পাকিস্তানের এই মন্দিরে নিয়মিত কালী পুজো করেন মুসলিমরা

হিন্দুদের কাছে কালী পুজোর মাহাত্ম্য অনেক।কিন্তু ইসলামে(Islam) মূর্তি পুজো নিষিদ্ধ।দুই ধর্মে বিশ্বাসের অনৈক্য ও বিবাদ যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।তবে মরুতীর্থ হিংলাজ(Hinglaj) পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে(Baluchistan) এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের নিদর্শন রূপে এখনও আছে।

মরুতীর্থ হিংলাজ সম্পর্কে বাঙালিকে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না।অবধূতের বিখ্যাত গ্রন্থ থেকে উত্তম কুমারের অভিনয় পর্যন্ত বাঙালির সাথে এই স্থানের নামটি জড়িয়ে আছে। তাও সংক্ষেপে বলা যায়, হিন্দু পুরাণ মতে ৫১ টি সতী পিঠের অন্যতম এই হিন্দুতীর্থ।

আগে অবিভক্ত ভারতের অংশ হলেও দেশভাগের পর বর্তমানে এটি অবস্থিত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মরুভূমিতে।এখনও হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেকার বিবাদের রেশমাত্র পড়েনি এই মন্দিরে।পাকিস্তানের মতন কট্টরপন্থী ইসলাম রাষ্ট্রে এই হিন্দুতীর্থ অবস্থিত হলেও স্থানীয় মুসলমানরা যুগের পর যুগ ধরে এই মন্দিরটিকে আগলে রেখেছেন।কিন্তু কেন কট্টরপন্থী ইসলামে বিশ্বাসী মানুষের মনের এত কাছে এই মন্দির? জেনে নেওয়া যাক।

অনেকেই হয়তো জানেন না, প্রতি বছর এপ্রিল মাস নাগাদ যখন হিংলাজ যাত্রার আয়োজন করা হয় তখন এই দুর্গম মরুভূমিকে পেরিয়ে দেবীর দর্শনের জন্য শুধু হিন্দুরাই নয় বরং বিপুল সংখ্যক মুসলমানরাও(Muslims) যাত্রা করেন। মুসলমানদের কাছেও এই হিংলাজ মন্দির এক পবিত্র তীর্থ।

তাদের কাছে হিংলাজ মাতার মন্দির বিখ্যাত ‘নানি মন্দির’ নামে।দেবী তাদের কাছে ‘বিবি নানি’ নামে আরাধ্যা।সাধারণত ‘নানি’ শব্দের অর্থ ‘দিদিমা’।তবে পুরাণ মতে এই শব্দের সাথে সম্পর্ক আছে কুষাণ(Kushan) মুদ্রার।এই কুষাণ মুদ্রায় ‘নানা’ নামের এক দেবতার রূপ আঁকা থাকতো। সুমেরীয়-ব্যাবিলনীয় দেবতা ইনান্না-ইসথারের সূত্র ধরে কুষাণ দের এই দেবতার রূপ কল্পিত হয়।

জানা যায়, কুষাণদের সাম্রাজ্যের কেন্দ্রভূমি ছিল পেশোয়ার।অর্থাৎ বালুচিস্থান অংশে এই সাম্রাজ্যের যথেষ্ট প্রভাব ছিল এবং মনে করা হয় এই নানা নামক দেবতা বেলুচিস্তান অঞ্চলের জনপ্রিয় কাল্ট হিসেবে বিরাজ করত।কুষাণ যুগ থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত এই পর্বে হিংলাজ তীর্থ পরিণত হয় শক্তিপীঠে এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে এই তীর্থ পবিত্র ‘নানি কা হজ’।