খুনের আগে ৫ বার গান্ধীজিকে হত্যার চেষ্টা হয়, প্রতিবারেই ব্যর্থ ষড়যন্ত্রকারীরা

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (Mohandas Karamchand Gandhi), আপামর দেশবাসীর কাছে তিনি মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi)। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন বললে যার কথা স্মরণে চলে আসে সবার। সেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি, নাথুরাম গডসের (Nathuram Godse) গুলিতে নিহত হন। আজ তার মৃত্যু বার্ষিকী। আজকের দিনে তাকে স্মরণ করে জেনে নেওয়া যাক তার হত্যা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

নয়া দিল্লির বিড়লা হাউস। বর্তমানে এটি গান্ধী স্মৃতি নামে পরিচিত। এখানেই ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি, নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন মহাত্মা গান্ধী।জানা যায়,সেই সময় প্রার্থনা সভায় যাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। পথেই তাকে আটকান হিন্দু মহাসভার সদস্য নাথুরাম গডসে।তারপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে থেকে তিনবার গুলি করা হয় গান্ধীজিকে।যে বন্দুকটি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটি ছিল বেদের ১৯৩৪ সেমি অটোমেটিক পিস্তল।

রিপোর্ট থেকে জানা যায় তখন সময়টা ছিল ৫টা ১২ মিনিট।জানা যায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে বিড়লা হাউস ভেতরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।এটিও জানা যায় যে গুলিবিদ্ধ গান্ধীজীর শেষ শব্দ ছিল “হে রাম।”

অদ্ভুত বিস্ময়, মৃত্যুর দুদিন আগে গান্ধীজী বলেছিলেন “যদি আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন কোনও মানুষের গুলিতে মরতে হয়, তবে আমি তা হাসি মুখে করবো। ইশ্বর আমার মনে ও ঠোঁটে থাকবেন। যদি কিছু ঘটে, তোমরা একফোঁটাও চোখের জল ফেলবে না।”

এই ঘটনার পর নাথুরাম গডসে এবং নারায়ন আপতেকে গান্ধীজীর হত্যার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।অন্যদিকে গডসের ভাই গোপাল সহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে শোনা যায় এটি গান্ধী হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা ছিল না।এর আগেও পাঁচবার তাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়। যদিও ব্যর্থ হয় সবকটি।১৯৩৪ সালে বোম মেরে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৪৪ সালে দুবার ছড়ার আঘাতে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তার পর ধরা পড়েছিলেন গডসে। এরপর আবার ১৯৪৮ সালে তার আরও একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।