লকডাউনে দেশে কতজন কর্মহীন হলেন, প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান

করোনা মহামারী এবং সেই মহামারীর জেরে দেশ জুড়ে চলতে থাকা লক ডাউন, এই দুইয়ের কারণে বেহাল অবস্থা হয়েছিল দেশের অর্থনীতির। এত মাস পরে আনলকের পঞ্চম পর্যায় এসে বারবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitaraman) দাবি করছেন, করোনা পরিস্থিতি সামনে আশার থেকেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি (Economy)।

কিন্তু বর্তমানে দেশের কর্মসংস্থানের চিত্র বলছে তার ঠিক উল্টো কথা।সরকারি হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে গত অক্টোবরে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিস বা EPFO -তে নথিবদ্ধ সংস্থা কমেছে ৩০ হাজার। অন্যদিকে চলতি মাসের মধ্যেই ১৮ লক্ষ কমেছে কর্মী সংখ্যা। অর্থাৎ বিগত এক মাসে ১৮ লক্ষ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে লক ডাউন পরবর্তী সময় ঘুরে দাড়িয়েছে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলি। কিন্তু এই দাবির উল্টো কথা বলছে এই পরিসংখ্যান।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত মে মাসের পর এই প্রথম কর্মী এবং সংস্থার সংখ্যায় এত ব্যাপক হারে ধ্বস নেমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশ জুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলোর কার্যত বেহাল দশা।

EPFO কী?

যে কর্মীরা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং পেনশন খাতে বেতনের ১২ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে সংস্থাও সমপরিমাণ টাকা জমা দেয়। কর্মীদের কেটে নেওয়া বেতন এবং সংস্থার জমা দেওয়া অর্থ, দুটি মিলিয়ে EPFO বা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিস এ টাকা জমা থাকে।

অক্টোবরে কি বদল ঘটেছে EPFO তে?

গত সেপ্টেম্বর মাসে এই ইপিএফও অনুযায়ী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ৮০ হাজার। কিন্তু এই সংখ্যার পতন ঘটে অক্টোবর মাসে। অক্টোবরে কর্মীর সংখ্যা এক লাফে ১৮ লক্ষ কমে গিয়ে ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ২০ হাজারে দাড়ায়।

শুধু কর্মীসংখ্যা নয়,বদল এসেছে সংস্থার সংখ্যাতেও। আগে নথিবদ্ধ সংস্থার সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৬৯টি। এই সংখ্যা অক্টোবরে প্রায় ৩০ হাজার ৮০০ কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ ৪ হাজার ৪৪তে।

আনলক পর্বে প্রথম এমন ব্যাপক পতন

করোনা পরিস্থিতিতে মার্চ মাসে যখন দেশ জুড়ে লক ডাউন শুরু হয় সেই সময় স্বাভাবিক ভাবেই এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে ক্ষতির মুখে পড়ে দেশের অর্থনীতি (Economy)। মে মাসে দেশ জুড়ে বেকারত্বের হার ছিল বিগত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ। এক ধাক্কায় সংস্থা ও কর্মী উভয়ের সংখ্যায় পতন ঘটে।

এর পরে আনলক পর্বের পর ধীরে ধীরে আবার ওপরের দিকে উঠতে শুরু করেছিল অর্থনীতি (Economy)।তবে অক্টোবর মাসে এসে পুরো হিসেবটা যেন গালিয়ে গেল।আবারও এক ধাক্কায় অনেকটা পতন ঘটলো কর্মী ও সংস্থার সংখ্যায়।

আরও পড়ুন : লকডাউন করোনা সংক্রমণ কতটা আটকাল, দেখে নিন পরিসংখ্যান

এই সম্পর্কে এক সরকারি শীর্ষ আধিকারিক জানান, অর্থনীতি সংকোচের জন্যও এরকম পরিসংখ্যান সামনে আসতে পারে।এর আরও একটা কারন হতে পারে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়া। বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে সম্ভবত সংস্থাগুলো খরচ কমানোর জন্য EPFO- তে টাকা জমা না দেওয়ায়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন : সামাজিক দূরত্ব মেনে কতটা করোনা আটকানো গেল, দেখুন পরিসংখ্যান

তবে বর্তমানে এই পরিসংখ্যান রীতিমত আশঙ্কা সৃষ্টি করছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কার্যত তলানিতে চলে যাওয়া কর্মসংস্থানের এই চিত্র ধীরে ধীরে বদল হতে শুরু করার মধ্যে আচমকা এই হোঁচটে ফের শঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে উঠছে কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে।