করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ৬ টি ভ্যাকসিন

করোনা ভাইরাসের ছোবলে পুরো বিশ্ব জুড়ে সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ৪২ লক্ষ, যার মধ্যে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সময় সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা দিনরাত এক করছেন করোনাভাইরাসের উপযুক্ত ভ্যাকসিন তৈরি করতে। এখনো পর্যন্ত, প্রায় ১০০ টির মত দল এই গবেষণায় নিযুক্ত।

জানা যাচ্ছে করোনার উপযুক্ত ভ্যকসিন তৈরি করতে ১ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। আসলে পর পর অনেকগুলি গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্নয় করা সম্ভবএটি মানুষের জন্য উপযুক্ত কি না। কিন্তু ইতিমধ্যেই WHO কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য কতগুলো ভ্যাকসিনগুলি সনাক্ত করছে, যার মধ্যে চারটি ভ্যাকসিন কার্যকর ও সুরক্ষিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যাসাচুসেটস ভিত্তিক মোদোর্না টিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ম্যাসাচুসেটস-ভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা মোডার্না, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি এবং ইনফেকসাস ডিসিসেস(এনআইএআইডি) এর সহযোগিতায় একটি আর.এন.এ. ভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরি করছে। এই প্রতিষেধক মেসেঞ্জার আর.এন.এ. ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করে। ভ্যাকসিনটির নাম এম আর.এন.এ.-১২৭৩ যা ইতিমধ্যেই প্রথম পর্বের ট্রায়ালে রয়েছে। এটি ভাইরাল প্রোটিন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরকে করোনা ভাইরাসের-এর বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম করে তোলে।

বেইজিং ভিত্তিক সিনোভেক বায়োটেক

চিনের এই বায়োফর্মাসিউটিক্যাল সংস্থাটি এই মারন ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বকে অনেকটাই আশার আলো দেখাচ্ছে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই সংস্থাই প্রতিষেধক তৈরি করেছিল। চিনের বিজ্ঞানীরা কোরোনাভাইরাস প্রতিষেধক হিসেবে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে এবং সেটা বানরের শরীরে পরীক্ষা করেছেন বলে জানিয়েছে। করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বানরগুলির উপর এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় এই টেস্টে বানরগুলি করোনা ভাইরাস থেকে অনেকাংশে মুক্তি পেয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি বর্তমানে মানুষের উপর পরীক্ষার জন্য ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রয়েছে। নিজেদের তৈরি করা এই করোনা প্রতিষেধকের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য এই সংস্থা কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে।

ফাইজার এবং বায়োএনটেক ভ্যাকসিন

জার্মান অংশীদার ফাইজার এবং বায়োএনটেক চারটি উপযুক্ত প্রতিষেধকের উপর এখন পরীক্ষা চালাচ্ছে। তাদের ভ্যাকসিন বিশেষভাবে মোদার্না ভ্যাকসিনের মতই একইরকম যার পরীক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ট্রায়াল। এই ভ্যাকসিনটি ৩৬০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর উপর পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে তারা। সংস্থা দাবি করেছে, এই পরীক্ষা সফল হলে তারা এফডিএ-র থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকেই প্রয়োজনীয় ভিত্তিতে প্রয়োগের অনুমোদন চাইবে।

দি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যেই ‘ChAdOx1 nCoV-19’ নামে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে যেটা সাধারণ কোল্ড ভাইরাসের একটি দুর্বল স্ট্রেন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট মিলিত ভাবে রাত দিন এক করে প্রতিষেধক তৈরির কাজ করে চলেছে। এটি দেহে করোনভাইরাসের বাহক প্রোটিন সনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এই ভ্যাকসিনটি এখন ক্লিনিকাল ফেজ -১ ট্রায়ালে রয়েছে এবং এর সুরক্ষা এবং দক্ষতা যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের কাজে লেগে পড়েছে।

ভারতে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন

তথ্য সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ, ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড(বিবিআইএল) এর সাথে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালাচ্ছে। বলাই বাহুল্য যে ভ্যাকসিনে বিচ্ছিন্ন ভাইরাসের স্ট্রেন ব্যবহার করার জন্য পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (এনআইভি) এর সাহায্য প্রয়োজন হবে। আয়তনের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ ভাবে উদ্যোগ্য নিয়ে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করে চলেছে।

ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস দ্বারা ডিএনএ বেসড টিকা

একটি জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্য পেয়েছিল। ফার্মাসিউটিক্যালসগুলি তার সান ডিয়েগো ল্যাবোরেটরীতে একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি করেছে যা পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুত রয়েছে প্রথম পর্বের ট্রায়াল শুরু করার জন্য। এই ভ্যাকসিনটির নাম দেওয়া হয়েছে আইএনও৪৮০০। ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করার জন্য প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীকে চার সপ্তাহ অন্তর দুটি করে ডোজ দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

বিসিজি ভ্যাকসিন

ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গেরিন বা বিসিজি লাইভ অ্যাটেনিউটেড ভ্যাকসিন আপাতত ফেজ -২ পেরিয়ে তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এই ভ্যাকসিন সাধারণত যক্ষার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কোভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে আক্রান্তদের সুরক্ষায় এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর এবং কতটা সুরক্ষা দেবে মানুষকে, সেই নিয়েই ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রয়েছে এটি।