RedZone ৩ ভাগ করে বিরাট ছাড় মমতার, লকডাউনেই খুলবে একাধিক দোকান

করোনা রুখতে সিল হচ্ছে একাধিক এলাকা, লকডাউন আর সিলের পার্থক্য কি

‘এখনই করোনাভাইরাস চলে যাবে বলে মনে হয় না।’ রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বৈঠক করার সময় এমন মন্তব্যই করলেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ‘লকডাউন চলবে কড়াকড়ি ভাবেই, তবে এর মাঝে চলবে কাজও।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের মন্তব্য থেকে এক প্রকার ধরেই নেওয়া হচ্ছে রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়তে চলেছে। পাশাপাশি লকডাউন বাড়লেও ছাড় মিলবে তাও পরিষ্কার। আর আগামী দিনে কিভাবে ছাড় দেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনার কথাও জানান এদিনের বৈঠকে।

নবান্নের বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন এটা অনেক দিন চলবে। আমাদের তিন মাসের পরিকল্পনা করতে হবে। রেড জোনের মধ্যে A, B ও C এই তিনটি ভাগ করা হবে।”

চলবে লকডাউন, খোলা থাকবে এইসব দোকান, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রেড জোনের মধ্যে A এলাকাভুক্ত জায়গাগুলিতে কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না। B জোন ভুক্ত এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মেনে বিশেষ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। আর যেসকল এলাকাগুলিকে C জোন ভুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হবে সেই সকল এলাকার বাইরে ব্যারিকেড দেওয়া হবে। এই C জোন ভুক্ত এলাকা কনটেইনমেন্ট জোনের থেকে আলাদা থাকবে। আর এই সমস্ত কার্যকলাপ দেখবে পুলিশ প্রশাসন। তিন দিনের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাশাপাশি তিনি এও জানান, ধীরে ধীরে রাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। প্রথম দফায় আগামীকাল থেকে ছাড় দেওয়া শুরু হবে। আর দ্বিতীয় দফায় ২১শে মে এরপর থেকে শুরু হবে ছাড় দেওয়া। যেখানে সংক্রামিতদের সংখ্যা বেশি সেখানে কোনও দোকান খুলবেই না। তবে রেড জোনের বাকি দুটি ভাগে কিছু দোকান খুলবে। ১৫ মে পুলিশ সব রিপাের্ট দেবে।

সোনার দোকান, বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকান, মোবাইল চার্জিংয়ের দোকান, রেস্তোরাঁ ছাড়া খাবারের দোকান (ছোট), সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মিক্সিং, এডিটিং, ডাবিং, ৫০% শ্রমিকদের নিয়ে বিড়ি শিল্প, ৫০% শ্রমিকদের নিয়ে চা বাগানে কাজ, গ্রিন জোনে ট্যাক্সি ও বাস, তাঁতের হাট ইত্যাদি খোলার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন এই সমস্ত বিষয়টি দেখবে জেলার পুলিশ প্রশাসন।

তবে দোকান খোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ছাড়ার কথা জানালেও মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানান, দোকান খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তবে কাজ করার ক্ষেত্রে সবসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়াও মেনে চলতে হবে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি। খাবারের দোকান খোলা হলেও খাবার কিনে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে।