চুল কাটেননি ৮০ বছর, মাথায় ১৬ ফুট জটা, ভাইরাল ৯২-এর বৃদ্ধ

করোনাকালে বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলার দরুন সমস্ত পার্লার ও সেলন বন্ধ। বাইরে গিয়ে চুল কাটানোর রিস্ক কেউই নিতে চায় না। তাই বাড়িতে থেকে অনেকের চুল লম্বা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি বেশ বড় এক সমস্যা। এতগুলো মাস ট্রিম না করায় মাথা ভর্তি চুল বেড়ে চলেছে। তবে কারোর চুলই পাত্তা পায় না ভিয়েতনামের ন্যুগেইন ভ্যান চিয়েনের সামনে। প্রায় ৮০ বছর ধরে নিজের চুলে কাঁচি চালাননি।

বিগত ৮০ বছর ধরে চুল কাটেননি। এই দীর্ঘ সময় ধরে চুলে চিরুনিও ছোঁয়াননি তিনি। ফলে চুল ধীরে ধীরে জটায় পরিনত হয়েছে আর এই জটা ৮০ বছর ধরে বাড়তে বাড়তে এখন লম্বায় প্রায় সাড়ে ১৬ ফুট (৫ মিটার)!

তিনি বিশ্বাস করেন যে, কোনো ব্যক্তির জন্ম থেকে পাওয়া কোনো কিছুতে হাত দেওয়া উচিত নয়। হো চি মিন শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রামে থাকেন তিনি। তার এই লম্বা চুলের জন্য বেশ জনপ্রিয় তিনি।

ন্‌গুয়েন যে ধর্মমতে বিশ্বাস করেন, সেখানে মানুষ যা নিয়ে জন্মেছে তা নিয়েই থাকতে বলা হয়। ন্‌গুয়েনের বিশ্বাস, তিনি যদি চুল কাটেন, তবে মারা যাবেন। এমনকি তিনি চুলে চিরুনিও দেনন না। তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, তখন নিয়মিত চুল কাটাতে হত। কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আর চুল কাটাবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তাঁর চুলের ছবি-ভিডিয়ো দেখলেই বোঝা যাবে সত্যিই তাঁর চুলে চিরুনি, কাঁচি কিছুই স্পর্শ পড়েনি। তবে হাতের নখ তুলনায় আর পাঁচ জনের মতোই ছোট।

তিনি জানিয়েছেন, “আমার বিশ্বাস আমি যদি চুল কেটে ফেলি, তাহলে আমি মারা যাব। আমি তাই কিছু বদলানোর, এমনকি আমার চুলে চিরুনি দেওয়ারও সাহস করি না। আমি কেবল আমার চুলের যত্ন নিই। একটা স্কার্ফ দিয়ে সবসময় চুলকে ঢেকে রাখি যাতে তা পরিষ্কার থাকে ও সুন্দর দেখায়।”

ভিয়েতনামের রাজধানী হো চি মিন সিটি থেকে পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে থাকেন চিয়েন। তিনি জানিয়েছেন স্কুল ছাড়ার পরই চুল রাখার বিষয়ে দৈব নির্দেশ পেয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন আগে তাঁর চুল ছিল কালো এবং ঘন। তিনি নিয়মিত সেই চুল মসৃণ করার জন্য আঁচড়াতেন। কখনও বাঁধতেনও। কিন্তু, স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর রাতারাতি তা শক্ত হয়ে উঠেছিল। এখন তাঁর এই দৈত্যাকৃতির চুলের গোছা সামলাতে সহায়তা করেন চিয়ানের পঞ্চম ছেলে লুম। ৬২ বছরের লুম-ও কিন্তু মনে করেন চুলের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সংযোগ রয়েছে।