‘ল্যান্ডার বিক্রম’ কি সোনায় মোড়া? কত কোটি টাকা খরচ হল ‘চন্দ্রযান ৩’ অভিযানে?

রাশিয়ার ‘ব্যর্থ’ লুনা অভিযানে খরচ ১৬০০ কোটি টাকা! ভারতের চন্দ্র অভিযানে কত খরচ হল জানেন?

Chandrayaan-3 Landing : চাঁদের মাটিতে বহু বছর আগে মানুষের পা পড়লেও দুর্গম দক্ষিণ মেরু জয়ের সাহস কার্যত এযাবৎ দেখাতে পারেনি কেউ। আমেরিকার নাসা থেকে শুরু করে রাশিয়া যেখানে ব্যর্থ, সেখানে অসাধ্য সাধন করে গোটা বিশ্বের নজরে নতুন এক রেকর্ড তৈরি করলো ভারত (India)। গত ২৩শে আগস্ট, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাগার ইসরো (ISRO) দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু সফলতা নয়, কম খরচের মধ্যে সফল ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan-3) অভিযানের নজির গড়েছে ভারত।

২০১১ সালে আমেরিকার গবেষণা কেন্দ্র নাসা মঙ্গল গ্রহে কিউরিওসিটির রোভার পাঠানোর জন্য ২৫০ কোটি ডলার অর্থাৎ ২০৬৩৭ কোটি টাকা খরচ করে। এর ২ বছর পর ভারত ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করে মঙ্গলযান পাঠায় মঙ্গল গ্রহে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাশিয়া লুনা ২৫ চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুর মাটিতে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে। এই অভিযানে খরচ হয়েছে ১৬০০ কোটি টাকা। ভারতের সফল ‘চন্দ্রযান ৩’ অভিযানে আসলে কত খরচ হয়েছিল জানেন?

Chandrayaan-3 Landing

Chandrayaan-3 Moon Landing Budget 

উল্লেখ্য, গত বাজেটে সরকারের তরফ থেকে মহাকাশ গবেষণার জন্য বরাদ্দ আগের তুলনায় ৮% কমিয়ে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। রাশিয়া, আমেরিকা যেখানে মহাকাশ গবেষণার পেছনে অঢেল খরচ করছে সেখানে ইসরোর বিজ্ঞানীরা এই ‘অভাবের সংসারেও’ যে অসাধ্য সাধন করেছেন তা কুর্নিশযোগ্য। যে পরিসংখ্যান সামনে আসছে তাতে জানা গিয়েছে এই গোটা অভিযানে খরচ হয়েছে মাত্র ৬১৫ কোটি টাকা।

এই ৬১৫ কোটি টাকার মধ্যে রোভার এবং প্রপালশন মডিউল বানাতে ২৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর উৎক্ষেপণের জন্য ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চন্দ্রযানের ছবি দেখে সোনালী আস্তরণে মোড়া ল্যান্ডার বিক্রমকে দেখে কৌতুহলী হয়েছেন সকলে। এটি আসলে সোনালী স্তরে মোড়া মাল্টিলেয়ার ইন্সুলেশন। অ্যালুমিনিয়াম এবং পলিমাইডের পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি এটি। এর ভেতরের অংশ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি।

Chandrayaan-3 Landing

Chandrayaan-3 Lander Vikram

এই মাল্টিলেয়ার ইন্সুলেশন ল্যান্ডারের ভেতরের সমস্ত সরঞ্জামকে বাইরের অস্বাভাবিক তাপমাত্রার হাত থেকে রক্ষা করবে। এই মুহূর্তে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে তাপমাত্রা -230° সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রাতেও যাতে চন্দ্রযান ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, ছবি এবং বার্তা পাঠাতে সফল হয় তার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন চাঁদকে নিয়ে গোটা দেশের বিজ্ঞানীদের এত মাথাব্যথা? ‘চন্দ্রযান ৩’ ঠিক কোন কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েছে চাঁদে?

Chandrayaan-3 Landing

আরও পড়ুন : IAS ইন্টারভিউ প্রশ্ন : ভারতের কোন রাজ্যে একটিমাত্র রেল স্টেশন আছে?

আসলে পৃথিবীর মানুষ ৫০ বছর আগে চাঁদে পৌঁছে গেলেও এর অনেক রহস্য এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে। চাঁদে প্রাণের সঞ্চারের সম্ভাবনা কতটা? আদেও কি সেখানে ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের পরিবেশ গড়ে উঠতে পারবে? উল্লেখ্য, এর আগে চাঁদে জল থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিল আমেরিকার নাসা। ভারতই প্রথম প্রমাণ করে চাঁদে জল রয়েছে। রাশিয়া-আমেরিকার মত বড় বড় দেশের বিজ্ঞানীরা চাঁদ সম্পর্কে যে যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যর্থ হয়েছেন, ভারত তার উত্তর খুঁজে পায় কিনা সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন : ‘INDIA’-র পুরো নাম কী জানেন? উত্তর জানা থাকলে আপনি জিনিয়াস