অনন্যা ৫ ভারতীয় নারী স্বাধীনতা সংগ্রামী যাদের সম্পর্কে আমরা জানি না

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- সবাই এই আন্দলনে যোগদান করেছিলেন। আর এই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অনেকটা প্রদীপের সলতের মতো। একদিকে তারা নিজেদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে দূরে সরিয়ে বিপ্লবের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন তাদের স্বামী, সন্তান ও ভাইদের। অন্যদিকে তারা কখনও ঘরের ভেতর থেকে কখনও বাইরে বেরিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। নারীশক্তি ছিল এই আন্দলনের এক বিশাল বাহিনী এবং তখনকার পিতৃশাসিত সমাজে এটি একটি মহান ঘটনা। যেহেতু বাংলা এই সংগ্রামে খুবই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, এই প্রয়াসে আমরা বাংলার এমনই কিছু নেত্রীদের কথা আজ আমরা জেনে নেব।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন নারীরাও। বন্দুক চালিয়েছেন, পাচার করেছেন ইংরেজদের গুপ্ত খবর। এরপরেও স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে খুব বেশী নারীর নাম জানি না আমরা।
এটা অবশ্যই আমাদের শিক্ষার ব্যার্থতা। কারণ ঝাঁসির রানী, কস্তুরবা গান্ধী, সরোজিনী নাইডুদের নাম না জানা অপরাধ। ১৮২৯ সালের সতীদাহ প্রথা রদ থেকে ১৮৫৬ সালের বিধবা বিবাহ আইনের মাধ্যমে পশ্চিমী শিক্ষার আলো স্পর্ষ করেছিল ভারতীয় নারীকেও। শিক্ষা থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অংশ নিচ্ছিলেন নারীরাও। বলা যায়, সেইসময় থেকেই প্রকৃত নারী প্রগতির শুরু। এখানে আমরা বেছে নিয়েছি তেমনই প্রগতীশিল ৫ নারী নিজ ক্ষেত্রে যারা পথিকৃৎ।

১) চন্দ্রমুখী বসু এবং কাদম্বরী গাঙ্গুলি

এরাই প্রথম নারী যারা শিক্ষাক্ষেত্রে স্নাতক হন। ১৮৮২ সালে বিএ পরীক্ষা উর্তীর্ণ হন কাদম্বরী গাঙ্গুলি। এর ২ বছর পরেই প্রথম ভারতীয় নারী হিসাবে এমএ পরীক্ষায় পাশ করেন চন্দ্রমুখী বসু। অধ্যাপক হিসাবে যোগ দিয়ে বেথুন কলেজের অধ্যক্ষ হন। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কোনও স্নাতকোত্তর অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠার প্রথম মহিলা প্রধান হিসাবে নাম লেখান ইতিহাসের পাতায়।

২) স্বর্ণকুমারীদেবী (১৮৫৫ থেকে ১৯৩২)

মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৮৭৬ সালে প্রথম নারী লেখিকা হিসাবে তাঁর উপন্যাস প্রকাশ পায়। ‘সখী সমিতি’ নামে একটি সংস্থা স্থাপন করেন ১৮৯৬ সালে। তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসগুলি হল, খাকি (১৮৯৮), বিচিত্রা (১৯২০) এবং মিলনরাত্রি (১৯২৫)।

৩) রাম্বাই রানাডে (১৮৬২ থেকে ১৯২৪)

১৮৮৩ সালে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে ইংরেজীতে জনসভা করেছিলেন রাম্বাই রানাডে। তিনি হিন্দু মহিলা সামাজিক ও বোম্বে সাহিত্য ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। অল ইন্ডিয়া উইমেন কনফারেন্সের সভাপতি ছিলেন। ১৯১৫ সালে সেবা সদন স্থাপ্নে গুরুতবপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে আজও কাজ করে যাচ্ছে রানাডের প্রতিষ্ঠিত সেবা সদন।

৪) সিস্টার নিবেদিতা

জন্মসূত্রে আইরিশ। ১৮৯৫ সালে বিবেকানন্দের সঙ্গে আলাপ। ১৮৯৮ সালে ভারত আসেন। তাঁর লেখা ‘কালী দ্যা মাদার’ গ্রন্থ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতমাতার ছবি আঁকেন। কলকাতায় প্লেগের মহামারীর সময় অসুস্থ মানুষদের বুক দিয়ে সেবা করেন। বসু বিজ্ঞান মন্দির স্থাপনের জন্য নিজের সব কিছু দান করে দেন।

৫) ঊষা মেহেতা (১৯২০ থেকে ২০০০)

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও ট্রান্সমিটার পরিচালনা করেছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলে থাকাকালীন পড়াশোনার জন্য বৃত্তি দেওয়া হত তাঁকে। ১৯৯৮ সালে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয় ঊষা মেহেতাকে।