বাঁচার ইচ্ছে ছিল প্রবল, দাঁতে দাঁত চিপে লড়েছেন নিয়তির সঙ্গে! ঐন্দ্রিলার জীবনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়

ক্যান্সার হোক বা স্ট্রোক, দাঁতে দাঁত চিপে লড়ে গেলেন ঐন্দ্রিলা, বাস্তবের এই গল্প সিনেমাকেও হার মানায়

All you need to know about Aindrila Sharma's life journey

জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে আর ঘরে ফেরা হয়ে উঠলো না ঐন্দ্রিলার (Aindrila Sharma)। অথচ তিনি ভরসা দেখিয়েছিলেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন তার মত হাজার হাজার মানুষকে। দু-দুবার ক্যান্সারের মুখ থেকে ফিরে প্রমাণ করেছিলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়। তবে নিয়তির কাছে শেষমেষ হেরে যেতে হল তাকেও। তার সুস্থতার জন্য মিরাকেলের উপর ভরসা রেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। আজ তারাও বাকরুদ্ধ।

রবিবার বেলা ১২.৫৯ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টলিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তার বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। কিন্তু এই বয়সে মৃত্যুর সঙ্গে তিনি যে অসম লড়াই লড়েছেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না কেউ। নিজের জীবনীশক্তির জেরে বারবার মৃত্যুকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ১ লা নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে সব শেষ হয়ে গেল। ক্যান্সারের সঙ্গে ৭ বছর মরণপণ লড়াই করে নিয়তির কাছে হার মেনে নিলেন ঐন্দ্রিলা।

১৯৯৮ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি জন্ম হয়েছিল তার। তার বাবা মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং মা নার্সিং হোস্টেলের ইনচার্জ। ছোট থেকে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ঐন্দ্রিলা। সেই সঙ্গে পড়াশোনাতেও তিনি ছিলেন তুখর। একাদশ শ্রেণীতেই তার অস্থিমজ্জায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসা এবং পড়াশোনা চলেছে একসঙ্গে। ২০১৫ সালের ১৮ তম জন্মদিনের দিনে ঐন্দ্রিলা জানতে পেরেছিলেন তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত।

কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করা হয়নি। চিকিৎসকরা কিন্তু প্রথমেই তাকে বলে দেন তার হাতে মাত্র ৬ মাস সময় রয়েছে। তবে ১.৫ বছরের চিকিৎসার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপরের ৫ বছরে ঝুমুর, জিয়ন কাঠি, জীবন জ্যোতি, লাভ ক্যাফে, আমি দিদি নাম্বার ওয়ান, ভাগাড় ইত্যাদি ছবি, সিনেমা এবং সিরিজে একটার পর একটা কাজ করেছেন ঐন্দ্রিলা।

২০১৭ সালে ঝুমুর ধারাবাহিক দিয়ে টেলিভিশনের পর্দাতে পা রাখেন ঐন্দ্রিলা। ছোট থেকে বড় হতে হতে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আঁকা, আবৃতিতে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন ঐন্দ্রিলা। স্কুল শিক্ষিকাদের গর্ব ছিলেন তিনি। ঐন্দ্রিলা প্রথম দফায় ক্যান্সার সারিয়ে উঠতে পারলেও ২০২১ সালে আবারও জন্মদিনের ঠিক ১০ দিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারি ডান কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তাকে পরীক্ষা করে জানা যায় তার ডানদিকের ফুসফুসের ১৯ সেন্টিমিটারে টিউমার রয়েছে। ফের শুরু হয় চিকিৎসা।

চিকিৎসকরা অবশ্য সেবারেও বলে দিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা কে অপারেশন টেবিল থেকে ফেরানো সম্ভব হবে কিনা কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবুও হাসিমুখেই ফিরে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। কারণ তার মধ্যে বরাবর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছে ছিল। ফিনিক্স পাখির মতই প্রতিবার নিজেকে নিংড়ে মৃত্যু যন্ত্রণার আগুনে পুড়িয়ে আবার নতুন করে নতুনভাবে জন্ম নিয়েছেন ঐন্দ্রিলা। তবে এ যাত্রায় আর তার ঘরে ফেরা হল না। সকলকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন ফাইটার ঐন্দ্রিলা।