের ওপর, যাতে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে শুরু করলেই সেটা সময় থাকতে ধরা পরে।

বিভিন্ন চিকিৎসক সহ রাজ্য সরকারের আবেদন অল্প বা মৃদু উপসর্গ দেখা দিলে সেক্ষেত্রে হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে থেকে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা করার। নাহলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা গড়ে ওঠে অন্য দিকে অল্প উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে যাদের খুব বেশী প্রয়োজন তাদের জন্য বেড পাওয়া যাবেনা।এমন অবস্থায় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য পালস আক্সিমিটার কিনে রাখার ধুম পড়েছে।

অক্সিমিটার কি?

পালস অক্সিমিটার, হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্র। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। ব্যবহার করতেও নিতে হয় না বিশেষ প্রশিক্ষণ। অক্সিজেনের মাত্রা অক্সিমিটার ভেদে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ভেদে একই অক্সিমিটারে ফল ২ শতাংশ কম বা বেশি দেখাতে পারে, যা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।

অনলাইন সংস্থা ফ্লিপকার্ট এর মুখপাত্র জানিয়েছেন করোনা সংক্রমণ চলাকালীন সমযয়ে থার্মোমিটার এবং স্ক্যানারের চাহিদা বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। গত ছয় মাসে পালস অক্সিমিটারের চাহিদা ২৩ গুণ বেড়েছে তাদের প্ল্যাটফর্মে। শুধু তাই নয়, ২৬ গুন বৃদ্ধি পায় ইনফ্রারেড থার্মোমিটারের চাহিদা। একইরকম কথা জানিয়েছেন স্ন্যাপডিলের মুখপাত্র। তিনি বলেন আগে পালস অক্সিমিটারের কোনও চাহিদা ছিল না কিন্তু বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ এটা কিনছেন।

অক্সিমিটারের কাজ কি?

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষদের জন্য পালস অক্সিমিটার হতে পারে সাহায্যকারী একটি যন্ত্র। এতে কার হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কখন ভর্তি হতে হবে, কার অক্সিজেন থেরাপির দরকার এবং কাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউতে নিতে হবে কিংবা ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, তা সহজেই জানা যায় পরীক্ষার মাধ্যমে।

এছাড়া নানা কারণে বা অসুখে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে, হৃৎস্পন্দন খুব কম, বেশি বা অনিয়মিত হতে পারে। পালস অক্সিমিটার দিয়ে ঝটপট মেপে নেওয়া যেতে পারে হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা। সমস্যা বেশি মনে হলে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা কত?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন সুস্থ মানুষের ৯৬ থেকে ৯৮ শতাংশ অক্সিজেন ওঠানামা স্বাভাবিক। কিন্তু তা ৯০-এর নিচে নামলেই শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। মাথা, বুক ব্যথা ও হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে শরীরের অক্সিজেন কমে গেলে। সুস্থ থাকলে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫-এর নীচে গেলেও চিন্তার কারণ নেই। তবে করোনা বা অন্য কোনো রোগ থাকলে ৯৪ থেকে কমলেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অক্সিমিটারের ব্যবহার

রক্তে অক্সিজেন দুভাবে মেশে। প্রথমত হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে এবং লোহিত রক্তকণিকা এর সাহায্যে। পালস অক্সিমিটার দেখে হিমোগ্লোবিনে কতটা অক্সিজেন থাকে জানা সম্ভব। সুস্থ লোকের স্বাভাবিক অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৫-১০০ শতাংশ। তবে কোরোনা সংক্রমনের পাশাপাশি অনেকের দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক থেকেও শ্বাসকষ্ট হয়।

আরও পড়ুন : Online-এ বিনামূল্যে দেখান ডাক্তার, জেনে নিন পদ্ধতি

আক্সিমিটার থাকলে ব্যাক্তি নিজেই বুঝে নিতে পারবেন যে রোগীকে বাড়িতে রাখা যাবে নাকি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণ জ্বর হলে অক্সিজেন স্যাচুরেশন বিশেষ কমবেনা কিন্তু কোরোনা সংক্রমন হলে এটি কমে যাবে এবং সেটাই ধরা পড়বে পালস আক্সিমিটারে।

অক্সিমিটার রিডিং

করোনা সংক্রমন ব্যাক্তির শরীরে হিমোগ্লোবিনে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থার নাম হাইপক্সিয়া। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উপসর্গহীন রোগীদের দেহেও অক্সিজেন মাত্রা কমে যায় কিন্তু সেটা তারা বুঝতে পারেনা। তারপর আচমকা অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম গেলে তীব্র শাশকষ্ট শুরু হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম হ্যাপি হাইপক্সিয়া।

করোনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আশঙ্কার জন্যও এটি কেনার চাহিদা বেড়েছে যেটা একদিক থেকে ভালোই। ফলে সময় থাকতে সতর্কতা অবলম্বন এবং ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদর মতে যান্ত্রিক গোলযোগের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রে রিডিং ঠিক নাও দেখাতে পারে। এর গুণগত মন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে নামী এবং পরিচিত সংস্থার থেকেই এটা কেনা উচিত।

আরও পড়ুন : করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে ভুল করে চলে এলে কি করবেন

তবে অক্সিমিটার ব্যবহারের সময় বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। অনেকেই দাম বেশী হওয়ায় পাইকারি দরে বিক্রি চীনা আক্সিমিটার কিনছেন কিন্তু সেগুলোর গুণগত মানের বিষয় সংশয় তৈরি হচ্ছে।এক দোকানদার জানান চীনা এই অক্সিমিটার এর দাম কম হলেও বিক্রির পরে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা থাকেনা।