করোনার জন্য ক্রিকেটের এই ৫টি নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত

করোনার জন্য ক্রিকেটের এই ৫টি নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত

বর্তমানে চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া কোরোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিশ্ব মহামারীর পরিবেশের জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে একটি বিরাট সমস্যা দেখা গেছে। পৃথিবীর ১৯০ টি দেশে এই ভাইরাস থাবা বসিয়েছে এবং সবথেকে আশঙ্কাজনক বিষয় যে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাকেই একমাত্র উপায় বলা হচ্ছে যার ফলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষ এখন ঘরবন্দী। অন্যদিকে আইপিএল এর মতনই নানান খেলা বাতিল হয়েছে বিশ্ব জুড়ে। শুধু ক্রিকেট নয় টোকিও অলিম্পিক্স কেও এক বছরের জন্য পিছিয়ে দাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশ্ব মহামারীর পরবর্তী সমযয়ে ক্রিকেট ম্যাচগুলোতে নিরপত্তার জন্য কিছু নিয়ম তৈরি হওয়া উচিত। দেখে নাওয়া যাক এইরকম পাঁচটি নিয়ম।

১. বলে থুতু লাগানো :- বোলিং করার আগে বোলার বলে থুতু লাগিয়ে নেন। এই দৃশ্যটি সকল ক্রিকেট প্রেমীদের ভীষন চেনা এবং ক্রিকেট মাঠে প্রায়ই দেখা যায়। এই থুতু বোলারদের সুইং পেতে সাহায্য করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে গবেষকরা বলেই দিয়েছেন যে লালারস থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশী, সেক্ষেত্রে এই কাজটি অন্য ব্যাক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইসিসি এর তরফ থেকে এই কাজটি বন্ধ করার জন্য নিয়ম বানানো উচিৎ। এর ফলে যেকোনো রকমের সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।ব্যাক্তি সংক্রমিত হোক কিংবা না হোক কিন্তু এটি একটি নিয়ম গড়ে তোলা উচিৎ।

আরও পড়ুন :- ৫ ব্যাটসম্যান যারা তাদের ক্রিকেট কেরিয়ারে একটাও ৬ মারেননি

২. হ্যান্ডশেক বন্ধ করা :- হ্যাণ্ডশেক ক্রিকেটের মাঠে একটি পরিচিত দৃশ্য। প্রতিটা ম্যাচের আগে উভয় দলের অধিনায়করা টসের সময় পরস্পরের সাথে হ্যান্ডশেক করেন। আবার অন্যদিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে দুই দলের খেলোয়াড়রা পরস্পরের সাথে হ্যান্ডশেক করেন। এটিকে বরাবরই খেলোয়াড় সুলভ নিয়মের মধ্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব মহামারীর পরবর্তী সময় এটিকে বাতিল করা উচিত।  যেহেতু আমরা জানি যে গবেষকদের মতে দুজন ব্যাক্তির মধ্যে হ্যান্ডশেক এর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে।

আরও পড়ুন :- ৩ ভারতীয় ক্রিকেটার যাদের নামে গিনিস রেকর্ড আছে

৩. দর্শক বিহীন ম্যাচ :-  বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিকেটের দর্শকদের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে যদি খেলা নিয়ম মাফিক করতে হয় সেখানে একটাই উপায় থাকে দর্শক ছাড়াই ম্যাচ খেলা হবে। এমনকি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে এইভাবে বেশ কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে গ্যালারিতে কোনো দর্শক নেই। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের দিকে সম্পূর্ণ নজর দিতে হবে এবং সম্পুর্নভাবে তাদের পরীক্ষার পরই খেলা অনুষ্ঠিত করা যাবে। বিসিসিআই এর তরফ থেকেও এমন ভাবনার কথা সামনে এসেছে। এই উপায় খেলা চালিয়েও যাওয়া যাবে এবং গোষ্ঠী সংক্রমণের অবকাশ থাকবে না।

আরও পড়ুন :- ভারতীয় ক্রিকেটারদের ১০টি রেকর্ড যেটা এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি

৪. দর্শকদের শারীরিক পরীক্ষা এবং স্যানিটাইজেশন :- মানুষ স্টেডিয়ামে ছুটে যান তাদের পছন্দের দলকে সমর্থন করার জন্য। বর্তমান বিশ্ব মহামারীর এই পরিস্থিতির পর ভক্তরা আবার স্টেডিয়াম মুখী হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। সেক্ষেত্রে ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড সাধারণ ক্রিকেট কে আবার ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে এবং তারজন্য খেলোয়াড় এবং দর্শক দেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা নিয়েছে। ঠিকভাবে স্যানিটাইজেসন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরই দর্শকরা স্টেডিয়ামের মধ্যে ম্যাচ দেখার জন্য ঢোকার অনুমতি পাবেন। লকডাউন পরবর্তীকালে ক্রিকেটের ম্যাচে নিরাপত্তার খাতিরে শারীরিক পরীক্ষা এবং স্যানিটাইজেশন বাধ্যতামূলক করা উচিত।

আরও পড়ুন :- করোনার জেরে যে ৫ ক্রিকেটারের ভারতীয় দলে অভিষেক বিলম্বিত হবে

৫.সামাজিক দূরত্বের জন্য জ্যামপ্যাকড স্টেডিয়াম :- যেহেতু এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমন আটকানোর জন্য কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, তাই বর্তমানে এই সংক্রমন আটকানোর একমাত্র উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এক্ষেত্রে বিশ্বের ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। সেক্ষেত্রে দর্শকদের ম্যাচ দেখতে হলে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ম্যাচ দেখার জন্য নিয়ম করা উচিত। এর ফলে তারা যেমন তারা ম্যাচ দেখতে পারবে তেমনই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হবে।