মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ৫ টি গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প

“Women empowerment” নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, একটা কথা আজও সত্যি যেই দেশে মেয়েরা যে পিছিয়ে পড়ে আছে। মেয়েদের এগিয়ে দিতে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবং তার জন্য কিছু দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক এগুলি কি কি।

১. বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও

beti bachao beti padhao scheme

২০১৫ সালের২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী (beti bachao beti padhao scheme) প্রকল্পের সূচনা করেন। এই প্রকল্পের মূল দিক হলো কন্যা ভ্রুণ হত্যা বন্ধ করা এবং মেয়েদের শিক্ষা সুনিশ্চিত করা। দেশের মধ্যে যে সমস্ত জেলায় পুরুষদের তুলনায় নারীর জনসংখ্যার অনুপাত কম সেই সব জায়গায় এই প্রকল্পের অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। লিঙ্গ সাম্য প্রতিষ্ঠা, মেয়েদের সম্পত্তির অধিকারে সমর্থনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিক গুলিও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

২. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পের সাথে একই দিনে (sukanya samriddhi yojana) প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় কোন কন্যা সন্তান মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকের সাথে জয়েন্ট একাউন্ট খুলতে পারবে যেখানে একাউন্টে প্রথম নাম সেই কন্যাসন্তানের হবে। ১০ বছর বয়স হওয়ার আগে এই একাউন্ট খুলতে হবে এবং পরবর্তী ১৫ বছর বা বিয়ে পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট খোলা রাখা যাবে। একাউন্ট খোলার দিন থেকে পরবর্তী ২১ বছরে এই প্রকল্প সম্পূর্ণতা পায়।

Sukanya Samriddhi Yojana

এই অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ২৫০ টাকা এবং উর্ধতম দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখা যাবে। প্রথমে সুদের হার ৯.১ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে সুদের হার ৭.৬ শতাংশ। দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কারছাড় পাওয়া যাবে এই অ্যাকাউন্ট থেকে। কন্যার বয়স ১৮ বছর হলে, উচ্চশিক্ষার জন্য অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে।

৩. বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা

দরিদ্রসীমার নিচে অবস্থিত কন্যা সন্তানদের জন্য এটি একটি স্কলারশিপ প্রকল্প। বাল্যবিবাহ রোধ করা এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়াকে সুনিশ্চিত করা এই প্রকল্পের অন্যতম অংশ। কন্যা সন্তানের জন্মের পরই তার মাকে ৫০০ টাকা দেওয়া হবে এই প্রকল্পের দরুন। এছাড়া স্কুলে পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বছরে ৩০০ টাকা এবং চতুর্থ শ্রেণীতে বছরে ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। পঞ্চম শ্রেণীতে বছরে ৬০০, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে বছরে ৭০০, অষ্টম শ্রেণীতে এবং নবম শ্রেণীতে বছরে ৮০০, দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে বছরে হাজার টাকা পাওয়া যাবে। কন্যার ১৮ বছর বয়সের পর প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নেওয়া যাবে।

৪. সিবিএসই উড়ান প্রকল্প

দেশের প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কারিগরি শিক্ষার কলেজের মেয়েদের ভর্তি বাড়ানোর জন্য ভারত সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। সমাজে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর অন্তর্গত ১০০০ জন ছাত্রীকে প্রত্যেক বছর এই সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাছাই ছাত্রীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় কনটেন্ট লোড করে প্রথমেই একটি ট্যাব দেওয়া হয়।

cbse udaan scheme

এই প্রকল্পের জন্য প্রত্যেক রাজ্যে শিক্ষক এবং প্রিন্সিপাল নিয়োগ করা ছাড়াও বিনামূল্যে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের কোর্স কনটেন্ট এবং অনলাইন পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ মেধাসম্পন্ন ছাত্রীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে এই প্রকল্পে। ছাত্রীদের পড়াশোনা এবং অগ্রগতি নথিভূক্ত করা হয় প্রকল্পের আওতায়।

৫. মেয়েদের শিক্ষায় কেন্দ্রীয় ইনসেনটিভ

দেশের অনগ্রসর শ্রেণির মেয়েরা, বিশেষত যারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেছে তারা যাতে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা এবং সাক্ষরতা বিভাগ এই প্রকল্পের পরিচালনা করে। প্রকল্পের আওতাধীন মেয়েরা তাদের নামে ৩০০০ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট পেয়ে থাকেন এবং দশম শ্রেণির পরীক্ষার পরে ও ১৮ বছর বয়স হলে এই ফিক্স ডিপোজিট এর অর্থ তারা তুলতে পারবেন। তার আগে কোনো রকম অর্থ তোলা যাবে না।

তপশিলি জাতি এবং জনজাতিভুক্ত মেয়েদের বাদে যদি অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীর মেয়েরা কস্তুরবা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণী পাস করেন, সেক্ষেত্রে তারা এই সুবিধা পাবেন। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ১৬ বছরের নিচে হতে হবে। বিবাহিত মেয়ে এবং বেসরকারী বা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান মেয়েরা এই সুবিধা পাবেন না।