প্রকাশ্যে এল টলিউড ইন্ডাস্ট্রির নোংরা সত্য, প্রযোজকের কু-প্রস্তাবে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

15655

সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে স্বজনপোষণ নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকেই। কঙ্গনা থেকে আয়ুষ্মান, বলিউডের অনেক কলা কুশলী তো বটেই কিন্তু একইসাথে বাদ যায়নি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও। শ্রীলেখা মিত্র প্রথম সরব হন এই প্রসঙ্গে, তারপর তার পক্ষ নিয়ে মুখ খোলেন তথাগত মুখোপাধ্যায়। এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। বললেন, ইন্ডাস্ট্রিতে ২২ বছরের অভিজ্ঞতা কথা।

তার কথায় এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকলে নিজেকে অপরাধী মনে হতো তার নিজেরই। সুতরাং মুখ খুললেন তিনি, বললেন,তিনি অনেকের মুখ থেকেই শুনছেন যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নেপটিসম নেই, কিন্তু তিনি বলেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা!ইন্ডাস্ট্রিকে আড়াল করার জন্য মিথ্যে বলছে লোকজন।দেবলীনা যে শুধু নেপোতিসম নয় বরং মাফিয়ার রাজও চাক্ষুষ করেছেন বলে অভিযোগ জানান তিনি।

এই সূত্রেই কেরিয়ারের প্রথমদিকের কথা বলেন, যখন তিনি আজ থেকে বছর ২২ আগে তিনি দ্বিতীয় ধারাবাহিকের অফার পান।তাকে বলা হয় ধারাবাহিকের প্রযোজক তার সাথে দেখা করতে চান। সেই সময় তার মাও তার সাথে সেটে যেতেন। কিছুক্ষণ প্রযোজকের অফিসে অপেক্ষার পর প্রযোজক বলে পাঠান যে তিনি দেবলীনার সাথে একা দেখা করতে চান। ভেতরে যাওয়ার পর তিনি দেখেন প্রযোজকের টেবিলে রাখা একটি সিসিটিভি ক্যামেরা! সেই সিসিটিভি দিয়ে প্রযোজক তাকে এবং তার মাকে দেখছিলেন।

প্রযোজক দেবলীনাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি যখন এসেছেন তখন তিনি কম্প্রোমাইজ করতে রাজি কিনা। তাকে চমকে যেতে দেখে পরিচালক তাকে বোঝান যে কাজ ভালো হতে গেলে অভিনেত্রীর সাথে প্রযোজকের পারস্পরিক সখ্যতা এবং বোঝাপড়া প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে বোঝাপড়া ভালো করতে হলে প্রযোজককে আলাদা সময় দেওয়া প্রয়োজন! প্রযোজক তাকে বলেন যে চরিত্র, সংলাপ সবকিছু নিয়ে তিনি আলোচলা করবেন। শুধু তাই নয় প্রযোজক নিজেই নেবেন তার জামার মাপ!

সেই কথা শুনে না বলে দেন দেবলীনা।তার না শুনে প্রযোজক তার দিকে রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় যে এই মনোভাব নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি টিকতে পারবেন না। দেবলীনা আরও লেখেন যে তিনি সব অভিনেত্রীর সাথেই এরকম ব্যাবহার করতেন এবং দর্জি প্রোডিউসার নামেই বিখ্যাত ছিলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে “ছিলেন” শব্দটি ব্যবহার করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে এখন সেই প্রযোজককে এখন কেউ চেনেনা।

এই প্রসঙ্গেই তার এক জুনিওর বান্ধবীর অভিজ্ঞতার কথা বলেন দেবলীনা। নামকরা এক পরিচালক নতুন মুখ নির্বাচন করলে ছবি শুরুর আগে ওয়ার্কশপ করিয়ে নেন। এমনই এক ওয়ার্কশপে যান তার বান্ধবীও। সেখানে যাওয়ার পর সে দেখে, পরিচালক প্রত্যেক নতুন মেয়েকেই বলছেন, ধরে নাও আমি একটা গাছ, এ বার তোমরা আলাদা করে আমায় ক্রিপার হয়ে দেখাও। আমার বান্ধবী আপত্তি জানায়। ফলে পরিচালক যে তাঁর পরের ছবিতে আমার বান্ধবীকে আরও ভাল চরিত্রের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন তা আর হয় না। অন্য যারা ক্রিপার হতে পারে তারা কাজ পায়।

দেবলীনার এক বান্ধবী প্রথম ছবির জন্য ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন সেখানে একটি চুম্বন দৃশ্যের অভিনয় করতে হতো। সেই অভ্যাস করাকালীন পরিচালক কাছে চলে এসে বলেন, ‘‘এ বার তা হলে চুমুটা খাই?’’ বান্ধবীর আপত্তিতে চুমুও খাওয়া হয় নি এবং বান্ধবীর কাজও পাওয়া হয়নি। তখন যে মেয়ে বলবে, হ্যাঁ, চুমুটা আমি খেতে পারি সে নেক্সাসে ঢুকে যায়। তার একের পর ছবির কাজ আসে। আসলে সিস্টেমটা এ রকমই। অনেক অভিনেত্রী নিজে থেকেই বলেন যে তারা পরিচালকের সাথে চুমুর দৃশ্যের অভ্যাস করতে চান। যসবাই মিলে যদি এই সব ক্ষেত্রে না বলা যেত তা হলে কাজ বন্ধ হত। তবেই একটা শিক্ষা দেওয়া যেত। যদিও তা হওয়ার নয়।

দেবলীনা বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি এক জন অভিনেতা, তাঁকে এক জন নামকরা পরিচালক প্রমোট করেন। শুধু তাঁর ছবি নয়, তাঁর থেকেও বড় পরিচালকের ছবিতে কাস্ট করান। তাই অনেক অভিনেতা সারাক্ষণ পরিচালকের পেছন পেছন ঘোড়ে। তাঁর ব্যাগ বয়ে দেয়, বাজার করে দেয়। আমরা পার্সোনাল অ্যাটেন্ড্যান্ট দিয়ে যা করাই অভিনেতা সেই কাজটাই করে দেয়। সে নিঃসন্দেহে ভাল অভিনেতা, কিন্তু তার মতো আরও দশটা ভাল অভিনেতা আছে। শুধু অভিনেতা নয়, পরিচালকও এক কাজ করে। প্রযোজকের অফিসে বসেই থাকে। আর নায়িকাদের কথা তো বাদ দিলাম। তারা এন্টারটেন না করলে তো কিছুই হবে না। ওরা জানে আমি পারবো না তাই ওরা আমায় ডাকেও না।

এই সম্পর্কিত আরও খবর :-

‘বিছানায় যাইনি, তাই প্রাপ্যও পাইনি’, শ্রীলেখার স্বজনপোষণের অভিযোগে ধুয়ে দিলেন স্বস্তিকা

বাংলা সিনেমায় নেপোটিজম নিয়ে শ্রীলেখার অভিযোগে মুখ খুললেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়

‘প্রসেনজিৎ,যীশু কী শুয়ে কাজ পান?’ স্বস্তিকার অভিযোগের উত্তর দিলেন শ্রীলেখা

দেবলীনার অভিযোগ বারবার তার কাছ থেকে কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তার বদলে ছবিতে নেওয়া হয়েছে কথা বলতে না পারা কোনো স্টারকিডকে।কস্টিউম এর মাপ নেওয়া হয়ে যাওয়ার পরও চলে গেছে ছবি। তিনি আরও বলেন ইন্ডাস্ট্রির ৯৯ শতাংশ একরকম হলেও ব্যতিক্রম ১ শতাংশ আছে বলেই দেবলীনা দত্ত বেঁচে আছেন। তিনি বলেন এই হাউসগুলোতে ঢুকতে গেলে সাধারণ ভাবে “কেমন আছেন” জিজ্ঞেস করলে হবেনা বরং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলতে হবে ‘হ্যালোউ’! হ্যালো-র মধ্যেও ইঙ্গিত থাকে। চাকচিক্যময় পোশাক পরতে হবে।কিন্তু তার পরেও যারা তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন তাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত।