ভারত থেকে লুট করা কয়েকটি বহুমূল্য জিনিস যেগুলো আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে

ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা ভারতবর্ষ। কোহিনূর হীরে থেকে বাতস্যায়ানের কামসূত্র- আছে ভারত ইতিহাসে। বস্ত্র, মশলা, হীরে, চিনি এবং লোহার অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করে প্রভূত আয় হয় প্রাচীন ভারতের। বিদেশেরা লোভী দৃষ্টিতে তাকাত এই দেশের দিকে।
এসব কারণেই বহু বিদেশী শক্তি বারবার হানা দিয়েছে ভারতে। মোগল, শক, হুন থেকে হালআমলের ব্রিটিশরা লুট করেছে ভারতকে। এদেশের মহান জিনিসগুলি চুরি করে, অত্যাচার করে তুলে নিয়ে রেখেছে নিজেদের ভাঁড়ারে। এখানে তেমনই কিছু জিনিসের তালিকা করেছি যেগুলি একসময় ভারতের মুকুটের পালক ছিল।

কোহিনূর হীরে

বিশ্বের সবথেকে বড় হীরে ‘কোহ-ই-নূর’। ওজন ২১.৬ গ্রাম। ১০৫.৬ মেট্রিক ক্যাডেটস হীরকখণ্ড। গোয়ালিয়রের গোলকোন্ডার খনি থেকে পাওয়া যায় কোহ-ই-নূর। রাজপরিবারের রত্নাকর দাম নির্ণয় করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘পুরো পৃথিবীর অর্ধদিনের ব্যয় নির্বাহ করা যাবে এই হীরে দিয়ে।’

এখন কোহ-ই-নূর ব্রিটিশ রাজ পরিবারের হাতে। রাজমুকুটের শোভা বাড়াচ্ছে। ইংরেজরা কোহ-ই-নূর হীরে চুরিক করেছিল না-কি তাঁদের উপহার দেওয়া হয়েছিল, এই নিয়ে বিতর্ক আছে।

টিপু সুলতানের তলোয়ার, আঙটি

যুদ্ধ জয়ের স্মারক হিসাবে ইংরেজ সৈন্যরা টিপু সুলতানের তলোয়ার এবং আঙটি নিয়ে যায় ইংল্যান্ডে। তারপর থেকে এগুলি দেখা যেত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। ২০০৪ সালের নিলামে কিনে টিপু সুলতানের তরোয়াল দেশে ফেরান বিজয় মালিয়া। ভাবা যায়!

মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের সোনার সিংহাসন

এক মুসলিম স্বর্ণকারকে দিয়ে ১৮২০ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে মহারাজা রঞ্জিত সিং সোনার সিংহাসন নির্মান করান। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সিংহাসনটিও হাতছাড়া হয় ভারতীয়দের। এখন এটি সাউথ কেনসিংটন মিউজিয়ামে রাখা আছে।

আরো পড়ুন : ১০ টি হাস্যকর জিনিস যা শুধুমাত্র বাংলা সিরিয়ালেই দেখা যায়

নাসাক হীরে

সম্পূর্ণ নীল রঙের নাসাক হীরাখন্ডটিকে ‘দেবাদিদেবের চোখ’ বলা হত। ৪৩.৩৮ ক্যারেটের নাসাকের ওজন ৮,৬৭৬ গ্রাম। তেলেঙ্গানার মেহেবুবনগরের অমরাগিরি খনি থেকে ১৫ শতাব্দীতে এই হীরে পাওয়া যায়। বিদেশী লুটেরাদের হাতে পড়ে সেটি এখন আছে লেবাননের এক ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়।

সুলতানগঞ্জের বুদ্ধ

সবচেয়ে প্রাচীন ধাতব ভাস্কর্য হিসাবে সুপরিচিত সুলতানগঞ্জের বুদ্ধমূর্তি তৈরি করেছিলেন ভারতীয় ভাস্কর্য ও ধাতুশীল্পীরা। গত ৭০০ বছর এটি মাটির নীচে পোঁতা ছিল। ১৯৬২ সালে ইঞ্জিনিয়ার ইবি হ্যারিস এটির সন্ধান পান। এখন ইংল্যান্ডের আর্ট গ্যালারি এবং বার্মিঙহ্যাম মিউজিয়ামে রাখা আছে এটি।

আরো পড়ুন : যে ১০টি কারণে দ্রৌপদী মহাভারতের আদর্শ নারী এবং সকল নারীর অনুসরণযোগ্য

বুদ্ধপদ

ভারতের বিখ্যাত অমরাবতী ভাস্কর্যের কয়েকটি অংশ বুদ্ধপদ। ১৪০ বছর আগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এটিকেও আত্মসাৎ করে।

শাহজাহানের বাদশাহি পেয়ালা

সাদা নেফ্রাইট পাথর কেটে তৈরি শাহজাহানের পেয়ালা। পদ্মের পাপড়ির আকার পাওয়া যায়। রাখা আছে ভিক্টোরিয়া এবং অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে। তাদের ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, এই পেয়ালায় নাকি চীনা রীতির আদল আছে।

আরো পড়ুন : ভারতের সবচেয়ে পবিত্র ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ এর নাম, অবস্থান ও তাদের সৃষ্টির ইতিহাস

শ্বেতশুভ্র সরস্বতী মূর্তি

মধ্যভারতের ভোজশালার মন্দিরে ছিল অপূর্ব সাদা সরস্বতী প্রতিমা। মন্দির থেকে সেটি চুরি যায়। পরে ১৮৮৬ সালে এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দেখা যায়।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন