নিয়মিত ধূমপান করেও এই ১০ টি পদ্ধতিতে ফুসফুস পরিষ্কার রাখা যায়

মানুষের শরীরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি ফুসফুস। শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ, কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনসহ দেহের অনেক জরুরি কাজ করে। বলা হয়ে থাকে ফুসফুস প্রাণীর চালিকাশক্তি। সুস্থ ফুসফুসের কারণে মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করে থাকে।

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কখনোই ধূমপান করেন না কিন্তু তারপরেও তাদের ফুসফুসে সমস্যা থাকে। কিন্তু অন্য দিকে যারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ধূমপান করছেন তাদের ফুসফুসে কোন ধরণের সমস্যাই নেই।

ধূমপান করলে ফুসফুসে এক ধরনের বিষাক্ত তরল পদার্থ জমা হয়, যা থেকে ক্যান্সারও হতে পারে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে কভিড-১৯ এর মতন মারণ ভাইরাস সর্বপ্রথম মানব দেহের ফুসফুসেই আক্রমণ করে। এই সময় ফুসফুসের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে।

ধূমপায়ীদের ফুসফুস পরিষ্কারের সহজ উপায়

ফুসফুসকে একেবারে পরিষ্কার করতে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার বিকল্প নেই। গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে ফুসফুস শক্তিশালী হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে ফুসফুস পরিষ্কার হয়।

কি খেলে ফুসফুস পরিষ্কার হয়?

১) লেবুর রস : ফুসফুসের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্য প্রতিদিন সকালে হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খান। লেবুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ফুসফুসের বিষাক্ত পদার্থ গুলি দূর করে।

২) ডেয়ারি প্রোডাক্ট : দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন পনির, চিজ, মিষ্টি দই, ছানা খাবেন না। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ফুসফুসের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ এই ধরনের খাবার ফুসফুসের বিষাক্ত পদার্থটি পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াতে বাঁধা দেয়।

৩) আনারস, ক্যানবেরি জুস : অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের বিষাক্ত পদার্থটি দূর করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আনারসের জুস এবং ক্যানবেরি জুস নিয়মিত খান।

৪) গ্রিন টি : গ্রিন টি স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ভালো। রোজ গ্রিন টি পান করলে অন্ত্রের ও ফুসফুসের বিষাক্ত পদার্থ পরিস্কার করে। এছাড়াও গ্রিন টি ফ্যাট কমাতে ও শরীরের ক্লান্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

৫) আদা : কেবল সর্দিতেই নয় ফুসফুস পরিষ্কার করতেও আদা সমান ভাবে কার্যকর। প্রতিদিন এক টুকরো আদা খেলে শ্বাসতন্ত্র ও ফুসফুস পরিষ্কার থাকবে। আপনি চাইলে আদা চায়ের সঙ্গে দিয়ে খেতে পারেন। আদা দেওয়া চা খেতেও ভালো লাগে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৬) গাজরের জুস : অনেকেই হয়তো জানেন না যে, গাজরের জুস ফুসফুস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে-বিকেলে এক গ্লাস গাজরের জুস খেলে ফুসফুস ভালো থাকবে।

৭) পুদিনা পাতা : পুদিনা পাতার মধ্যে ফুসফুসের যেকোন সংক্রমনের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। পুদিনা পাতার রস ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৮) যোগব্যায়াম : উপরোক্ত টিপসগুলো মেনে চলার সাথে সাথে প্রতিদিন নিয়মিত যোগব্যায়ামও করতে হবে। যোগা করার মধ্যে দিয়ে ফুসফুসে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়।

৯) পালং শাক : পালং শাকের মধ্যে থাকে ফলিক অ্যাসিড, যা শরীর থেকে নিকোটিন বের করে দিতে সাহায্য করে!

১০) আঙুরের রস : ধূমপানের ফলে শরীরের ভিতরে নিকোটিনের মাধ্যমে জমতে থাকা টক্সিন বেরিয়ে গেলেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, ধূমপানের ইচ্ছাও কমতে শুরু করে। আর আঙুরের রস ফুসফুসকে টক্সিন-মুক্ত করতে সাহায্য করে।

এই পদ্ধতিগুলির যে কোনও একটা মেনে চলতে পারলেই সুফল মিলবেই। আর যতদিন না ছাড়তে পারছেন, ততদিন খাবারের তালিকায় রাখুন এই সহজলভ্য উপাদানগুলি। এতে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করা যাবে, ফলে সুস্থ থাকবেন আপনি।