ইউয়িং সারকোমা থেকে প্রাণ গেল ঐন্দ্রিলার! এই রোগের উপসর্গ এবং কারণগুলো জেনে সাবধান হোন এখনই

ইউয়িং সারকোমা প্রাণ কেড়ে নিল ঐন্দ্রিলার, রইল এই রোগের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসার উপায়

All you need to know about Aindrila Sharma's death reason Ewing Sarcoma its causes symptoms and treatments

ইউয়িং সারকোমা (Ewing Sarcoma), এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রাণ গেল ঐন্দ্রিলা শর্মার (Aindrila Sharma)। কেউ বলছেন অস্থিমজ্জার ক্যান্সার, কোথাও বলা হচ্ছে ফুসফুসের পর ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছিল তার মাথাতেও! তবে অভিনেত্রী আসলে গত ৭ বছর ধরে ইউয়িং সারকোমা নামের এই ভয়ংকর অসুখে ভুগছিলেন। বাংলাতে একে হাড়ের এক ধরনের ক্যান্সার বলা যেতে পারে। সাধারণত শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই ক্যান্সার বেশি হয়।

অস্টিও সারকোমার পর ইউয়িং সারকোমাকেই হাড়ের সর্বোচ্চ ক্যান্সার বলে ধরা হয়। এর বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে যা দেখে আগে থেকেই রোগটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যায়। এই রোগে হাড়ে ব্যথা করে এবং হাড়ের মধ্যে তরল জমা হয়। অনেক সময় হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। কোনও কারণ ছাড়াই বারবার রোগীর জ্বর আসে। এছাড়া রোগী যদি সবসময় ক্লান্তি অনুভব করে, ত্বকের নিচে বিশেষ করে বগলে গুটি বা ফোলা ভাব অনুভূত হয় তাহলে সাবধান হতে হবে তখনই।

Sabyasachi Chowdhury shared health Update of Aindrila Sharma

এছাড়াও ইউয়িং সারকোমাতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে লিম্ফ নোড দেখা দিতে পারে। ক্যান্সারের প্রকৃত কারণ সাধারণত জানা যায়নি আজও। তবে অন্যান্য ক্যান্সারের মত ইউয়িং সারকোমাও জিনগত কারণে হতে পারে বলেই জানান চিকিৎসকরা। যদি উপরিউক্ত উপসর্গগুলি রোগীর শরীরে দেখা দেয় তাহলে তার সম্পূর্ণ শরীর পরীক্ষা করে দেখা হয় প্রথমে। এছাড়া রোগীর চিকিৎসাগত ইতিহাস জেনে নেওয়াটাও জরুরি।

চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগীকে পরীক্ষা করার জন্য সাধারণত ইমেজিং বা প্রতিবিম্বকরণ, এমআরআই স্ক্যান, সিটি স্ক্যান, পজিট্রন এমিশন টোমোগ্রাফি স্ক্যান, বোনম্যারো অ্যাসপিরেশন, বায়োপসি, রক্তের সি-রিয়েক্টিভ প্রোটিন পরীক্ষা, লোহিত রক্ত কণিকা কমার হার পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয়। শরীরে এই রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা আরম্ভ করা জরুরী।

ইউয়িং সারকোমা রোগীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং অস্ত্রপচার করে থাকেন। ইউয়িং সারকোমা রোগীর দেহে বারবার ফিরে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে স্টেম সেল থেরাপির সহায়তা নেওয়া হয়। এছাড়া আরও কয়েক প্রকার থেরাপিও রোগীকে দেওয়া যেতে পারে। যেমন মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিজ প্রয়োগ করা যেতে পারে কিংবা অ্যান্টিজেন বৃদ্ধিজনিত ইমিউনো থেরাপি করা যেতে পারে।

রোগীর সেরে ওঠা, তার জীবন-মরণের সম্ভাবনা, সবটাই নির্ভর করে রোগী ক্যান্সারের কোন পর্যায়ে রয়েছেন তার উপরে। টিউমারের আকার, ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজেনসের মাত্রা, চিকিৎসাজনিত কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, রোগীর বয়স ১০ বছরের নীচে কিনা, এগুলো পরীক্ষা করে তবেই চিকিৎসা শুরু করা হয়। এই ধরনের ক্যান্সার ৫ বছর পর আবার ফিরে আসে। তাই চিকিৎসকরা রোগীকে মানসিকভাবে সর্বদা প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন।