ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাড়ির চালক জেমস বন্ডের থেকে কোনো অংশে কম নন

ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান। তার আগমনের জন্য এলাহী ব্যবস্থা করেছেন ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান নরেন্দ্র মোদি। তার খাবারের মেনু থেকে তার থাকার এবং সফরের ব্যবস্থা, সবই রাজকীয় ব্যবস্থা। তবে এহেন বড় মাপের একজন মানুষের বিদেশ সফরে সুরক্ষার বিষয়টাও যে কিছু বিশেষ হবে তাই স্বাভাবিক। তার সুরক্ষার জন্য যিনি তার সাথে থাকবেন তিনি হলেন তার ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যাডিল্যাক ওয়ান এর চালক যিনি একই সাথে মারাত্বক পেশাদার, দক্ষ এবং বিপদজনক।এক কথায় তিনি ইংরেজি সিনেমার জেমস বন্ড থেকে কোনো অংশে কম নন।

তবে প্রথমই জানা দরকার ট্রাম্পের বিশেষ গাড়ি ক্যাডিল্যাক ওয়ানের কথা। এই গাড়ি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানের জন্যই। সাধারণ মানুষ এই গাড়ি কিনতে পারবেন না। যদি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য কোথাও সফরের জন্য যান সেক্ষেত্রে তিনি এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।

এই গাড়িটি বিশেষত ট্রাম্পের জন্যই তৈরি হয় এবং ট্রাম্পের সুরক্ষা তো অবশ্যই এছাড়াও ট্রাম্পের সবরকম সুযোগ সুবিধার দিকটাকেও নজরে রাখা হয়েছে এবং যেগুলি ট্রাম্প পছন্দ করেন সেগুলি রাখা হয়েছে। গাড়ির বডি তৈরি স্টিল, টাইটেনিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও সেরামিকস দিয়ে। বুলেট প্রুফ এই এই লিমুজিনটিকে সাঁজোয়া গাড়ি বললেও কম বলা হয়। পাঁচ ইঞ্চি মোটা ধাতুনির্মিত এই গাড়ির শরীরও প্রচণ্ড শক্ত। ২০১৮ সালে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই গাড়ির জানালাতে কাচ ও পলিকার্বনেটর পাঁচটি স্তর রয়েছে।

গাড়ির কোনো জনালাই খোলা যায় না কেবল চালকের পাশের জানালাটি ছাড়া। তবে সেটিও কেবল ৩ ইঞ্চি নিচে নামানো যাবে তার বেশি নয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভেদ করে যাওয়া গুলিও ভাঙতে পারবে না এই জানলার কাঁচ।

এই গাড়ির উপর কেউ হামলা করলে সেটা আটকানোর ক্ষমতা এই গাড়ির রয়েছে। হামলা করলেও তা প্রতিহত করার জন্য গাড়ির মধ্যেই রয়েছে পাম্প অ্যাকশন শটগানস, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও কাঁদান গ্যাসের গ্রেনেড লঞ্চার। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্লাড ব্যাগ ও অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ও থাকছে। পেন্টাগনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য গাড়িতে রয়েছে স্যাটেলাইট ফোনও।

বিস্ফোরকরোধী ফোম দিয়ে তৈরি জ্বালানি ট্যাংকের জন্য বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও নেই। স্টিল রিমের টায়ার থাকার জন্য তা ফেটে গেলেও চালকের গাড়ি চালাতে কোনও অসুবিধা হবে না। গাড়ির পুরো শরীরটা স্টিল দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে বোমা এবং মাইন বিস্ফোরণেও কোনও ক্ষতি হবে না।

আরও পড়ুন :- মোদীর নিরাপত্তা কেমন? দায়িত্বে কারা? কতটা শক্তিশালী তারা?

অত্যাধুনিক সেন্সার লাগানো থাকার কারণে যে কোনও হামলার আগে গাড়ির চালকের কাছে সিগন্যাল পৌঁছে যাবে। এছাড়াও গাড়িতে উপস্থিত ওয়াচ টাওয়ারের অ্যান্টেনার মাধ্যমে রাস্তায় থাকা যেকোনও ডিভাইসকে জ্যাম করা যেতে পারে। এমনকি চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়িকে শনাক্ত করতে সক্ষম এই গাড়ি।

এবার যে প্রশ্নটা মাথায় আসে যে এই অসাধারণ গাড়ি, যা করে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী মানুষ চলাচল করে সেই গাড়ির বাহক কে? এই গাড়ির চালক ও যে কেউ হতে পারবে না। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত গাড়ির চালক বানানো হয়।

আরও পড়ুন :- Z+, Z, Y, ও X ক্যাটাগরির নিরাপত্তা কারা পায়? কখন পায়?

তিনি একজন অত্যাধুনিক আর্মি ট্রেইনিং প্রাপ্ত একজন ড্রাইভার যিনি জেমস বন্ডের থেকে কোনো অংশে কম নন।তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস থেকে বিশেষ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত।তিনি শুধু গাড়ি চালানোই নয় বরং রাষ্ট্রপ্রধানকে সুরক্ষা দিতেও সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজনে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে গাড়ি ঘুরিয়ে চালাতে পারেন। গাড়ির চালক ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে একটি কাচের দেওয়াল আছে। সুইচের সাহায্যে তা ব্যবহার করা যায়।