দেবাদিদেব শিবের ৫টি রহস্য! চ্যালেঞ্জ করছি আপনি জানেন না

125

আজ মহা শিবরাত্রি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিব লিঙ্গে জল অর্পণ করবেন। নারীরা শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনা করবেন। কিন্তু কে এই শিব বা মহাদেব? কেনই বা তাঁকে নিয়ে নারীরা এত মাতামাতি করেন! যে কৃষ্ণর লীলায় মনে প্রেমের জোয়ার আসে সেখানে কেন হঠাত্‍ প্রেমিক থেকে স্বামীর বেলায় সটান কৃষ্ণ থেকে মহাদেব! প্রশ্ন তো অনেকের মনেই জাগে। শুধু নারী নয় পুরুষ মনেও শিবের জন্য স্বর্গদ্যানের দরজা খোলা।

শিব ঠাকুর কিসের দেবতা?

যার মতো স্বামী চাই নারীরা। যেমন ধরুন – বরুণ জলের দেবতা। সরস্বতী বিদ্যার দেবী। তাহলে শিব ঠাকুর কিসের দেবতা? এই প্রশ্নটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। শিব ঠাকুর আসলে জ্ঞাণের দেবতা। দেবী সরস্বতীকে পুজো করলে যেমন বিদ্যা-বুদ্ধি পাবেন। তেমনই জ্ঞাণী হতে গেলে আপনাকে শিবের উপাসক হতে হবে। শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনার অর্থ হলো জ্ঞাণী স্বামীর প্রার্থনা। এটা হয়তো অনেকেই জানেন না। তাই বুঝে বা না বুঝেই অনেকেই শিবের মত স্বামীর প্রার্থনা করেন।

দেবাদিদেব শিবের ৫টি রহস্য! চ্যালেঞ্জ করছি আপনি জানেন না

শিবলিঙ্গ বলতে কী বোঝায়?

সকলেই তো পরম ভক্তির সাথে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে এলেন। জানেন শিবলিঙ্গে জল ঢাললেন, মানে জলটা আসলে কোথায় ঢাললেন? অর্থাৎ শিবলিঙ্গ বলতে আপনি ঠিক কি বোঝেন? সত্যিই শিব ঠাকুরের ‘লিঙ্গে’ জল ঢেলে এলেন? নাকি শিবের মাথায় (বাবার মাথায়)? এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেই সাধারণত দুটো উত্তরই পাওয়া যায়। কেউ বলেন, লিঙ্গে জল ঢেলে এসেছেন, আবার কেউ মাথায় জল ঢেলে এসেছেন। আসল কথা হলো কোনটিই সঠিক নয়। ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থই এখানে ভুল হয় আমাদের। ‘লিঙ্গ’ কথার অর্থ হল ‘বাস’ বা ‘বাসস্থান’। অর্থাত্‍ শিবলিঙ্গ হলো শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন। এখন বুঝলেন, আপনি জলটা আসলে কোথায় ঢেলে এলেন!

শিবলিঙ্গের নিচে গোল জিনিসটি আসলে কি?

শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর যে গোল চাকতি দিয়ে জল বেরিয়ে যায়, সেটি আসলে কি জানেন? বেশিরভাগ মানুষের কাছে সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। আসলে ওটি পার্বতীর পিঠ। পুরাণ শাস্ত্র অনুযায়ী, জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। আর শক্তির মূল উত্‍স হলো পার্বতী, দুর্গা বা নারী। নারী শক্তির উপর ভিত্তি করেই জ্ঞান বিকশিত হয়। সত্যি এটাই। আর যদি সত্যিই পুরুষশাসিত সমাজ এই ছোট্ট সারমর্মটা বুঝতো, তাহলে সমাজের এই রূপ বদলে যেত। আসল কথা হলো শক্তির উত্‍স নারী আর জ্ঞাণের উত্‍স পুরুষ। সে কারণেই রাক্ষস কিংবা অসুরদের বধ করার জন্য হাজার হাজার পুরুষ দেবতাকে দুর্গার আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। আর বর্তমান পুরুষ সমাজও যদি এটা উপলব্ধি করতে পারতো তাহলে নারী নির্যাতনও হতো না।

শিব এত নেশা করেন কেন?

আর আপনিও কেন এমন শিবের মত নেশাভাঙ্গ করা স্বামী খোঁজেন? স্মার্ট-ঝকঝকে পুরুষ বাদে কেন ছাই ভস্মমাখা স্বামীকে বিয়ে করবেন? আসলে জ্ঞাণীর বড় জ্বালা। সে যে কথা বলবে তা বেশির ভাগটাই হবে উলুবনে মুক্তো ছড়ানো। তাই জ্ঞাণী আর সাধারণের এই ভেদ ওয়াঘা সীমান্তের থেকেও শক্ত সীমান্ত। ভাঙার কোনও সুযোগ নেই। তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞাণী একা হয়ে পড়বে। একা মানুষের জীবনেও তো পার্বতী থাকে। কিন্তু আবার পার্বতীদের দশের সেবা করতে হয়। ফলে জ্ঞাণী শিব আরও একা হয়ে পড়েন। তাই একাকিত্ব কাটানোর জন্য ছাইপাস নেশার আশ্রয়। সামান্য শান্তি, ক্রোধ এবং কামকে সামান্য সংযমী করার চেষ্টা। আর হ্যাঁ, একা এই মানুষটার দেখাশোনার জন্যও প্রেমে পড়ে যায় নিরাকার দু-একজন নন্দী-ভৃঙ্গী। জ্ঞাণীর জন্য ওটুকু আশ্রয়ই যথেষ্ঠ, একটু নেশা -শান্তি – নন্দী-ভৃঙ্গী।

কীভাবে শুরু হয়েছিল শিবরাত্রি ব্রত? জেনে নিন পুরো কাহিনী

প্রতিদিন দুপুর ১টায় গভীর সমুদ্রের মাঝে এই মন্দিরে জেগে ওঠেন মহাদেব

মানুষ, দেবতা কিংবা শয়তানদের মধ্যে শিবের থেকে সেরা সৃষ্টিকর্তা আর কে আছেন? সবার সবথেকে বড় সমস্যা রিপু হলো ওই ক্রোধ। রাগই শেষ করে দেয় মানুষ, দেবতা থেকে শয়তানকে। দুনিয়ার সব মানুষ, দেবতা অথবা শয়তানকে ব্যাখ্যা করে আসুন কিন্তু শিবের মত বিকল্প পাবেন না। তিনিই একমাত্র যিনি রাগলে তাণ্ডব করেন। নাচেন। মানে কলা প্রদর্শন করেন। তাঁর রাগের বহিঃপ্রকাশ এতটাই সুন্দর যে, তাঁকে ‘নটরাজ’ও বলা হয়। কী বলবেন এই গুণকে? প্রেমে না পড়ে উপায় আছে!

তাহলে! বেড়ে ওঠার সেই প্রথম জীবনের কৃষ্ণের মতো প্রেমিককে আর মনে জায়গা দেওয়া সম্ভব! হৃদয় জুড়ে শিব এতটাই জায়গা করে নিয়েছেন যে, আপনার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কৃষ্ণ বড়জোড় আপনার আশ্রয় হতে পারে। কিন্তু আপনিই হতে পারেন ওই ‘অগোছালো’ শিবের বড় ‘আশ্রয়’। নারী শুধুই শক্তির প্রতীক নয়, সে ভালোবাসতেও দরাজ।