অ্যাডিনো জ্বরে মৃত ১০, আক্রান্ত ১০০! ভয়ে কাঁপছে বাংলা, বাঁচবেন কীভাবে?

545

অ্যাডিনো ভাইরাস মূলত শিশুদের উপরেই থাবা বসায় কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সবথেকে কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত তিন মাসে ১০ জনের বেশি শিশু এই ভাইরাসের আক্রমণে মারা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে। বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা সঠিক সময় পেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও আতঙ্কের ছোঁয়া সকলের চোখে মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই অ্যাডিনো ভাইরাস আগেও ছিল কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়ার আমুল পরিবর্তনের ফলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এই ভাইরাস। শুধু শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে নয়, এই মুহূর্তে এই ভাইরাস মাথায় ভাঁজ ফেলেছে চিকিৎসকদের মধ্যেও।

এই অ্যাডিনো ভাইরাস আসলে কি?

অ্যাডিনো ভাইরাস হল সোয়াইন ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাল ফিভারের মতোই ভাইরাস। উপসর্গ এবং চিকিৎসা প্রায় একই ধরনের। তবে এই ভাইরাসের এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। চিকিৎসা বলতে শুধু সাপোর্টিভ কেয়ার।

অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত বুঝবেন কিভাবে?

যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের শরীরেরই এই ভাইরাস অতি সহজে থাবা দেয়। উপসর্গ বলতে সাধারণ ফ্লু-এর মতই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, চোখ জ্বালা করা, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। কোন কোন ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত এই রোগের উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। অবশেষে ফুসফুসে সংক্রমণ এবং মৃত্যু।

কোন বয়সের মানুষেরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে এক মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুরা। কারণ তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সবথেকে কম। এছাড়াও বয়স্কদের মধ্যেও এই ভাইরাসের আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। স্কুল, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য জায়গায় ছোট বাচ্চাদের হাঁচি কাশি থেকে এই ভাইরাস আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য নির্দিষ্ট কোন টিকা বা ওষুধের আবিষ্কার এখনো পর্যন্ত হয়নি। তাই প্রথমে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে অ্যাডিনো ভাইরাস করা গেলেও একমাত্র লাইফ সাপোর্টিভ চিকিৎসা দেওয়ায় উপায়। অর্থাৎ ভাইরাসের সংক্রমণ বুঝলেই পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীকে ভর্তি করতে হবে।

আরও পড়ুন ; কলকাতার সেরা ৭টি হাসপাতাল যেখানে আপনি পাবেন সেরা স্বাস্থ্য পরিষেবা

কোথায় কোথায় মিলছে চিকিৎসা: প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্তের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াগনোসিসের ব্যবস্থা কোথাও। পিসিআরের ব্যবস্থা রয়েছে কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ, পিয়ারলেস, অ্যাপোলো, ইএমআরআই, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মতো বাছাই করা কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেই।

চিকিৎসায় খরচের পরিমাণ :

পিসিআর টেস্ট করা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। কলকাতার মতো শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও পিসিআর টেস্ট করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে এই টেস্টের জন্য খরচ হতে পারে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে খরচের পরিমাণ পনেরো থেকে কুড়ি হাজার টাকা।

আরও পড়ুন ; মশা মারা ধুপ দিয়ে নয় মশা মারুন লেবু আর লবঙ্গ দিয়ে

সর্তকতা অবলম্বন :

ভাইরাসের আক্রমনের কোন রকম ইঙ্গিত পেলেই সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়েরা শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন। শিশুদের খাবারের রাখুন প্রচুর পরিমাণে জল এবং স্বাস্থ্যকর খাবার। মনে রাখবেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকলেও এই অ্যাডিনো ভাইরাস আপনার শিশুকে আক্রমণ করতে পারে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আক্রান্ত শিশুর স্কুল যাওয়া আসা বন্ধ রাখুন কারণ এই ভাইরাস আক্রান্ত শিশু থেকে অন্যান্য বৃষ্টির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।

Loading...