করোনার জেরে ক্রিকেটে বদলে গেল ৫টি নিয়ম, সিলমোহর ICC-র

কোরোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে খেলার মাঠেও। অনেক খেলাই বাতিল করতে বাধ্য হন উদ্যোক্তারা। অনেক জল্পনার পর এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল আইসিসিও। নিজেদের এই সিদ্ধান্তগুলো মঙ্গলবার নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পেশ করে এই বিষয় বিস্তারিত জানালো আইসিসি। কোরোনা পরিবর্ত বা COVID-19 রিপ্লেসমেন্ট। ‘কনকাশন’ সাবস্টিটিউট এর পর ক্রিকেটে এটি একটি নতুন সংযোজন।

কিছুদিন আগে  ইংল্যান্ড ও ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডই (ECB)  আইসিসি’র কাছে একটি প্রস্তাব রাখে। প্রস্তাব ছিল কোরোনা পরবর্তী সময় ক্রিকেট দুনিয়া নিয়ে। কোরোনা এর পরে যখন ক্রিকেট শুরু হবে তখন এই পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু হবে।

কি এই নতুন নিয়ম?

টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন হতে পারে কোনো ক্রিকেটারের কোরোনা ভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়লো। সেক্ষেত্রে তার পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড় ফিল্ডে নামতে পারবেন। এইরকমই কিছু প্রস্তাব এসেছিল আইসিসির কাছে। এবার এই প্রস্তাবেই সায় দিল বিশ্ব ক্রিকেটার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা, আইসিসি। মঙ্গলবার আফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই বিষয় বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়।

কি জানানো হয়েছে আইসিসির তরফ থেকে?

আইসিসি জানায় টেস্ট চলাকালীন কোনো ক্রিকেটার বা ক্রিকেটারদের কোরোনা ধরা পড়লে তার বদলে অন্য ক্রিকেটার খেলতে পারবেন।তবে এক্ষেত্রে নিয়ম হবে কনকাশন সাবস্টিটিউটের মতো। এর অর্থ কার পরিবর্তে কে নামবেন তা ঠিক করবেন ম্যাচ রেফারিই। তবে প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে এই নিয়ম টি টোয়েন্টি এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আর কি কি নিয়ম পরিবর্তণ হচ্ছে?

বলে থুতু :- এবার থেকে বোলার রা গ্রিপের জন্য কোনোভাবেই বলে থুতু লাগাতে পারবেন না। আগে বলার দের সবারই এই অভ্যেস কম বেশী ছিল। সেক্ষেত্রে অভ্যাসের বশে কোনো খেলোয়াড় যদি এটি করে তবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে আম্পায়ারকে।বারংবার যদি কেউ এই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেবে আইসিসি।

প্রতি ইনিংসে এই বিষয় বোলিং করা দলকে সতর্ক করার দায়িত্ব আম্পায়ারের। তার বেশী যদি ভুল হয় তবে বিপরীত দল অর্থাৎ যে দল ব্যাটিং করছে তারা পাঁচ রান পেনাল্টি হিসেবে পাবে। কোনো কারণে বোলার এই কাজটি করলে বোলার কে সতর্ক করবে আম্পায়ার।

আরও পড়ুন :- ক্রিকেটের এই ১০টি রেকর্ড কোনদিন কারোর পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়

আম্পায়ারের নিরপেক্ষতা :- ক্রিকেটের ক্ষেত্রে সবসময়ই নিরপেক্ষ আম্পায়ার প্রয়োজন। যাতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। কিন্তু আপাতত সেই নিয়ম বাতিল করা হল। আপাতত বলা হয়েছে যে ম্যাচ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় আম্পায়াররাই।

আরও পড়ুন :- ৩ ভারতীয় ক্রিকেটার যাদের নামে গিনিস রেকর্ড আছে

অতিরিক্ত DRS রিভিউ :- ডিআরএস নষ্ট হলেও কোরোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে  প্রতি ইনিংসে অতিরিক্ত একটি করে ডিআরএস (DRS) দাওয়া হবে দুই দল কে। আম্পায়ারদের যাতে ম্যাচ পরিচালনা করতে সুবিধা হয় সেইজন্যই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। এর পর যখন বাইশ গজে খেলা শুরু হবে তখন টেস্টে তিনবার এবং এবং সাদা বল ফরম্যাটে দুবার ভুল ডিসিশন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন :- ১০ ক্রিকেটার যারা দুই দেশের হয়ে খেলেছেন, তালিকায় ৩ জন ভারতীয়

অতিরিক্ত লোগোর ব্যবহার :- আগে এই লোগো ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কড়া ছিল আইসিসি, কিন্তু এখন থেকে এই বিষয় নরম হচ্ছে আইসিসি। সাধারণত টেস্টের ক্ষেত্রে তিনটি লোগো ব্যবহার করা যায় কিন্তু এখন থেকে তার সাথে বুকের কাছে (শার্ট ও সোয়েটারে) ৩২ বর্গ ইঞ্চির একটি লোগো ব্যবহার করা যাবে। তবে এই লোগো লাগানোর অনুমতি শুধুমাত্র সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়েছে।