ভারতের এক রহস্যময় মন্দির যেখানে পুজো হয় “বুলেট বাবা”র

ছোট পাথর থেকে কীভাবে শিবলিঙ্গের জন্ম হয়, সেকথা লিখে গেছেন শিবরাম চক্রবর্তী। কিন্তু মোটরবাইকও যে এই দেশে দেবতা হয়ে উঠতে পারে তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি কৌতুকসম্রাট।
এমন দেবতার দর্শন মেলে রাজস্থানের ছোটিলা গ্রামে। এখানেই আছে একটি ছোট্ট মন্দির। এই মন্দিরেই দেবতা হলেন রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০সিসি-র একটি বুলেট। মন্দিরের নাম – বুলেট বাবার সিরনি।

সিমেন্টের বেদীর ওপর কাচের বাক্স। তার ভেতরে রাখা এই বুলেট। বাইকের হ্যান্ডেলে একরাশ গাঁদার মালা। হেডলাইটে লাল তিলক। সামনের মাডগার্ডে সস্তিকা চিহ্ন এঁকে লেখা ‘ওম’। পাশে ওম বান্নার ছবি। এই বুলেটের বাইক তিনি। তাই লোকে বলে, ওম বান্নার মন্দির।

এই বাইকটিরই নিত্য পুজো হয় মন্দিরে। ভক্ত জন ভিড় করে এসে ভক্তিতে মাথা নোয়ান বুলেট বাইকের সামনে। প্রণামীও দিয়ে যান অনেকে। সেজন্য বাক্সও রাখা আছে একটা। আছে ধূপ জ্বালানোর পাত্র। প্রসাদী মিষ্টিও বিতরণ করা হয় ভক্তদের।

কীভাবে এই বাইক হয়ে উঠল দেবতা আর সেখানে গড়ে উঠল মন্দির? তার জন্য যেতে হবে কয়েক বছর পেছনে। ১৯৮৮ সালে এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ওম সিং বান্না নামে এক ব্যক্তির। ওম বান্না বিয়ের পরে পরেই এই বুলেটটি কেনেন। গ্রামবাসীদের কথায়, স্ত্রীর মতোই নিজের বাহনটিকে ভালবাসতেন বান্না। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর পালি থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাইকের চাকা স্কিড করে একটি গাছে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওম সিংহ বান্নার।

পুলিশ বান্নার দেহ এবং বাইক নিয়ে যায় পুলিশ স্টেশনে। কিন্তু পরের দিনই দেখা যায় পুলিশ স্টেশনে বাইকটি নেই। অনেক খুঁজে সেটিকে পাওয়া যায় দুর্ঘটনাস্থলে। পুলিশ ফের নিয়ে যায় বাইকটি। কিন্তু ফের সেটি উধাও হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর বাইকটি সেই দুর্ঘটনা স্থানেই পাওয়া যায়।  বারবার ঘটতে থাকে একই ঘটনা। বাইকটি চেন দিয়ে বেঁধে রেখে, তেলের ট্যাঙ্ক খালি করে দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তারপর থেকেই এই দূর্ঘটনাস্থলে মন্দির বানিয়ে বুলেট বাইকটিকে দেবতাজ্ঞানে পুজো করা শুরু।