দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ৯টি প্রথা সম্পর্কে অনেকেই জানেনা

119

মা আসছেন অশুভ শক্তির বিনাশ এর বার্তা নিয়ে, শুভ শক্তিকে জাগ্রত করতে। এই বছর মা দুর্গার আসার সঙ্গে বিশ্ববাসীর  অনেক আশা-ভরসা যুক্ত হয়ে আছে। সকলের বিশ্বাস মা বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টিকারী করোনাসুর কেও বধ করবেন। দেবীর আগমনে সবকিছুই শুভ হবে এই বিশ্বাস থেকেই এই অতি মহামারীর মধ্যেও দেবীর আবাহনে ব্যস্ত মর্ত্যবাসী।

প্রতিবছর দেবী এই সময়ে কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসেন তার সন্তানদেরকে নিয়ে। দুর্গা পুজোর মধ্যে থাকা  একাধিক প্রথা পালনের মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহালয়ার ছয় দিন পরে অর্থাৎ মহাষষ্ঠীর থেকে এই সকল প্রথাগুলি অনুষ্ঠিত হয়। আর দশমীতে দেবীর বিসর্জন এর পর শুরু হয় আবার এক বছরের প্রতীক্ষা।

সন্ধিপুজো থেকে শুরু করে সিঁদুর খেলা দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একাধিক আচার অনুষ্ঠানের একাধিক তাৎপর্য আছে। দুর্গাপুজোর এইসকল অনুষ্ঠানের তাৎপর্য এর কথা আমরা অনেকেই জানিনা। আজকের প্রতিবেদনে দুর্গাপুজোর সাথে জড়িয়ে থাকার নয়টি প্রথার কথা সবিস্তারে আলোচনা করব।

মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এইসময় পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পন করা হয়। ব্রাহ্মণ থেকে শুদ্র সকল জাতির মানুষের এই তর্পণে সমানাধিকার। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে এই তর্পণে পিতৃপুরুষদের তিল জল ইত্যাদি দান করা হয়। এতে পিতৃপুরুষেরা প্রসন্ন হন এবং উত্তর পুরুষদের আশীর্বাদ দান করেন। এই প্রথার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। যদিও এই বছর মল মাস হওয়ার কারণে মহালয়ার একমাস পরে পুজো হয়েছে।

 

মহাষষ্ঠীর কল্পারম্ভঃ

মহাষষ্ঠীতেই দেবী  সপরিবারে  মর্ত্যভূমিতে আসেন। এই দিন তাই  দেবীর মুখের আবরণ সরিয়ে দিয়ে দেবীর মুখমন্ডল উন্মোচন করা হয়। এই প্রথাকে বলা হয় কল্পারম্ভ। কল্পারম্ভের পরে ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন হয়, দেবীর বোধন এর মধ্য দিয়ে দেবীকে জাগ্রত করা হয়।

এই দিন সকল শাস্ত্রীয় রীতি মেনে ঘট ও জলভর্তি তাম্রপাত্র  মন্ডপের একপাশে রেখে দেবী দুর্গা ও চন্ডীর পুজো করা হয়। এরপর দেবীর বোধন হয়। এরপর অধিবাস ও আমন্ত্রণ করে বিল্ব শাখার মধ্যে দেবীর আবাহন করা হয়।

মহাসপ্তমীর কলাবউ

একটি কলাগাছের চারাকে গণেশের স্ত্রী কলাবৌ রূপে কল্পনা করা হয় ও সাজানো হয়। মহা সপ্তমীর দিন কলা বউকে স্নান করানো হয়, ও কলাবউ কে নতুন লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে মণ্ডপে দাঁড় করানো হয়। কলাবৌ কে স্নান করিয়ে মন্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে পুজোর বিধি শুরু হয়।

মহাসপ্তমীর নবপত্রিকা স্থাপনঃ

এরপর মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের প্রতীক হিসাবে নয় ধরনের গাছ কে মন্ডপে আনা হয়। এর পর এই নয় ধরনের গাছকে মন্ত্র সহ প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। এই প্রথাকে  নবপত্রিকা স্থাপন বলা হয়।

মহাষ্টমীর কুমারী পূজাঃ

অষ্টমী তিথিতে কুমারী পুজা পালন করা হয়। বয়সন্ধি হয় নি এইরকম বয়সের বালিকাদের দেবীরূপে পুজো করা হয়। মূলত ৭ থেকে ৯ বছরের কুমারীদেরকেই দেবীরূপে‌ কুমারী পুজো করা হয়।

মহানবমীর সন্ধিপূজাঃ

মহাষ্টমীর শেষ আর মহানবমীর শুরুর সন্ধিক্ষণে হয় সন্ধিপুজো। বলা হয় এই সময় দেবী দুর্গা চন্ড,মুন্ডের বধ করতে  চামুণ্ডা রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এই সময় সন্ধিপুজো করা হয়। সন্ধিপুজো অত্যন্ত পূণ্য তিথি বলে মনে করা হয়। সারা বছর দুর্গা পুজো করার ফল মেলে বছরে একটা সন্ধিপুজো করলে।

মহাদশমীর সিঁদুর খেলাঃ

দশমীর দিন বিবাহিত মহিলারা দেবী দুর্গার মূর্তিতে সিঁদুর দান করেন তারপর  মাকে মিষ্টি নিবেদন করেন। মিষ্টিমুখ করিয়ে চোখের জলে মাকে বিদায় জানান। একে বলা হয় ঠাকুর বরণ। এরপর বিবাহিত মহিলারা নিজেরা সিঁদুরখেলার অনুষ্ঠানে মাতেন।

বিসর্জন

দশমীর ঠাকুর বরণ প্রথার শেষে দেবী কে নদী/পুকুড় পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভক্তবৃন্দ নাচ করেন সেখানে।’আসছে বছর আবার হবে’ এই উল্লাস ধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীকে পরের বছর আবার আসার আহ্বান জানিয়ে দেবীর মূর্তি কে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় অর্থাৎ দেবী এই বিসর্জন প্রথার মধ্য দিয়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন।

বিজয়া দশমী

দেবীর বিসর্জনের পর বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানে বাড়ির ছোটরা বড়দের আশীর্বাদ নেয়, বড়রা কোলাকুলি করেন। এর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক প্রীতি আর সৌহার্দ্য বজায় থাকে।