পাকিস্তানের প্যান্ট ভেজাচ্ছে ভারতের এই মিসাইল! জেনে নিন এর ক্ষমতা

85

আরও শক্তিশালী হল ভারতীয় সেনা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশকে স্বাবলম্বী করতে আরও একধাপ এগোল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। এবার সেনার হাতে আসতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অ্যান্টি-রেডিয়েশন’ মিসাইল।সীমান্তে পাক বর্বরতার জবাব দিতেই ভারত হাতে এখন এক নতুন মিসাইল। আর এতেই প্যান্ট ভিজে গেছে পাকিস্তানের।  চলতি মাসেই সুখোই যুদ্ধবিমান থেকে সফলভাবে ছোঁড়া হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি।

লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে তা নিমেষে উড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। সেনার গাড়ি, সেনা ঘাঁটি নিমেষে এই মিসাইল উড়িয়ে দিতে সক্ষম। এই সিস্টেমের দ্বারাই গাজাতে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল বহু ইজরায়েলি কমব্যাট ফোর্সের বহুসেনার৷ এমনকি সিরিয়ায় যুদ্ধ ক্ষেত্রেও এই ব্যাটেল ট্যাঙ্ক দ্বারাই লড়াই চালিয়েছিল রাশিয়ান সেনা বাহিনী৷

চিন ও পাকিস্তানকে নজরে রেখেই ভারতীয় সেনার আধুনিকীকরণে দ্রুত পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ হাজার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ‘মিলান 2T ’ কেনার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সম্প্রতি এই নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনার কমপক্ষে ৭ হাজার অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল প্রয়োজন। থার্ড জেনারেশনের অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল সেনার হাতে আসার আগে আপাতত ‘মিলান 2T’ দিয়ে কাজ চালানো হবে। এছাড়াও একাধিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। সব মিলিয়ে আরও ঘাতক হয়ে উঠছে ভারতীয় সেনা।  কী এই অ্যান্টি ট্যাঙ্কার গাইডেড মিসাইল? জেনে নিন একনজরে।

এতদিন গুলি ও অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল হামলা থেকে রক্ষার জন্য বর্মকেই ব্যবহার করত সেনার ট্যাঙ্কগুলি৷ ফলে রক্ষা পেত ট্যাঙ্কের মধ্যে থাকা বাহিনীর সদস্যদের৷ তবে এই মিসাইল কাজ করবে ব়্যাডারের মাধ্যমে৷ কোনও  গুলি ও অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ওই ট্যাঙ্কের দিকে ধেঁয়ে এলেই ট্যাঙ্কের গায়ে লাগান ব়্যাডারে ধরা পরবে তা৷ ফলে ট্যাঙ্ক থেকে ৫০ মিটার দূরেই সেই গুলি বা মিসাইলকে ধ্বংস করতে পারবে ট্যাঙ্কটি৷

১৯৫৫ সালে ফরাসি সেনায় এর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। এবং মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনা এর প্রথম ব্যবহার করে। মিসাইলের বিবর্তন প্রথম প্রজন্মের তৈরি গাইডেড মিসাইলে একজন অপারেটর জয়-স্টিক দিয়ে তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ছোট লক্ষ্যবস্তুকে গুড়িয়ে দিতেই এই অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল বেশি ব্যবহার করা হয়।

সব সেনাবাহিনীতেই বিশেষ দল অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল কাঁধে রেখে ছোঁড়া যায়। ট্রাইপডের উপরে রেখে লক্ষ্যবস্তুকে সহজেই এটি নিশানা করতে পারে। প্রতিটি সেনাবাহিনীতে একটি বিশেষ দল থাকে যারা এই গাইডেড মিসাইলের দায়িত্বে থাকে। এই সেনারাই মিসাইলকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া, বিস্ফোরণ ঘটানোর দায়িত্বে থাকে। ছোট ও পোর্টেবল হয়েছে মিসাইল বর্তমানে অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের আকার অনেক ছোট হয়ে এসেছে। তবে শক্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন এতটাই ছোট ও হালকা হয়ে গিয়েছে এই ক্ষেপনাস্ত্র যে একজন সেনা জওয়ানও একে বহন করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন ঃ বিশ্বের ১০ পরমাণু শক্তিধর দেশ 

লক্ষ্যবস্তুর ক্ষতি কম হয় এই মিসাইসগুলি ছোট ও মাঝারি ট্যাঙ্কার, সেনা ছাউনি উড়িয়ে দিতে সক্ষম। তবে যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত বড় ট্যাঙ্কারের বিশেষ ক্ষতি করতে পারেন না ছোট অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। জার্মানির হাতে প্রথম তৈরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে জার্মানি এই অ্যান্ট ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল তৈরি করে। তবে সেসময়ে এর বেশি ব্যবহার করা হয়নি। এসএস.১০ হল প্রথম বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল।

Loading...