বোলার হিসেবে খেলা শুরু করে দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যান হয়েছেন যে ৫ ক্রিকেটার

নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। এই খেলায় খেলোয়াড়রা কেউ বল হাতে তো কেউ ব্যাট হাতে খেলার জগতে ইতিহাস তৈরী করেন। প্রত্যেক নতুন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে তার পছন্দের ক্রিকেট তারকার মতন ব্যাটসম্যান বা বোলার হওয়ার। কিন্তু এমনও কিছু কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের ব্যাট হাতে কীর্তি অবিস্মরণীয় হলেও তাদের আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু বল হাতে। আজকে আমরা এমন পাঁচ জন ক্রিকেট তারকার কথা বলবো যারা প্রথম আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন বল হাতে কিন্তু শেষ করেছেন ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়ে।

ক্যামেরন হোয়াইট :-  ২০০৮ সালে ব্র্যাড হগ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ক্যামেরন হোয়াইট অস্ট্রেলিয়ার স্পিনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। শুরুর দিকে ক্যামেরন হোয়াইটের বোলিং কেরিয়ার বেশ উজ্বল ছিল। বোলিং কেরিয়ারের শুরুর দিকে কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের উইকেট নিলেও পরের দিকে তার বোলিং কেরিয়ারে তিনি উল্লেখযোগ্য কীর্তি ঘটাতে পারেননি।

২০০৯ থেকে ২০১১-তে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিমে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তার জায়গাটা তিনি পাকপোক্ত করে নেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেই তিনি তার ক্রিকেট জীবন শেষ করেন ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে।  ৯১টি ওডিআই ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরি ও ১৬ টি হাফ সেঞ্চুরি সহ ২০৭২ রান করেন এবং ১২ টি উইকেট নেন। এছাড়াও ৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৫টি হাফ সেঞ্চুরি সহ ৯৮৪ রান করেন।

রবি শাস্ত্রী :- সাধারণত রবি শাস্ত্রীকে আমরা ব্যাট হাতেই বেশি চিনি, কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে যখন তিনি প্রথম টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তখন তিনি ১০ নম্বরে ব্যাট করেছিলেন।  তখন তিনি ভারতীয় দলের একজন বোলার ছিলেন। প্রায় ১৮ মাস সময় পার হওয়ার পর তিনি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামেন। যখন তিনি তার ক্রিকেটের কেরিয়ার শেষ করেন তখন তিনি ৮০ টা টেস্ট ম্যাচে ৩৮৩০ রান ( ১১ টা সেঞ্চুরি) ও ১৫১টি উইকেট নেন এবং  ১৫০টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩১০৮ রান ও ১২৯টি উইকেট নিয়েছিলেন।

শোয়েব মালিক :- প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক একজন অফ স্পিনার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। তিনি তার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে। পরবর্তীকালে তিনি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সব পজিশনেই ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন এবং ব্যাট হাতে তাকে দেখতেই বেশী অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ভক্তরা। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে তার প্রথম ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে না বরং বল হাতে মাঠ মাতিয়েছিলেন।

প্রথম ম্যাচে তিনি জোড়া উইকেট নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে যদিও তাকে সাধারণত ব্যাট হাতেই দেখা গেছে। এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় নিজের জাতীয় দলের হয়ে ৩৫.১৪ গড়ে ৩৫ টি টেস্ট ম্যাচে ১৮৯৮ রান  এবং ৩৪. ৫৫ এর গড়ে ২৮৭ টি একদিনের ম্যাচে ৭৫৩৪ রান  ও ১৫৮টি উইকেট এবং ১১৩টি টি-টোয়েন্টিতে ২৩২১ রান ও ২৮টি উইকেট নেন।

সনৎ জয়সুরিয়া :- ক্রিকেটের ইতিহাসের এই অন্যতম সেরা খেলোয়ায়ের গড় ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ৩০ এর ওপরে ওঠেনি। তার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ যেখানে তিনি ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট জেতেন। ৬টা ম্যাচে তার স্কোর ছিল ২২১ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩১.৫৫।শুধু তাই নয়, তিনি শ্রীলঙ্কার হয়ে মোট ৭ টি উইকেট নিয়েছিলেন।তিনি অবসরের আগে শ্রীলঙ্কার হয়ে ৫০০ টা ম্যাচ খেলেছিলেন যার মধ্যে ৪৪৫ টি ম্যাচই ৫০ ওভারের ছিল এবং সেই ৪৪৫ টি ম্যাচে ৯১.২২ এর স্ট্রাইক রেটে ১৩৪৩০ রান করেন।

স্টিভ স্মিথ :- স্টিভ স্মিথ তার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেন ২০১০ সালে লর্ডসে। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ স্থানীয় ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন। একজন স্পিন বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করে তিনি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে সেরাদের পর্যায়ে নিয়ে যান। বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি।

এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেটে ৭৩টি টেস্টে ৬২.৮৪ এর গড়ে ৭০০০ এর বেশী রান করেছেন ২৬টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এবং ১২৫টি ওডিআইতে ৯ টি সেঞ্চুরি সহ করেছেন ৪১৬২ রান। যেসব খেলোয়াড় ৭০০০ এর বেশী রান করেছেন তাদের মধ্যে এই গড় সর্বোচ্চ।