করোনায় সংক্রমিত ও মৃত রোগীদের মধ্যে রয়েছে এই ৫টি মিল

কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণেও সারা বিশ্বে অব্যাহত মৃত্যুমিছিল। লাশের পাহাড় জমছে প্রতিটি দেশে। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা দিনরাত প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে শত্রুকে মারতে হলে জানতে হবে তার দূর্বলতা। এ ক্ষেত্রে করোনার চরিত্র একবার জানতে পারলেই এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারবেন বলে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। তবে বিশেষজ্ঞরা করোনায় আক্রান্ত ও মৃতদের মধ্যে ৫ টি মূল মিল পেয়েছেন।

১) সংক্রমণের বয়সঃ গবেষনায় দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাসে সব থেকে বেশি সংক্রমিত  হচ্ছেন ৪০ বছরের ব্যক্তিরা আর সব থেকে বেশি মারা যাচ্ছেন ৭০-এর অধিক বয়সের ব্যক্তিরা। চিনের উহান হাসপাতালে মোট ১৯১ জন মৃত ব্যক্তির উপর সমীক্ষা করে দেখা যায় যে তাঁদের সকলের বয়স ৭০-এর অধিক। এর কারণ হিসেবে ৭০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দায়ীয়ে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২) মৃতের তালিকায় পুরুষের আধিক্য : গবেষনায় দেখা গেছে করোনায় মৃতদের মধ্যে নারীদের থেকে দ্বিগুন সংখ্যায় পুরুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, নারীরা পুরুষদের থেকে অনেক বেশি সুস্থ জীবনযাপন করেন। এছাড়াও কিছু জিনগত ও হরমোনের পার্থক্য থাকায় নারীদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। ফলে করোনা সহজে নারীদের কাবু করতে পারছে না।

শচীনের ৩০ টি রেকর্ড যেটা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি

৩) অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা : যারা অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের শরীর আগে থেকেই দূর্বল, ফলে তাঁদের করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা বেশি। যাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যেমন, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, যকৃতের রোগ, কিডনির সমস্যা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা আগে থেকে রয়েছে তাঁদের করোনা সংক্রমন বেশি হচ্ছে। উহানের বিশেষজ্ঞরা সমীক্ষা করে বলছেন, যাদের শরীরে এগে থেকেই এই সমস্যা রয়েছে সংক্রমণের পর তাঁদের স্বাস্থ্যের অবনতি বেশি হচ্ছে। ফলে তাঁদের মধ্যে মারা যাওয়ার সংখ্যাও বেশি।

৪) স্থূলতা : বিশেষজ্ঞরা বলছেন যাদের শরীরে মেদ বেশি তাঁরা করোনায় বেশি মারা যাচ্ছেন। গত মাসে এনএইচএসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন তাঁদের দুই তৃতীয়াংশের শরীরের মেদ বেশী। যুক্তরাজ্যের সমীক্ষা অনুযায়ী হাসপাতালে যেসমস্ত করোনা সংক্রমিত রোগী পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে তাঁদের ৬৩ শতাংশ মানুষের মেদ বেশি।

আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন এবং কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন

৫) রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা : শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে শরীরে সহজেই বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, অস্থি প্রতিস্থাপন, ক্যান্সারের চিকিৎসা এরকম বিভিন্ন কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আবার এইচআইভি এইডস্‌ ও কর্টিকাস্টরয়েডের দীর্ঘ ব্যবহারের ফলেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আবার জেনেটিক কারনেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। সমীক্ষা করে দেখা গেছে মৃতদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় ভাইরাস সহজেই তাঁদের কাবু করতে সক্ষম হয়েছে।