‘চারটে গান গেয়েই ইন্ডিয়ান আইডলের বিচারক’, নেহা কক্করকে ধুয়ে দিলেন অভিজিৎ

Neha Kakkar and Abhijeet Bhattacharjee

টেলিপর্দার রিয়েলিটি শোগুলি সাধারণ মানুষের প্রতিভা বিকাশের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। নাচ, গান নিয়ে যে রিয়েলিটি শোয়ের আয়োজন করা হয় সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ছেলে-মেয়েরাও নিজেদের প্রতিভার বিকাশের সুযোগ পান। এই রিয়েলিটি শোয়ের দৌলতেই সঙ্গীত এবং নাচের দুনিয়ায় বহু প্রতিভাধর শিল্পীকে পেয়েছে বলিউড।

অথচ সোনি টিভির রিয়েলিটি শো “ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১২”কে নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই শেষ হতে চাইছে না। এই রিয়েলিটি শোয়ের রিয়েলিটি বা বাস্তবতা সম্পর্কে ইতিপূর্বে বহু অভিযোগ এনেছেন দর্শক। নামেই রিয়েলিটি শো, শোয়ের সবটাই নাকি স্ক্রিপ্টেড! এমন অভিযোগও উঠেছে বহুবার। এমনকি চলতি সিজনে এই রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকেরাও শো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বারংবার এমন বিভিন্ন অভিযোগ এনেছেন, যা থেকে কার্যত রিয়েলিটি শোয়ের “রিয়েলিটি” নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।

সম্প্রতি এই সিজনের বিচারক অমিত কুমার, সুনিধি চৌহানরা একে একে শো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। অমিত কুমারের দাবি ছিল, শুধু টাকার জন্যেই তিনি শোয়ের বিচারকের আসনে বসেছিলেন এবং তাকে “যা বলতে বলা হয়েছিল” তিনি তাই বলেছেন! আবার গায়িকা সুনিধি চৌহান তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন যে, “বিচারকেরা কি বলবেন তা শোয়ের নির্মাতারাই ঠিক করে দেন”!

Sunidhi Chauhan Indian Idol Judge

এবার এই নিয়ে বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢাললেন গায়ক অভিজিৎ। তবে তিনি অবশ্য প্রতিযোগী কিংবা শো কর্তৃপক্ষকে নিয়ে কোনও কথা বলেননি। তার আক্রমণের তীর রয়েছে রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকদের দিকে। অভিজিৎয়ের বক্তব্য, হিট গান গাওয়া কমার্শিয়াল বিচারক, যারা মাত্র হাতেগোনা চারটে গান গেয়েছেন, যারা সঙ্গীতজগতের জন্য কিছুই করেননি, তারাই আজ রিয়েলিটি শো’য়ের বিচারক হয়ে বসেছেন!

অভিজিৎ “ইন্ডিয়ান আইডল ১২”-এর বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছেন। তার মতে, ইন্ডিয়ান আইডলের নির্মাতারা তাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছেন। অভিজিত তাদের কাছে কখনো কাজ চাননি, তবুও তারা তাকে সৎভাবে প্রতিযোগীদের বিচার করার সুযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বক্তব্যের মধ্যে ধরা পড়লো অভিমানের সুর। রাহুল দেব বর্মন (Rahul Dev barman) ও কিশোর কুমার (kishor kumar)-এর সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে তিনি বলেন, তাদের তিনজনকেই কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি!

তিনি এও বলেছেন, এতদিন যারা তাদের অগ্রাহ্য করেছেন, তারা “নির্বোধ”। পাশাপাশি, সারাজীবনে বেশি গান না গাওয়া, দু’চারটে কমার্শিয়াল হিট গান গেয়েই যারা খ্যাতি পেয়ে বিচারকের আসনে বসেছেন, তাদেরও একহাত নিয়েছেন বলিউডের এই গায়ক। তার বক্তব্য অনুসারে, যারা পুরনো গান রিমিক্স করেন, তারা প্রতি গান পিছু মাত্র ৫০০ টাকা করে পান।

বর্তমানে সঙ্গীতের জগতের প্রচলিত ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজিৎ ইতিমধ্যেই অনু মালিক (Annu malik) এবং মনোজ মুনতাসির (Manoj muntasir)-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, সঙ্গীতের জগতের অনেকেই নিজেদের অ্যালবামের প্রচারের জন্য শোতে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের ব্যবহার করে থাকেন! তাই তিনি মনে করেন, তার মত বিচারককেই রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকের আসনে প্রয়োজন, যারা সৎভাবে প্রতিযোগীদের বিচার করে থাকেন।