বিশ্বের প্রথম পাইলট হিসেবে মিগ-২১ নিয়ে ধ্বংস করলেন এফ-১৬কে! দেখুন কীভাবে

492

তেজস, সুখোই এর মত শক্তিশালী যুদ্ধবিমান নয়! ১৯৭০ সালের তৈরি মিগ-২১ দিয়েই পাকিস্তানের অত্যাধুনিক এফ ১৬ কে কুপোকাত করেছে অভিনন্দন। মিগ-২১ দিয়ে এফ-১৬ এর মত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে নজির গড়েছেন তিনি। কিন্তু কিভাবে এমন সাফল্য তৈরি করলেন তিনি? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর জৈস-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের আত্মঘাতী হামলায় শহীদ হোন ৪৯ জন জওয়ান। ঘটনায় আহত আরো অনেক জওয়ান। হামলার পর থেকেই গোটা দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার ক্ষোভে ফুঁসছিল। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকেও একের পর এক চাপ সৃষ্টি করা হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতেও যেন ভারতীয়দের রাগ প্রশমিত হচ্ছিল না। অবশেষে সেই রাগ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয় ২৬ শে ফেব্রুয়ারির ভোররাতে পাকিস্তানের আকাশে ৮০ কিলোমিটার প্রবেশ করে ভারতীয় বায়ুসেনার বদলার এয়ার স্ট্রাইকে। এই এয়ার স্ট্রাইকে নিহত হয় কমপক্ষে ৩০০ জন জঙ্গি। যাদের মধ্যে অনেকেই জৈস-ই-মহম্মদ জঙ্গী সংগঠনের শীর্ষ কর্তাও রয়েছেন। ধ্বংস হয়ে যায় ওই জঙ্গী সংগঠনের কন্ট্রোল রুম ও সদর দপ্তর।

before-being-captured-abhinandan-fired-into-air-swallowed-documents-demands-pak-media

কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনার বদ এয়ার স্ট্রাইকে চুপচাপ বসে থাকেনি পাকিস্তান। তারাও পুনরায় বদলা নেবার জন্য ২৭ শে ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশে একগুচ্ছ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠায়। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতের সামরিক দপ্তর। কিন্তু পাকিস্তানের সেই পরিকল্পনাকে বানচাল করে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। পিছু হটতে থাকে পাকিস্তানের পাঠানো যুদ্ধবিমানগুলি। সেই সকল যুদ্ধবিমান গুলিকেই তাড়া করতে শুরু করে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিমান ছিল অভিনন্দনের।আকাশ যুদ্ধে তার চেয়ে অনেকটাই ফ্যালকন-১৬-কে ধ্বংস করেছে সে। বায়ুসেনাদের কাছে যা ‘উড়ন্ত কফিন’, তা-ই পাকিস্তানকে জব্দ করে দিল? কী ভাবে সম্ভব হল এটা?

পাকিস্তান এফ-১৬ কেনার পরেই বিমানে ‘মাল্টি মোডাল’ রাডার বসানো হয়। আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে জমিতে আঘাত করার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হয়। মিগ প্রথম তৈরি হয় পঞ্চাশের দশকে। ১৯৬১ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয় রাশিয়ার মিকোয়ান-গুরেভিচ ডিজাইন সংস্থার তৈরি ওই বিমান। সেখানে ফ্যালকন আশির দশকের। ফলে শুরু থেকেই প্রযুক্তি, গতি ও আক্রমণের প্রশ্নে অনেক এগিয়ে ফ্যালকন।

বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার রাডারে কয়েকটি বিন্দু ফুটে ওঠে। এক ঝাঁক যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড থেকে সীমান্তের দিকে এগিয়ে এসেছিল।ভারতীয় বায়ুসেনার মত, জে এফ-১৭ ও মিরাজ মিলিয়ে অন্তত দেড় স্কোয়াড্রন বিমান ছিল ওই ঝাঁকে। পাল্টা তাড়া করে ভারতীয় বায়ুসেনা। সবচেয়ে এগিয়ে ছিল অভিনন্দনের মিগ।বায়ুসেনার দাবি, অভিনন্দন একটি এফ-১৬-কে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ‘লক’ করেন। এক বার ক্ষেপণাস্ত্র ‘লক’ করার অর্থ হল দুই বিমানের মধ্যে কোনও বাধা (যেমন পাহাড়) না এলে ক্ষেপণাস্ত্র সোজা গিয়ে আঘাত করবে নিশানা করা বিমানে।

নিশানা ‘লক’ করতেই নিজের স্ক্রিনে তা বুঝতে পারেন ফ্যালকন-১৬-এর চালক। কাশ্মীরের পাহাড়ের আড়ালের সুযোগ নিয়ে পালানো শুরু করে বিমানটি। জবাব দিতে তাড়া করে নিয়ন্ত্রণরেখা পার করে ফেলেন অভিনন্দন। ফলে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় হয়ে ওঠে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তি।পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে ‘আকাশ থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় তা মিগে ব্যবহৃত আর্চার শর্ট রেঞ্জ-আর ৭৩-এর থেকে অনেক আধুনিক ও নিখুঁত। অভিনন্দন দক্ষ বিমানচালক বলেই স্রেফ মিগ দিয়ে ফ্যালকনকে ধ্বংস করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনা কর্তারা।ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে এফ-১৬ ধ্বংস করে মিগটি ভারতের দিকে ফেরার সময়ে সম্ভবত অ্যান্টি এয়ারক্রাফ্ট বন্দুকের গুলির শিকার হয়। প্যারাশুটের সাহায্যে অভিনন্দন নেমে এলেও তাঁকে ধরে ফেলে পাক সেনা। ধ্বংস হয় মিগ বিমানটি।

বুড়ো মিগ-২১ থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কুপোকাত পাকিস্তানের অত্যাধুনিক এফ-১৬। যা নিয়ে রীতিমত আলোড়ন পড়ে গেছে চতুর্দিকে। পাকিস্তানের অত্যাধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ছড়া ঐ ক্ষেপণাস্ত্রে কি এমন রয়েছে?

আরও পড়ুন ; আভিনন্দনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল পাকিস্তান! কিন্তু কেন জানেন?

মিগ-২১ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের নাম R-73E। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মাধ্যমে আকাশ থেকে আকাশ আক্রমণ সম্ভব। তাই কোন যুদ্ধবিমানকে আকাশ থেকে আকাশে আক্রমণ করার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষত্ব হলো, ঘন্টায় ২৫০০ কিলোমিটার বেগে শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে। ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শত্রু এই ক্ষেপণাস্ত্রে কুপোকাত হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ০.০২ থেকে ২০ কিলোমিটার উপরে থাকা যুদ্ধ বিমানে আঘাত হানতে সম্ভব এই ক্ষেপণাস্ত্র।