দুই ‘সন্তান’কে অনাথ করে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা! অভিনেত্রীর অকালপ্রয়াণে ‘মাতৃহারা’ তাঁর দুই সন্তান

ঐন্দ্রিলার অকালপ্রয়াণে ‘মাতৃহারা’ তাঁর দুই সন্তান ব্রজ এবং তোজো

Aindrila Sharma's two pets Brojo Tojo are mentally shocked of their mother's death

ঐন্দ্রিলা শর্মার (Aindrila Sharma) মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে গোটা একটি দিন। তার কাছের মানুষদের কাছে প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে। মানুষ তাও চিৎকার করে কেঁদে, অন্যের সঙ্গে কথা বলে নিজের যন্ত্রণা জাহির করতে পারে। কিন্তু নির্বাক প্রাণীরা তো তা পারে না। কষ্ট হলেও মনের ভিতর চেপে গুমরে কাঁদে ওরা। ঐন্দ্রিলা শর্মার দুই পোষ্য, বলা ভাল দুই সন্তানও তাদের মাকে হারিয়ে এরকমই গুমরে গুমরে থাকছে সর্বক্ষণ।

নির্বাক, হলেও ওরা বুঝতে পারে অনেক কিছুই। বিশেষ করে মৃত্যুটা ওরা ভালই বোঝে। ঐন্দ্রিলার দুই সন্তান-সম পোষ্য ব্রজ, তোজোও বেশ বুঝেছে তাদের মা আর কোনওদিনই ফিরে আসবে না। কথা বলতে না পারলেও ওদের আচরণে মনের কষ্টটা ঠিকই প্রকাশ পাচ্ছে। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর থেকেই চেনা মানুষটার চেনা গন্ধ, ডাক, স্পর্শ পেতে আকুল তারা। ছেড়েছে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম নেই চোখে।

টিভি নাইন বাংলাকে ঐন্দ্রিলার বান্ধবী পারমিতা সেনগুপ্ত ব্রজ-তোজোকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেন। তিনি বলেন, “আমরা মানুষ। কথা বলতে পারি। এই যেমন কথা বলছি। কিন্তু ব্রজ-তোজো ওরা তো পারে না। ওদের জন্য আমাদের প্রাণ ফেটে যাচ্ছে।’’ দুই পোষ্যের মধ্যে ব্রজই ছিল ঐন্দ্রিলার বেশি ন্যাওটা। অফয়াইট পাগ প্রজাতির এই সারমেয়র বয়স তিন বছর। সব থেকে বেশি ভেঙে পড়েছে সে।

অন্যদিকে কালো পাগ তোজো ব্রজর চেয়ে কিছুটা ছোট। সে ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্যর বেশি কাছের। তাই ঐন্দ্রিলার শূন্যতা টের পেলেও নিজেকে সামলে নিয়েছে সে। তবে ২০ শে নভেম্বর ঐন্দ্রিলার মৃত্যু দিনে ‘মা’ বাড়িতে আসার আগেই ব্রজ ঠিক বুঝে নিয়েছিল! ঐন্দ্রিলার নিথর শরীর যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তখন দীর্ঘদিনের পরিচালিকার কোলে মুখ গুঁজে কাদতে শুরু করে ব্রজ-তোজো দুজনেই।

সেই ১ লা নভেম্বর থেকে ঐন্দ্রিলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মা যেদিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয় সেদিন থেকেই ব্রজ খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। সারাক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত সে। ঐন্দ্রিলাকে যেদিন বাড়িতে শেষবারের মত আনা হয় সেদিন দরজাতে টোকা পড়তেই ছুটে গিয়েছিল সে। তারপর তাকে তার মায়ের কাছে আনা হলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঐন্দ্রিলার প্রাণহীন শরীরের উপর। অতিকষ্টে তাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐন্দ্রিলা যতদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তার সন্তানরাও বাড়িতে অভুক্ত থেকেছে। মা চিরতরে বিদায় নেওয়ার পর আরও কষ্টে ভেঙে পড়ে তারা। তাদের কিছুই খাওয়ানো যায়নি। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে কষ্ট পাচ্ছেন তার আপনজনেরা, কষ্ট পাচ্ছেন সতীর্থ থেকে অনুরাগীরা সকলেই। তবে তার দুই ‘মূক’ সন্তানের কষ্টটা আরও বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে বাড়ির মানুষদের।