১০ টি হাস্যকর জিনিস যা শুধুমাত্র বাংলা সিরিয়ালেই দেখা যায়

বর্তমানে প্রতিটি জনপ্রিয় বাংলা চ্যানেলে এমন পরিবার কেন্দ্রিক সিরিয়াল দেখা যায় যাদের গল্প যেমন গাঁজাখুরি তেমনি তাদের চিত্রনাট্য বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।মানছি মানুষ মনোরঞ্জিত করার জন্য ও বিনোদনের জন্য টিভির সামনে বসে এই সব সিরিয়াল গোগ্রাসে গেলে তা’বলে যা কিছু দেখানো হয় এখানে তার কথা যদি আমরা একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবি তাহলে দেখব সত্যিই এইসব টিভি সিরিয়ালের চিত্রনাট্যকার বা পরিচালক বা স্ক্রিপ্ট রাইটার সকল সিরিয়াল প্রেমী মানুষদের মাথায় আজগুবি সব বিষয় বস্তু জোর করে মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে যেভাবে আমাদের সুস্থ মস্তিষ্ক বিকৃত হচ্ছে তেমনি সিরিয়াল দেখার স্বাভাবিক আকর্ষন তৈরি হচ্ছে না।দর্শকদের ভালোলাগা ,খারাপ লাগাকে মাথায় না রেখে তাদের নিজেদের কাল্পনিক সব সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি করে নতুন এক পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে এই সব সিরিয়ালে।যা প্রত্যেকের কাছেই সত্যি হাস্যকর।আজ আমরা এমনই দশটি হাস্যকর বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা দেখা যাচ্ছে বাংলা সিরিয়ালে সকল প্রকার বিনোদন মূলক বাংলা চ্যানেলে

এক স্বামীর দুই স্ত্রী

বেশিরভাগ সিরিয়ালই এখন প্রেম বিষয়ক। তা খুবই ভালো। প্রেম মানুষকে বাঁচতে শেখায়।একজন হিরো যে সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র তিনি তার প্রেমিকাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা নিবেদন করছেন তা’ও ঠিক আছে।তারপর তাদের প্রেম পর্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন চলে যাচ্ছে। প্রেমের পর তাদের প্রেমের শুভ পরিণতি অর্থাৎ বিয়েও  হয়ে যাচ্ছে।সমস্যা শুরু হচ্ছে এখন।বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে যেন পূর্বের প্রেমের আর ছিটেফোটাও দেখা যাচ্ছে না।আর এইখানেই আপত্তি ।সিরিয়াল সাধারণত গ্রামের এবং শহরের সাধারণ মহিলারা দেখেন। তাদের মাথার মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিবাহিত স্বামীদের বউদের প্রতি ভালোবাসা থাকে না। আর সিরিয়ালের বউ তাই কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদ করছেন।যা নাকি তার কাছে একদমই জলভাত।সম্পর্কের বিশ্বাস না রাখার চেষ্টা   দেখা যাচ্ছে।আবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর সে ভালোবাসছে তার বউয়ের বোনকে।বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও বউ কিন্তু স্বামীর ঘরেই দিন কাটাচ্ছে। অর্থাৎ এক স্বামীর দুই স্ত্রী দেখা যাচ্ছে এইসব সিরিয়ালে।যা হিন্দু তথা বাঙালি সংস্কৃতি ও সংসার জীবনের সরাসরি উল্টো এক জিনিস।

মুখ্য চরিত্রের থাকে না কোনো আত্মসম্মান বোধ

এছাড়াও সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র  সিরিয়ালের দুর্বৃত্তদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে তার দামি ঘর তাদের নামে করে দিচ্ছে।কিন্তু সে তার নিজের ঘরেই থেকে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।কখনো বা চাকর হয়ে।অৰ্থাৎ আত্মসম্মানের  কোনো বালাই নেই। আমরা সামান্য অপমানিত হলেই যেখানে দূরে থাকতে পছন্দ করি সেই অপমানকারী ব্যক্তিদের থেকে, সেখানে সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র মুখ বুজে হজম করে সব অপমান।

পোশাকের  বাহুল্য যেকোনো পরিস্থিতিতেই

এইসব টিভি সিরিয়ালের মহিলা চরিত্রদের দেখা যায় সবসময় কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই দামি দামি অলঙ্কার সারা  শরীরে পরিধান করতে।তারা যতই গরিব হোক না কেন তাদের মুখের লালিমা সদাই আকর্ষণীয়। প্রতি দিনই নিত্যনতুন শাড়ি পরতে দেখা যায় তাদের ।কিন্তু কোনোদিনই তাদের শপিং করতে বা জামা কাপড় কিনতে দেখা যায় না।

বাড়ির মহিলাদের সকল বিষয়ে  অত্যাধিক জ্ঞান

বাড়ির মা বা কাকিরা  বা বৌদিরা বাড়ির কাজে কোন মন দেয় না।তারা রান্না ঘরে রান্নার বদলে নানান ষড়যন্ত্রে  ব্যস্ত থাকে।তাদের কাজ বলতে  পরনিন্দা ও পরচর্চা।সংসারের সকল বিষয়ে তাদের মতামত অবশ্যই আছে।তা সে পরিবারের ব্যবসার লাভ লোকসানই হোক বা উকিলের কাছে কোনো আইনি পরামর্শ নেওয়া হোক।

