ভারতের ১২ টি ঐতিহ্যময় রেল স্টেশন যা মুগ্ধ করে সবাইকে

কোনও রেল স্টেশনের নির্মাণকার্য মুগ্ধ করে, কোনওটা আবার স্থান পেয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়। আমাদের দেশেই রয়েছে এমন কিছু রেল স্টেশন যা যুগ যুগ ধরে ভারতের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে।

Source

১) ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস

ভারতের ব্যস্ততম স্টেশনগুলির অন্যতম ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস মধ্য রেল এবং মুম্বাই আন্তঃনগরীয় রেলের প্ৰান্তিক স্টেশন। এটির নকশা করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি ফ্ৰেডরিক উইলিয়াম স্টিভেন্স। ১৮৮৭-৮৮ সালে তৈরি করা হয়। সময় লেগেছিল ১০ বছর। ভারতের সেই সময়ের শাসন সম্ৰাজ্ঞী যুক্তরাজ্যের রাণী ভিক্টোরিয়ার শাসনের স্বর্ণজয়ন্তী বৰ্ষে (১৮৮৭) এটি নিৰ্মাণ হয় বলে স্টেশনটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ভিক্টোরিয়া টাৰ্মিনাস’ নামে। এই অনবদ্য স্থাপত্যশৈলীর শিল্পনিদৰ্শনটি অতীতে গ্ৰেট ইণ্ডিয়ান পেনিনসুলা রেলওয়ের প্রধান কাৰ্যালয় ছিল। ১৯৯৬ সালে, শিবসেনার দাবী অনুযায়ী এবং ‘ভারতের স্থানীয়নাম পরিবৰ্তনের নীতি’ অনুযায়ী রাজ্য সরকার সপ্তদশ শতাব্দীর মারাঠা সম্ৰাট ছত্রপতি শিবাজীর নামানুসারে স্টেশনটির নাম পরিবৰ্তন করে। ২০০৪ সালেট ২ জুলাই, ষ্টেশনটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মৰ্যাদা লাভ করে।

আরো পড়ুন : রেলের ফ্রী ওয়াই ফাই বদলে দিল কুলি, প্রশিক্ষক, অটো চালকের জীবন

Source

২) কচিগুড়া স্টেশন

নিজাম ওসমান আলি খানের জামানায় এই স্টেশন তৈরি হয় ১৯১৬ সালে। একশো বছরের প্রাচীন শৈলীতে বানানো স্টেশনের ঘর, পুরনো সিড়ি। স্টেশন সংলগ্ন মিউজিয়ামে দেখা যাবে প্রাচীন নিজামদের আমলের রেলচিত্র।

Source

৩) চারবাগ স্টেশন

বিভিন্ন তলের বিন্যাস, শীর্ষদেশের গম্বুজ, বিভিন্ন তোরণ দেখার মতো। সব মিলে অসামান্য নান্দনিক বিভা। ১৯১৪ সালে এই স্টেশন তৈরি করেন লখনৌয়ের নবাব। জেএইচ হানিম্যান নকশা করেছিলেন এই স্টেশনের। এই স্টেশনেই ১৯১৬ সালে প্রথমবার মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরুর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

আরো পড়ুন : গান্ধীজির খাবারে বিষ মেশাতে অস্বীকার করা রাঁধুনি বটুক মিঞার গল্প

Source

৪) রোয়াপুরম স্টেশন

দক্ষিণ ভারতের রেল স্টেশনগুলির মধ্যে প্রাচীনতম স্টেশন রোয়াপুরম। ১৮৫৬ সালে স্টেশনটি চালু হয়। প্রথমে স্টেশনটির একটি দিক সেনাদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হত। বাকি অংশ ছিল নিত্যযাত্রীদের জন্য। তবে, বর্তমানে নতুন করে স্টেশনটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। লাল-সাদা রঙে গথিক স্থাপত্য সহজে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

Source

৫) গোরক্ষপুর রেল স্টেশন

খড়্গপুরকে পিছনে ফেলে বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মের শিরোপা জিতে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর রেল স্টেশন। এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ১.৩৫ কিলোমিটার।

Rashidpur Railway Station
Source

৬) রশিদপুর খোরি স্টেশন

জানেন কি, রাজস্থানের এই প্রান্তিক রেল স্টেশনটিতে কোনও স্টেশন মাস্টার বা টিটি নেই? গোটা স্টেশনটির পরিচালনা করেন গ্রামবাসীরাই। টিকিট বিক্রির জন্য আলাদা করে কর্মী নিয়োগ করে না রেল। চুক্তির ভিত্তিতে স্থানীয়দেরই সেই দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়।

