করোনা ভাইরাস নিয়ে সমস্ত প্রশ্ন ও তার উত্তর

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের একটাই নাম ‘করোনা’। এখনও পর্যন্ত সারা দেশে করোনা ভাইরাসে ৪ হাজার ৭৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৭। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ WHO করোনাকে আন্তর্জাতিক মহামারি ঘোষনা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আগাম সতর্ক থাকতে বলছেন। করোনা থেকে বাঁচতে বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। জমায়েত এড়িয়ে চলতে বলছেন সকলকে। করোনার আতঙ্ক প্রভাব ফেলছে দেশবাসীর উপর। করোনা ভাইরাস কি তা অনেকের অজানা। জেনে নিন করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সব তথ্য…

১) নোভেল করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস প্রথম পাওয়া যায় চীনের উহানে পাওয়া যায়। এই ভাইরাস একটি নতুন রকমের ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের অনেক প্রজাতি হয় এই ভাইরাসটিও একটি। ভাইরাসটির সনাক্ত না করা যাওয়ায় ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় COVID 19।

২) SARS-CoV কী?

২০০২ সালে এই সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্স মহামারী আকার নিয়েছিল চীনে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ৮০৯৮ জন। সার্স ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছিল ৭৭৪ জনের। বিশেষজ্ঞরা বলেন এই SARS ভাইরাসে উৎপত্তি হয়েছিল বাদুড় ও সিভিট প্রজাতির প্রানী থেকে।

৩) COVID-19 ভাইরাস ও SARS CoV ভাইরাস এর মধ্যে মিল?

COVID-19 ভাইরাস ও SARS CoV ভাইরাসে কিছু মিল রয়েছে। ভাইরাসে অনেক প্রজাতি রয়েছে। এই দুটি ভাইরাস একই পরিবারের হলেও ভাইরাস দুটি এক নয়।

৪) কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি?

এই ভাইরাস যেভাবে সারা বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করছে তা নিয়ে আতঙ্কিত সবাই। করোনা ভাইরাসে যেমন অনেকের মৃত্যু হয়েছে অনেকে আবার সেরে উঠেছে। ভয়ের বিষয় এখনও এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। যদিও চিকিৎসকেরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সাবধানে থাকা বেশি জরুরি।

৫) করোনা ভাইরাসের লক্ষন কি?

জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ। মূলত করোনা ভাইরাস আক্রমন করলে অরগ্যান ফেইলিউরে মৃত্যু হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমন করলে এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পাঁচ থেকে চোদ্দো দিন লাগে। জ্বর ও সর্দিকাশি হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

৬) এই ভাইরাস কাদের বেশি আক্রমন করতে পারে?

যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, স্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে ও সহজেই যাদের সর্দি কাশির মতো সমস্যা হয় তাঁদের শরীরে করোনা দ্রুত আক্রমন করতে পারে।

৭) COVID-19 ভাইরাস এর সংক্রমন কীভাবে হয়?

অনেক গবেষক মনে করেন COVID-19 ভাইরাসটি চীনের কো সামুদ্রিক খাবার থেকে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। শুধুমাত্র সামুদ্রিক প্রানী নয়, বাড়ির পোষ্য থেকেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৮) এই ভাইরাসটি কি সংক্রামক?

ভাইরাসটি মানববাহী ভাইরাস। এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীর থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যাক্তির হাঁচি বা কাশির কনা যদি সুস্থ মানুষের শরীরে পড়ে তাহলে করোনা সেই ব্যাক্তিকেও আক্রান্ত করতে পারে।

৯) করোনা ভাইরাস কি পোষ্যর থেকেও আসতে পারে?

এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে বিড়াল বা সারমেয় আক্রান্ত হয়নি। তবে করোনা যেভাবে রূপ বদলাচ্ছে তাতে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১০) মাস্ক পড়লে কি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে?

