প্রতিদিন দুপুর ১টায় গভীর সমুদ্রের মাঝে এই মন্দিরে জেগে ওঠেন মহাদেব

2671

অতুল্য ভারতে কত কিছু না আশ্চর্যের রয়েছে। যা হয়তো গোটা বিশ্বের কোথাও নেই। কিন্তু সেই সমস্ত আশ্চর্যের ঘটনা বোধহয় অনেকেরই অজানা।  তেমনই হয়তো আশ্চর্য সব জায়গায় হিন্দু মন্দিরের উত্পত্তির কথা শুনেছেন। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে ডুবে থাক মন্দিরের কথা কখনও শুনেছেন? বোধ হয় শোনেননি এটি একটি শিবের মন্দির। গুজরাত থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের মধ্যেই রয়েছে ভগবান শিবের এই মন্দিরটি।

এটি একটি শিবের মন্দির। স্থানীয়ভাবে এই মন্দিরটি নিশকলঙ্গেশ্বর মন্দির নামেই বেশি বিখ্যাত। লোকমুখে কথিত যে এই মন্দিরে শিবের কাছে নাকি যা চাওয়া যায় তাই নাকি সত্যি হয়। ফলে ফলের আশায় ভিড় বাড়ছে বাবার দরবারে।

মন্দিরটির চারপাশ শুধু সমুদ্র আর সমুদ্র! এর ঠিক মাঝখানে একটুখানি জমির উপর তৈরি হয়েছে এই মন্দির। কিন্তু সমুদ্রের মাঝখানে হওয়া পূর্ণাথীরা সবসময় এই মন্দিরে চাইলেই যেতে পারেন না। ভগবান শিবের দর্শন করতে হলে দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে আসতে হয়। কারণ, অন্য সময় জলের তলায় থাকে এই মন্দিরের প্রবেশ পথ। কোনও এক আশ্চর্য কারণে বেলা ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রবেশ পথে সমুদ্রের জল আসে না।

তখনই দর্শনার্থীরা সেই মন্দিরে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করতে পারেন। ভগবান শিবের পুজো দিতে পারেন। জোয়ারের সময় মন্দিরটি জলের তলায় চলে যায়। শুধুমাত্র মন্দিরের ২০ ফুট লম্বা পাথরের তৈরি থামটির উপরের অংশ ও মন্দিরের ধ্বজাটি দেখা যায়। আবার দুপুর ১টার পর মন্দিরের উপর থেকে জল নামতে শুরু করে। দর্শনার্থীরা একে একে আসতে শুরু করেন।

এই মন্দিরকে ঘিরে লোকমুখে অনেক ইতিহাস রয়েছে। যেমন কেই বলেন বাবা নাকি খালি হাতে কাউকে ফেরান না। আবার কেউ বলেন বাবার দেখা পাওয়া নাকি সৌভাগ্যের ব্যাপার। যাই হোক লোকমুখে প্রচারিত এই মন্দির নাকি পান্ডবদের সময়ে তৈরি হয়েছিল। যদিও এনিয়ে অনেক ভিন্নমতও আছে।

লোক মুখে শোনা যায়, ভগবান কার্তিক নাকি এই মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারকাসুরকে হত্যাকরার পর ভগবান কার্তিকের মনে নাকি অনুশোচনা জন্ম নেয়। আর নিজের অনুশোচনা দূর করতে তিনি বেছে নেন পিতা শিবের আরাধনার পথ। তারপরই তিনি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই মন্দিরটির বিশেষত্ব হল, কেবল ভাটার সময়ই মন্দিরের শিব লিঙ্গটির দেখা মেলে। জোয়ারের সময় তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই এই মন্দিরটিকে বলা হয় “মহাদেবের অদৃশ্যমন্দির”

এই মন্দির দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে গুজরাতে। গুজরাতের ভাবনগর জেলায় আরব সাগরের তীরে কোলিয়ক গ্রাম। এখানেই সমুদ্রের ভেতরে ১.৫ কিলোমিটার গেলে তবে দেখা পাওয়া যায় এই মন্দিরের। অদ্ভ‌ুত এই শিব মন্দিরের নাম নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির। সমুদ্রে ভাটার সময় শিবলিঙ্গের দেখা পাওয়া গেলেও জোয়ারের সময় জলের নীচে থাকে নিজে থেকে এখানে সৃষ্টি হওয়া শিবলিঙ্গগুলি।

Read More : কীভাবে শুরু হয়েছিল শিবরাত্রি ব্রত? জেনে নিন পুরো কাহিনী

কথিত আছে মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে কৌরব ও অন্যান্যদের হত্যা করার পাপ ধুতে এখানেই পুজো দেন পঞ্চপাণ্ডব। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় এখানে পুজো দিতে মবু মানুষের আগমন হয়। অনেকেই মৃত আত্মীয়ের অস্থি বিসর্জন করেন এখানে। তবে এই মন্দিরের দেখা সব সময় পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ভাটার সময় মন্দিরে পুজো দেওয়া সম্ভব হয়।