মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! কাশ্মীরের ৩৫-এ ধারা সংশোধনের অনুমোদন! ৩৫-এ ধারা কি? জানুন সবকিছু  

3188

সংবিধানের ৩৫-এ ধারা সংশোধন করল কেন্দ্রীয় সরকার। জম্মু-কাশ্মীরে উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই সে রাজ্যে জেনারেল ক্যাটেগরি-র গরিবদের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার সঙ্গে তফসিলি জাতি, জনজাতির জন্য পদোন্নতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা হচ্ছে।

আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকাদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দিতে ৩৫-এ ধারায় সংশোধন করল মোদী সরকার। আর এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ৩৫-এ ধারার সংশোধনীতে সম্মতি দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপালও।

১৯৫৪ সাল থেকে কাশ্মীর সংবিধানের ৩৫এ ধারা অনুসারে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে। যদি সেই মর্যাদা খারিজ করা হয়, তবে এই রাজ্যে তেরঙ্গা হাতে নেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

মেহবুবা বলেছেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না। সংবিধানের ৩৫এ ধারা নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। যদি করেন, তবে ১৯৪৭-র পর থেকে যা হয়নি তা দেখতে হবে। যদি ৩৫এ ধারায় দেওয়া বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া হয়, তবে এই রাজ্যে ভারতের পতাকা হাতে নেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে তাঁদের অন্য কোনও পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হবে কি না তা জানি না।”

৩৫-এ ধারা কি?

আসলে ১৯৫৪ সালে একটি ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের’ মাধ্যমে ৩৫এ ধারার এই ‘শর্তেই’ জম্মু ও কাশ্মীরের হিন্দু মহারাজা হরি সিং ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণে রাজি হন। এই ধারায় বাইরের প্রদেশের বাসিন্দারা এখানে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন না। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীর সরকার অন্য প্রদেশের নাগরিকদেরও এখানে চাকরিতে রাখতে পারে না।

১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ৩৫এ ধারাকে ৩৭০ নম্বর ধারার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। ১৯৫৪ সালে তৎকালী রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদের নির্দেশে ৩৫এ ধারাটি সংযুক্ত হয়। এই মোতাবেক, ১৯৫৪ সাল বা তার আগে থেকে যাঁদের ওই রাজ্যে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যাঁরা থেকেছেন, তাঁরাই উপত্যকার স্থায়ী নাগরিক। অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা সম্পত্তি কিনতে বা নাগরিক হতে পারেন না।

৩৫-এ ধারা নিয়ে এত বিতর্ক কেন?

যাঁরা এই ধারার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের মূল যুক্তি দু’টি। প্রথমত, এ ভাবে রাষ্ট্রপতি কখনও কোনও সংবিধানের সঙ্গে কোনও ধারা জুড়তে পারেন না। অনেকে আবার একে নারীবিরোধীও বলে থাকেন কারণ এই ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের কোনও স্থায়ী মহিলা বাসিন্দা কোনও অস্থায়ী বাসিন্দাকে বিয়ে করলে তিনিও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

পরে অবশ্য জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট এক মামলার রায়ে জানিয়ে দেয়, এমনটা করা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে সে মহিলার সন্তানের কোনও অধিকার থাকবে না।

Read Moe : ৩৭০ ধারা কি? ভারতের জন্য এটা কতটা ক্ষতিকর? জানুন বিস্তারিত

এই ধারার বিরুদ্ধেই আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। দাবি করা হয়েছে যাতে ৩৫এ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। কারণ ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী হয়নি। এটা অস্থায়ী নির্দেশ ছিল। আর তা সংসদে পেশ বা পাশ না করিয়ে তৎক্ষণাৎ বলবৎ করা হয়েছিল। সেটাই তুলে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

রাজ্যের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এ ধারার অবলুপ্তি বা পরিমার্জন হলে, অন্য রাজ্যের বা অন্য ধর্মের বাসিন্দাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, বদলে যাবে জনবিন্যাস। নিজে ভূমে পরবাসী হয়ে পরবেন তাঁরা।