২.৫ লক্ষ মানুষের আয় বাড়াতে ৬ জেলায় শুরু হচ্ছে নতুন প্রকল্প

২.৫ লক্ষ মানুষের আয় বাড়াতে ৬ জেলায় শুরু হচ্ছে নতুন প্রকল্প

বিশ্বজুড়ে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে করোনা ভাইরাস। বিশ্বের পাশাপাশি এই সংকটের শিকার ভারত। এর প্রভাবে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এখনো পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে ফলে রাজ্যে মোট কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১৩৫ জনের, ৭২ জন মারা গেছেন কো-মর্বিডিটির কারণে। এখনো পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২৯০। এমত সংকটের আবহেই গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২.৫ লক্ষ মানুষের আয় বাড়াতে ‘মাটির সৃষ্টি’ নামে নতুন এক প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন।

রাজ্যের কৃষকদের উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রকল্প বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “৫০০০০ একর জমিতে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করছি। আড়াই লক্ষের বেশি মানুষ এতে উপকৃত হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রজেক্ট। নাম ‘মাটির সৃষ্টি’।”

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘দুরন্ত বৈপ্লবিক কর্মসূচি ঘোষণা করছি। জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের সঙ্গে বৈঠক করছি। ৫০০০০ একর জমি এতে আসবে। আড়াই লক্ষের বেশি মানুষ এতে উপকৃত হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রজেক্ট। নাম ‘মাটির সৃষ্টি’।’ শুধু তাই নয়, তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৬৫০০ একর জমিতে প্রাথমিক স্তরে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন :- মাথাপিছু ৬০০০ টাকা দেবে কেন্দ্র, সম্মাননিধি যোজনার আবেদন পদ্ধতি

মাটির সৃষ্টি প্রকল্প কি?

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করার নতুন প্রকল্প মাটির সৃষ্টি প্রকল্প হল, কৃষিকাজে অনুপোযোগী পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে উদ্যানপালন, মৎস্য চাষ, পশুপালনের মত বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করা। অনুর্বর জমির বিচারে মূলত রাজ্যের ৬ টি জেলার এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। যে ৬ টি জেলা হল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার একর উৎপাদন জমি এই প্রকল্পের আওতায় উৎপাদন উপযুক্ত হবে আর উপকৃত হবেন ২.৫ লক্ষ মানুষ।

কোন কোন জেলায় কাজ হবে?

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ‘বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান। অনেক জমি পড়ে রয়েছে। সরকারের ও কৃষকেরও। মাটি খুব রুক্ষ বলে কৃষকরা কিছু করতে পারেন না। আমরা প্ল্যান করেছি, এই মাটির সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ চাষ, পশু পালনের মতো কাজ চলবে। স্থানীয় চাষিদের দশ-কুড়ি একর ও সরকারি জমি নিয়ে মাইক্রো প্ল্যান তৈরি করা হবে, কো অপারেটিভ গড়া হবে, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগানো হবে। কোনও ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে না। ১০০ দিনের কাজে লাগানো হবে।’

আরও পড়ুন :- মাথাপিছু মিলবে ১০০০ টাকা, জেনে নিন ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পে আবেদন করার পদ্ধতি

আরও পড়ুন :-  রাজ্য সরকারের প্রতিটি প্রকল্পের খুঁটিনাটি

মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে কি কাজ হবে?

বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের ১০ থেকে ২০ একর টুকরো টুকরো জমি ঘিরে এই প্রকল্প শুরু হবে। এছাড়াও সরকারি পতিত জমিকেও এই প্রকল্পের আওতায় ফেলা হবে। প্রতি বছরের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এই প্রকল্প রূপায়ণ হবে কেবলমাত্র কৃষি সমবায় সমিতি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা। আর উৎপাদিত সামগ্রী কেনাবেচার কাজও করবে সমবায় সমিতিগুলি।

আরও পড়ুন :- ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পে মিলবে মাথাপিছু ১০০০ টাকা, কীভাবে আবেদন করবেন দেখুন

মাইক্রো লেভেল হর্টিকালচার , মাছচাষ, পশুপালন, জল সম্পদ দফতরের তত্বাবধানে কাজ রুপায়ন হবে। পতিত জমি সঙ্গে সরকারি খাস জমি একত্রিত করে সেই জমি মাটি সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজে লাগবে। ছোট ছোট সমবায় তৈরি হবে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নিয়ে। তাতে যুক্ত হবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।