শাশুড়ির ভক্তিতে শাশুড়ির নামে মন্দির বানালো বৌমা, শাশুড়ির মূর্তিতে হয় নিত্যপুজো

বিয়ের পর একজন মেয়ের বিবাহিত জীবনে শাশুড়িকে নিয়ে সবথেকে বেশি ভয় কাজ করে। ঠিক একই ভাবে অন্যদিকে শাশুড়ি ও ভেবে থাকেন বৌমা কেমন হবে। আসলে শাশুড়ি বৌমার সম্পর্কটাই এমন যার মধ্যে ভয় ,ভক্তি ইত্যাদি জিনিস গুলো কাজ করে। বেশিরভাগ বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে কোথাও শাশুড়ি ভালো না,তো কোথাও বৌমা।সচরাচর এরকম টক-ঝাল ই হয়ে থাকে শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্ক।

বৌমা-শাশুড়ির সহাবস্থান সংসারে খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না। যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ সর্বদাই যেন লড়াই ময়দানে একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করেই থাকেন । প্রায় প্রতিটি সংসারেই একই চিত্র। তবে তার মধ্যেও থাকে কিছু বিরল ঘটনা। যেখানে শাশুড়ি-বৌমা সত্যিই মা-মেয়ে বা দু’জন ভাল বন্ধু হয়ে ওঠেন বা একে অপরের সঙ্গী। সাম্প্রতিককালের ছত্রিশগড়ের বিলাসপুর এর ঘটনা অনেকটা এরকমই।

শাশুড়ি বৌমার সম্পর্কে ঝগড়াঝাঁটির বাইরে ও যে একটা মিষ্টি মধুর ভালোবাসার সম্পর্ক থাকতে পারে ছত্রিশগড়ের বিলাসপুরের ঘটনা যেন সেই প্রমাণ দিলো। বিলাসপুরের রতনপুর গ্রামের এক বাড়িতে শাশুড়ি বৌমার সম্পর্ক এতটাই ভালো যে ১১ জন বৌমা মিলে শাশুড়ির মন্দির তৈরি করে ফেলেছেন।

সেই মন্দিরে রয়েছে শাশুড়ির মূর্তি।সোনার গয়না পরিয়ে সেই মূর্তিকে সাজিয়েছেন ও তারা। শুধু এখানেই শেষ নয় শাশুড়ির সেই মন্দিরে নিয়মিত বৌমারা মিলে পুজো পাঠ ও করেন। মাসে একবার সকল বৌমারা মিলে ভজন  কীর্তন ও করেন।

আরও পড়ুন : বাবা-মাকে ছাড়ার জন্য বউ চাপ দিলে ডিভোর্স দেওয়া যাবে স্ত্রীকে

শাশুড়ির নাম গীতা দেবী। শিক্ষক শিবপ্রসাদ তম্বৌলির স্ত্রী গীতা দেবীর মন্দির তৈরি হয় ২০১০ সালে।শোনা যায় গীতা দেবী জীবিত অবস্থায় তার সকল পুত্রবধূদের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন। তাই তার মৃত্যুর পর তার বৌমারা শাশুড়িকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মন্দির তৈরি করেন ও সেখানে নিয়মিত পুজো-অর্চনা করতে থাকেন।

আরও পড়ুন : বউ কে বশ করবেন কিভাবে? জেনে নিন কিছু সহজ উপায়

আরও পড়ুন : স্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার কয়েকটি সহজ উপায়

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১১ জন পুত্রবধূর মধ্যে গীতা দেবীর নিজের বৌমা ৩ জন, বাকিরা তার দেওরের ছেলের বউ। এই পুত্রবধূরা প্রত্যেকেই  উচ্চশিক্ষিত। তৎসত্ত্বেও শাশুড়ির প্রতি তাদের এই ভক্তি সত্যি প্রমাণ করে যে কোন রকম কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে নয় বরং মনের ভালোবাসাতেই শাশুড়িকে তারা দেবীর আসনে বসিয়েছে।

আরও পড়ুন : বিয়ের পর মেয়েদের এই ৪টি সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়

বিলাসপুরের সদর জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে রতনপুর গ্রামে গীতা দেবী মহামায়া দেবী র মন্দির তৈরি করেন ২০১০ সালে। সেই মন্দিরে গীতা দেবীরও একটি মূর্তি রয়েছে। ২০১০ সালে গীতা দেবী পরলোকগমন করলে তার বৌমারা সেই মূর্তিটি সোনার অলংকারে সজ্জিত করে পুজো অর্চনা শুরু করেন। আজও সেই ধারা অব্যাহত।