ঠাকুমার  বা দাদুর বয়সের নেই কোনো সীমা

এইসব সিরিয়ালে ঠাকুমারা  বা দাদুরা বাঁচে অনেকদিন ।তাদের বয়সের কোনো ঠিক ঠিকানা থাকে না।তারাও আবার রূপচর্চা থেকে শাড়ি  বা নতুন পোশাক পরিধানেও কোনো অংশে কম যায় না, কম বয়স্কদের থেকে।তবে তাদের যত্ন নিতে দেখা যায় না ঘরের বৌমাদের।তার চেয়ে নাতি নাতনিদের বউরা তাদের যত্ন বেশি নেয়।এক কথায় ঠাকুমারা বা দাদুরা  অমরত্ব লাভ করে এইসব সিরিয়ালে।

মন্দিরের পূজার স্থল অনেক ঘটনা ঘটার মুখ্য জায়গা

সকল রকম উৎসব তা যত বড় বা ছোট যেমন দুর্গা পূজা থেকে কালী পূজা, দোল পূর্ণিমা, গনেশ পূজা ,লক্ষী, সরস্বতী পূজা সবই  হয়ে থাকে ঘরের  পাশের মন্দিরে বা নিজের বাড়ির মন্দিরে। ।তবে উপবাস করতে দেখা যায় না কাউকেই।পূজা যেন শুধু নতুন পোশাক পরে আনন্দ করার জন্যই।আর এই মন্দিরেই দেখা যায় যত অঘটন।যেমন পুরানো প্রেমিকাকে দেখা,হারিয়ে যাওয়া ভাই, বা বোনকে খুঁজে পাওয়া।দুই বিবাদমান পরিবারের দেখা হওয়া ইত্যাদি।

সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র সব করতে পারে

সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র তা মেয়েই হোক বা ছেলেই হোক তার কাছে কোনো কিছুই অসাধ্য নয়। মেয়ে হলে সে যেমন বাড়ির সব কাজ হাসি মুখে  করে ,আবার তাকে মনে রাখতে হয় রান্না ঘরে কি রান্না করতে হবে।তার যেন কোন ক্লান্তি নেই।সে’ই বাড়িতে পূজা হলে সবকিছু জোগাড় করবে আবার উপবাসও করবে সে।আর পুরুষ মুখ্য চরিত্র সবকিছু জানে।রোগ হলে কি করতে হবে?গুণ্ডাদের একা মেরে পরিবারকে বাঁচানো।বাড়ির ব্যবসা দেখা কিন্তু তারজন্য কর্মস্থানে যাওয়ার দরকার নেই।বাড়িতে বসেই সব হয়ে যায়।

কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরা

পূজা করতে গিয়ে প্রদীপের নিভে যাওয়া মানে পরিবারে নেমে আসতে চলেছে বিরাট কিছু অঘটন।এছাড়াও বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় পিছনে না ডাকা, তা যত দরকারি না হোক না কেন।পূজা করতে গিয়ে যদি দেবতার প্রতি অর্পিত পুষ্প পূজার থালায় পড়ে যায় তা পরিবারের জন্য শুভ।জ্যোতিষী  বা তান্ত্রিকের কাছে গিয়ে বশীকরণ করার টোটকা নেওয়া।এইসবই এখন প্রত্যেক সিরিয়ালেই দেখা যাচ্ছে।

অল্প বয়সেই শিশুরা সব জানে

দশ বা তার বেশি বয়সের শিশু যারা তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে তারা নাকি সব জানে।তারা বুঝে যায় বাড়ির লোক কার বিরুদ্ধে কি ষড়যন্ত্র করছে।কাকে কীভাবে বাঁচাতে হবে দুর্ঘটনা থেকে।সে ছুটে চলে যায় পুলিশের কাছে, পুলিশ তার কথা শুনেই ছুটে চলে আসে।সে গান গাইতে জানে ,আবার নাচতেও জানে আবার রান্না ঘরে রান্নাও করে।বাবা মায়ের গোপন জিনিস কোথায় রাখা আছে তাও সে জানে।কোনো কিছুতেই সে ভয় পাই না।পড়াশোনা  না করেও সে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছেলে বা মেয়ে।ক্লাসের শিক্ষকরা তাকে অপমান করার সুযোগ খোঁজে।

হাসপাতাল যেন নিজের বাড়ি

যত বড় রোগই হোক না কেন রোগী সুস্থ হয় এক সপ্তাহের মধ্যে।দুর্ঘটনায় মাথায় চোট পেয়ে স্মৃতি নষ্ট হলেও তা এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে পেয়ে যায় রোগী।রোগীদের যেন কোনো বিশেষ ব্যবস্থার দরকার হয় না।তারা যেন পরিবারের প্রিয় লোককে দেখলেই ফিরে পায় স্মৃতি।ওষুধ কেনা বা হাসপাতালের টাকা দেওয়ার কোনো দরকার পড়ে না এইসব হাসপাতালে।সবাই মিলে হাসপাতালে যেকোন সময়ে আসা যায় ,আবার যাওয়া যায়।কোনো রকম নিয়ম বা নীতির ব্যবস্থা নেই।কোন চরিত্রের মৃত্যু ঘটে না।যতো বড়োই দুর্ঘটনা হোক না কেন।