সংকটের মাঝেই স্বস্তির খবর, করোনামুক্ত বিশ্বের ৭টি দেশ

বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দমবন্ধ হয়ে উঠেছে আমজনতা। স্বস্তি নেই কোথাও, নিশ্চিন্তে বাড়ি থেকে বের হওয়া, কাজ করা, ঘোরাফেরা করা সব ক্ষেত্রে এই খুদে ভাইরাস আশঙ্কা ছড়িয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বেরোলেও আতঙ্ক থাকছে সংক্রামিত হওয়ার। তাই এখন সবার মধ্যেই একটা প্রশ্ন, কবে মুক্তি মিলবে এই খুদে ভাইরাস থেকে। এখনো পর্যন্ত যেহেতু কোনরকম ওষুধ অথবা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হয়নি তাই এই ভাইরাসের থেকে মুক্তি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ রয়েছে যারা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে সফলতা অর্জন করেছে। স্বস্তি এবং আত্মবিশ্বাস যোগানোর মতো এমন ৭টি দেশের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেসব দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরও আজ তারা এক প্রকার করোনা মুক্ত। এই সকল দেশগুলি হল নিউজিল্যান্ড, এশিয়ার পূর্ব তিমুর, ফিজি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, হলি সি, পাপুয়া নিউ গিনি ও ইউরোপের মন্টিনিগ্রো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী এই সকল দেশগুলিতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে নতুন করে আর কোন রোগীর খোঁজ মেলেনি মে মাসের ২২ তারিখের পর থেকে।

 

নিউজিল্যান্ড :- ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মোট সংক্রমণের সংখ্যা পৌঁছায় ১১৫৪। এই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ২২। ২২শে মে’র পর থেকে আর কোন নতুন করোনা পজেটিভ ধরা পড়েনি।

এশিয়ার পূর্ব তিমুর :- এখানে প্রথম সংক্রমণ ছড়াই ২০ মার্চ। মোট করোনা পজিটিভের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪। এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকেই এই দেশে আর কোনো করোনা পজেটিভের খোঁজ মেলেনি।

সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস :- মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে এখানে সংক্রমণ শুরু হয়। মোট সংখ্যা হয় ১৫। এপ্রিল মাসের মধ্য থেকে আর কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

হলি সি :- এখানে মার্চ মাসের ৬ তারিখ থেকে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১২। এরপর মে মাসের প্রথম দিক থেকেই আর কোন নতুন পজেটিভের খোঁজ মেলেনি।

ফিজি :- ১৯শে মার্চ থেকে এই দেশে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মোট সংক্রমনের সংখ্যা পৌঁছায় ১৮। তারপর এখানেই শেষ। এপ্রিল মাসের মধ্য থেকে আর কোন নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

পাপুয়া নিউ গিনি :- মার্চ মাসের ২০ তারিখ থেকে এখানে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মোট সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৮। এপ্রিল মাসের শেষ থেকে আর কোন সংক্রমনের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউরোপের মন্টিনিগ্রো :- এখানে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে জুন মাসের ৮ তারিখ থেকে। মোট সংক্রমনের সংখ্যা পৌঁছায় ৩২৪। মৃতের সংখ্যা ৯। মে মাসের ১০ তারিখ থেকে এখানে আর কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

তবে এই সকল দেশ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে সফলতা মিললেও এখনই অতিউৎসাহী হতে নিষেধ করা হয়েছে সেখানকার প্রশাসনের তরফ থেকে। কারণ এমনও উদাহরণ রয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে দীর্ঘদিন সংক্রমণ রুখে দেওয়ার পরও নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ রয়েছে দুটি দেশ। একটি হলো আফ্রিকার ইরিত্রিয়া ও অন্যটি স্লোভেনিয়া।

আফ্রিকার ইরিত্রিয়া :- এখানেই প্রথম করোনা সংক্রমণ ছড়ায় মার্চ মাসের ২১ তারিখ। তারপর মোট সংক্রমণ দাঁড়াই ৪০। এরপর এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখ থেকে জুন মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত টানা দীর্ঘদিন কোনরকম সংক্রমণ ধরা না পড়লেও হঠাৎ করে জুন মাসের ৬ তারিখের নতুন একজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। মোট সংক্রমণের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৪১-এ।

স্লোভেনিয়া :- মার্চ মাসের ৪ তারিখে এই দেশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর তারা সংক্রমণ ঠেকাতে সম্ভব হয়। ১৫ই মে নিজেদের দেশকে করোনা মুক্ত দেশ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু এর পরেও এই দেশে অল্পবিস্তর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশের মোট করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা ১৪৮৫।