রথযাত্রা শেষ হলে জগন্নাথের রথের কী হয় জানেন কি

আজ রথযাত্রা। আজকের দিনে রথে চড়ে সুভদ্রা ও বলরামকে সঙ্গে নিয়ে মাসির বাড়ি রওনা দেবেন জগন্নাথ৷ জগন্নাথদেবের এই রথযাত্রা ঘিরে সাজো সাজো রব গোটা দেশে৷ রীতি অনুসারে রবিবার ভোর তিনটে থেকে পুরীতে শুরু হয়েছে বিশেষ পূজা-অর্চনা৷ পূজা শেষ হলে বিশেষ কাঠে তৈরি তিনটি সুসজ্জিত রথে একে একে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে বসিয়ে শুরু হবে পুরীর রথ যাত্রা৷

মোট ২০৮ কিলোগ্রাম ওজনের সোনার অলঙ্কারে সেজে মাসির বাড়ি রওনা হন তিন ভাই-বোন। পুরীর মহারাজা সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ঝাড় দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করেন। ঝাড়ু দেওয়ার পরই পুরীর মন্দির থেকে বাইরে আসেন জগন্নাথ। পুরির রথযাত্রার এইসব উপাচার পোড়া পিঠা নামে পরিচিত। শুধু জগন্নাথ নন, কেরলে বিশ্বনাথ-বিশালাক্ষী রূপী হরপার্বতীর, তামিলনাডুতে দেবী মারিআম্মানেরও রথযাত্রা হয়। শ্রীকৃষ্ণ মূর্তিরও রথাযাত্রা হয় কোনও কোনও স্থানে।

পুরীর রথ কিন্তু প্রতি বছর নতুন করে নির্মাণ করা হয়। অপরিবর্তিত থাকে রথের উচ্চতা-সহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্য। কারণ চাকার সংখ্যা থেকে নির্মাণে ব্যবহৃত কাঠের সংখ্যা, সবই বিশেষ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

মানব দেহ গঠিত ২০৬টি হাড় দিয়ে। পুরীর রথও নির্মিত হয় ২০৬ টিই কাঠ দিয়ে। সেই কাঠের কাঠামোয় প্রাণ দেন রথে অধিষ্ঠিত দেবতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝানো হয় মানব দেহও রথের মতোই কাঠামো মাত্র। অন্তরাত্মাই সেই রথের আসল চালক।

পুরীর রথের মোট ৪২ টি চাকা দেখা যায়। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা – প্রত্যেকের আলাদা আলাদা রথ রয়েছে। জগন্নাথের রথের নাম নন্দী ঘোষ বা কপিধ্বজ । বলরামের রথের নাম তালধ্বজ বা হলধ্বজ। আর সুভদ্রার রথ, দর্পদলন বা পদ্মধ্বজ।
পুরীর রথটি সম্পূর্ণই কাঠের তৈরি। ফাঁসি ও ধাউসা গাছের কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয় এই রথ।

কথিত আছে প্রতি বছর মহানদীর স্রোতে ভেসে আসে রথ নির্মাণের প্রয়োজনীয় কাঠ। পুরীর কাছে এক স্থানে সেই কাঠগুলি মহানদী থেকে তুলে ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয়। এরপর দসাপাল্লা নামে একটি স্থান থেকে একদল বিশেষ কাঠমিস্ত্রি এসে রথ নির্মাণ করে। দসাপাল্লা আগে একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। এখানকার কাঠের মিস্ত্রিরা অত্যন্ত দক্ষ। রথযাত্রার শুরুর সময় থেকেই দসাপাল্লার কাঠমিস্ত্রিরাই রথ নির্মাণ করেন। রথের ছাউনি তৈরি হয় কাপড় দিয়ে। এতে ১,২০০ মিটার কাপড় লাগে।

 

জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ৷ উচ্চতা ৪৫ফুট। রথের গায়ে থাকে হলুদ এবং সোনালি রং। এই রথে রয়েছে সাত ফুট ব্যাসের ১৬ টি চাকা। রথের চাকাগুলি ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয় ও ৬টি রিপুর প্রতীক৷জগন্নাথের রথের সারথির নাম মিতালি। ৮৩২ কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হয় এই রথ।

বলরামের রথের নাম তালধ্বজ৷ তালধ্বজের উচ্চতা ৪৪ ফুট৷ এই রথে ৬ ফুট ব্যাসের মোট ১৪ চাকা রয়েছে৷ ৭৬৩ কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হয় রথ৷ লাল ও সবুজ কাপড়ে সাজানো হয় তালধ্বজ৷

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন :- 

রথয়াত্রার অজানা তথ্য ও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অবাক করা কিছু বৈশিষ্ট্য

পুরীর জগন্নাথ মূর্তির হাত নেই কেন?

সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন৷ দর্পদলনের উচ্চতা ৪৩ ফুট৷ এই রথে মোট ১২ চাকা রয়েছে৷ লাল এবং কালো কাপড়ে সাজানো হয় রথ৷ দর্পদলনের সারথির নাম অর্জুন৷ দর্পদলনের মাথায় থাকা পতাকার নাম নদম্বিকা৷
জগন্নাথ একবার রথ থেকে নেমে গেলে আর সেই রথে ওঠেন না৷ ওই রথ ভেঙে, রথের কাঠ দিয়ে ভোগ রান্না করা হয়৷