ডাক্তারেরা বলছেন, সবার মাস্ক পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও যারা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সেবা করছেন তাঁদের মাস্ক পড়া জরুরি। তবে মাস্ক পড়লেই যে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা নয়।

১১) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তি মাস্ক ছাড়া হাঁচি কাশি দিলে কি হয়?

যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তাঁদের মাস্ক পড়া আবশ্যিক। মাস্ক ছাড়া হাঁচি বা কাশি দিলে সেই কনা অন্য ব্যাক্তিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত করতে পারে।

১২) করোনা ভাইরাস কতক্ষন বেঁচে থাকতে পারে?

এই ভাইরাসটি বাতাসে ওড়ে না। মাটিতে পড়ে বা ব্যাক্তির গায়ে ,কোনো বস্তুতে পড়ে। ভাইরাসটি হাতে পড়লে ১ মিনিট বেঁচে থাকতে পারে। তাই বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

১৩) COVID-19 ও সাধারণ ফ্লু এর মধ্যে পার্থক্য কতটা?

COVID-19 ও সাধারণ ফ্লু দুটোর লক্ষনই জ্বর,সর্দি,কাশি। স্বাভাবিক ভাবে কোনটা ফ্লু ও কোনটা COVID-19 তা বোঝা যায় না। তাই জ্বর, সর্দি কাশির লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

১৪) ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার কতদিন পর লক্ষণ দেখা যায়?

এই COVID-19 ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১৪ দিন সময় লাগে।

১৫) COVID-19 ভাইরাস অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরা?

ব্যাক্টেরিয়াবাহী সংক্রমন হলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু যেহেতু COVID-19 একরকম ভাইরাস তাই এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজে দেবে না।

১৬) COVID-19 এর প্রতিরোধক কোনও ওষুধ আছে?

এখনও পর্যন্ত COVID-19 এর কোনো ওষুধ তৈরী হয়নি। সাবধানতা অবলম্বন করা আপাতত এই রোগ প্রতিরোধে জরুরি।

আরও পড়ুন :- বাদুড় মেরে স্যুপ বানিয়ে খেয়ে এই মহিলাই ছড়িয়েছেন কোরোনা ভাইরাস

১৭) COVID-19 এর জন্য কখন ল্যাব টেস্টিং করা হয়?

কোনো ব্যাক্তির মধ্যে জ্বর, সর্দি কাশির লক্ষণ দেখা দিলে, কোনো পরিবারের একজন সদস্যের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে ও এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করলে COVID-19 এর পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন :- Online-এ করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত এই ১০টি কাজ ভুলেও করবেন না

১৮) করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কি কি করা উচিৎ?

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাবধান হওয়া খুবই দরকার। জেনে নিন কি কি করবেন…

ক) স্যানিটাইজার ও অ্যালকোহলযুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া উচিৎ।
খ) করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সংস্পর্ষ এড়িয়ে চলুন।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাস নিয়ে রটা কিছু গুজব এবং এর সত্যতা

গ) আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে অন্য ব্যাক্তির সাথে দূরত্ব বজায় রাখুন।
ঘ) নোংরা হাত মুখে গায়ে দেবেন না।

১৯) কোনো ব্যাক্তির শরীরে COVID-19 পাওয়া গেলে কি হবে?

COVID-19 আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হবে এবং মাস্ক ও গ্লাভস এর মতো প্রতিরক্ষামূলক জিনিস পড়ানো হবে।

আরও পড়ুন :- মুরগির মাংস খেলে কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে

২০) কোনো ব্যাক্তির সর্দি কাশি হলে এবং সেই ব্যাক্তি যদি বিদেশ থেকে ঘুরে না আসেন তাহলে তার কি করোনা হতে পারে?

কোনো ব্যাক্তির শরীরে যদি সর্দি কাশি ফ্লু এর লক্ষণ দেখা যায় ও সেই ব্যাক্তি যদি কোনো জনবহুল জায়গায় না গিয়ে থাকেন ও করোনা ভাইরাস সংক্রমিত ব্যাক্তির সংস্পর্ষে না এসে থাকেন তাহলে তার COVID-19 ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন থাকে না।