Begunkodor Railway Station
Source

৭) বেগুনকোদর স্টেশন

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছোট্ট একটা স্টেশন। চারপাশের অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্টেশন মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো। কিন্তু এক অজানা আতঙ্কে এই স্টেশন খালি পড়ে রয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ভূতুড়ে স্টেশন’। শোনা যায়, বহু বছর আগে একদিন মধ্যরাতে এখানে খুন হন স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী। পরে স্টেশনের কাছে এক কুয়োর মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের মৃতদেহ। সেই থেকেই নাকি অশরীরী কার্যকলাপের শুরু। শোনা যায়, ওই ঘটনার পরই রাতারাতি পালিয়ে যান সব রেলকর্মী। বন্ধ হয়ে যায় এই স্টেশনে ট্রেন থামা। হানাবাড়ির মতো পড়ে থাকে শুধু পাকা স্টেশন বিল্ডিংটা। ১৯৬৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এমনই দশা চলে। ২০১০ সালে আবার চালু হয় বেগুনকোদর স্টেশন। তবে তা শুধু প্যাসেঞ্জার হল্ট হিসেবে। পুরনো স্টেশন বিল্ডিংটাকেই রং করে চালু করা হয়। কিন্তু কাজ হয়নি কোনও।

আরো পড়ুন : বেগুনকোদর কি সত্যিই ভুতুড়ে স্টেশন ? রহস্য ফাঁস হল !

Source

৮) বারোজ স্টেশন

স্কটিশ স্টাইলে তৈরি এই স্টেশনের চারদিকে পাহাড় আর সবুজ বনানী। ১৮৯৮ সালে কর্নেল বারোজ প্রথম সিমলার টানেল খুঁড়তে শুরু করেছিলেন। শেষ করেন ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার এইচএস হ্যারিংটন। এর মাঝে গননায় ভুল হওয়ায় এক ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। তাই শুরু থেকেই এই স্টেশনের সঙ্গে ভূতড়ে শব্দ জুড়ে গেছে।

আরো পড়ুন : জংশন, টার্মিনাস এবং সেন্ট্রাল স্টেশনের মধ্যে পার্থক্য কী?

Source

৯) ধনুষ্কোডি স্টেশন

রামেশ্বরমে অবস্থিত ‘ভৌতিক স্টেশন’ ধনুষ্কোডি। ১৯৬৪ সালে সাইক্লোনের প্রকোপে ধনুষ্কোডি শহর তছনছ হয়ে যায়। যাঁরা বেঁচে যান তাঁদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ভগ্নপ্রায় পরিত্যক্ত স্টেশন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধনুষ্কোডি।

Katak Railway Station
Source

১০) কটক স্টেশন

এই স্টেশনের বিশেষত্ব তার নির্মাণকার্যে। সুপ্রাচীন বারাবাতি দুর্গের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে ওডিশার কটক স্টেশনটিকে। শুধু তাই নয়, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম রেল স্টেশনের মধ্যে একটি কটক রেল স্টেশন।

আরো পড়ুন : ভারতের সর্বোচ্চ গতির ১০ ট্রেন

Source

১১) সারনাথ রেল স্টেশন

দেশের আশ্চর্যতম রেল স্টেশনগুলির মধ্যে একটি সারনাথ স্টেশন। এই স্টেশনের নির্মাণ শৈলী মুগ্ধ করে। পুরোপুরি সাঁচী স্তূপের আদলে এই স্টেশনটিকে গড়ে তলা হয়েছে। এটি দৈর্ঘ্যেও খুব বেশি বড় নয়। সারনাথ ও বারাণসীকে সংযুক্ত করেছে এই রেল স্টেশনটি।

আরো পড়ুন : পেশায় কুলি, রেলের ফ্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল

Source

১২) মানওয়াল স্টেশন

জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরে দেশের মধ্যে প্রথম ‘গ্রিন স্টেশন’ হিসেবে গড়ে ওঠে মানওয়াল। বিদ্যুতে রাশ টানতে এই স্টেশনে প্রথম সৌর বিদ্যুতকে কাজে লাগানোর কথা ভাবেন রেল কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে স্টেশনটি চালু হয়। ২৮টিরও বেশি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে মানওয়ালে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সাথে যুক্ত হন : Facebook Instagram Twitter