পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের এই ১০টি রহস্য, যার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বিজ্ঞান

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের এই ১০টি রহস্যের সমাধান আজও হয়নি

10 Interesting And Amazing Facts About Puri Jagannath Temple : পুরী (Puri) ভ্রমণ মানেই জগন্নাথের মন্দির (Jagannath Temple) দর্শন। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী চারধামের অন্যতম এই পুরী জগন্নাথের মন্দির ভারতের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির অন্যতম। মন্দিরের পরতে পরতে রয়েছে ইতিহাস, শিল্পকলা আর রহস্যের হাতছানি। চলুন সেগুলোর সম্পর্কেই আজকে জেনে নেওয়া যাক।

কয়েকদিন আগেই হয়ে গেলো জগন্নাথের রথ যাত্রা (Jagannath Rath Yatra 2023)।এই সময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তরা। এই জগন্নাথ মন্দির হল ভারতের পূর্ব উপকূলে ওড়িশা (Odisha) রাজ্যের পুরীতে অবস্থিত। জগন্নাথ পুরীকে বলা হয় পৃথিবীর বৈকুণ্ঠ। এই স্থানটি শাকক্ষেত্র, নীলাঞ্চল এবং নীলগিরি নামেও পরিচিত। অনেক পুরাণ অনুসারে, ভগবান কৃষ্ণ এখানে নীলমাধব রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ওড়িশায় অবস্থিত এই ধামটিও দ্বারকার মতো সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত।

JAGANNATH TEMPLE

বর্তমান মন্দিরটিকে ১০ ​​শতক পর থেকে একটি পুরানো মন্দিরের জায়গায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল এবং পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের প্রথম রাজা অনন্তবর্মণ দেব দ্বারা এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জগন্নাথ তার বড় ভাই বলভদ্র ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে এখানে বাস করেন। বেশিরভাগ হিন্দু মন্দিরে পাওয়া পাথর এবং ধাতব মূর্তিগুলি তবে এই মন্দিরের দেব জগন্নাথের মূর্তিটি কাঠের তৈরি। প্রতি বারো বা ১৯ বছর পর পর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি এই প্রতিরূপ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

এই মন্দিরটি গঙ্গা রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গা দেব বারো শতক খ্রিস্টাব্দে তৈরি করেছিলেন। তার বংশধর দ্বিতীয় নরসিংহদেবের কেন্দুপত্তন তাম্রশাসনের শিলালিপি দ্বারা প্রমাণিত। এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ ১১১২ খ্রিস্টাব্দের কিছু পরে শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। মন্দিরের ইতিহাস অনুসারে, এটি অনঙ্গভীম-দেব দ্বিতীয় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

JAGANNATH TEMPLE

এই মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা তিনজনে  পূজিত হয়। মন্দিরের অভ্যন্তরে গর্ভগৃহের মধ্যে সুদর্শনা চক্র, মদনমোহন, শ্রীদেবী এবং বিশ্বধাত্রীর মূর্তি-সহ রত্নবেদী বা রত্নবেদীতে উপবিষ্ট এই তিন দেবতার মূর্তি খোদাই করা আছে। যা নিম কাঠের তৈরি । ঋতু অনুসারে দেবতাদের বিভিন্ন বস্ত্র ও রত্ন দ্বারা শোভিত করা হয়। তবে এই মন্দিরের অনেক রহস্য আছে যা আজ পযন্ত কেও সমাধান করতে পারেননি।

১) এই মন্দিরটির চূড়ায় সুবিশাল সুদর্শন চক্র রয়েছে। এই চক্র স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শণ চক্র বলে মনে করা হয়।এটির উচ্চতা ২০ ফুট এবং ওজন প্রায় এক টন! শহরের প্রতিটি দিক থেকে এই চক্রটিকে দেখা যায়। ভক্ত যেখানেই থাকুক না কেন, সর্বদা ভগবানের দৃষ্টি আছে।

JAGANNATH TEMPLE

২) মন্দিরের মূল গম্বুজটি প্রায় ৪৫ তলার সমান যেখানে ১৮০০ বছর ধরে প্রতিদিন ওই গম্বুজের উপরে উঠে নিয়মিত পতাকাটি পরিবর্তন করতে হয়। যদি কোনও কারণে এটি একদিনও পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী মন্দির চত্ত্বর পরবর্তী ১৮ বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। ৩)  আশ্চর্যজনকভাবে পুরির জগন্নাথ মন্দিরের এই পতাকাটি সবসময়ই বায়ুপ্রবাহের বিপরীত দিকে উড়তে দেখা যায়। এটা কীভাবে সম্ভব তা এখনও অজানা।

৪)২০০০ বছর আগে গোপুরমে আনা হয়েছিল এই বিশাল চক্রটি এবং মন্দিরের উপরে স্থাপন করা হয়েছিল আজও ধাঁধা হিসাবে রয়ে গিয়েছে। ৫) আবার মন্দিরটি এমনভাবে তৈরি কোনও সময়ই মূল খিলানের ছায়া দেখা না যায়। ৬) মন্দিরে দৈনিক ভক্তের সংখ্যা ২০০০ থেকে ২০,০০,০০০ মধ্যে থাকে। তবে, রান্না করা প্রসাদের পরিমাণ বছরের একই থাকে। তা সত্ত্বেও কোনওদিনই প্রসাদ এতটুকু কম পরে না, বা বেশিও হয় না।

আবারঅবিকল ৭টি হাঁড়ি পরপর একটাকে আরেকটির উপরে রাখা হয়। সবচেয়ে উপরের পাত্রটিতেই রান্না করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রথম পাত্রে যেভাবে রান্না করা হচ্ছে, তা অন্য পাত্রগুলিতেও নিজে থেকেই হয়ে যার বলে শোনা যায়। ৭) পৃথিবীর নিয়ম অনুসারে, দিনের বেলা সমুদ্র থেকে বাতাস বয়ে আসে স্থলভাগের দিকে। আর রাতে উল্টোটা ঘটে, কিন্তু, পুরীর ক্ষেত্রে জগতের এমন এক স্থান এখানে দিনের বেলা স্থল থেকে বাতাস যায় সমুদ্রে আর রাতে ঘটে বিপরীতটা।

JAGANNATH TEMPLE

আরও পড়ুন : ভারত নয়, রামায়ণের সীতা আসলে কোন দেশের মেয়ে ছিলেন জানেন?

৮) এছাড়াও  আশ্চর্যের ভাবে মন্দিরের উপরে  কোনও বিমান, এমনকী কোনও পাখিকেও উড়তে দেখা যায় না। এই আশ্চর্যজনক ঘটনার এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ৯) এদিকে  মন্দির থেকে সমুদ্রের দূরত্ব বেশি নয়। অথচ মন্দিরের সিংহদ্বার অর্থাৎ প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের আগে পর্যন্ত সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়। কিন্তু সিংহদ্বার পেরিয়ে গেলেই আর সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না। আবার মন্দির থেকে বের হলে, সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়। ১০) কথিত আছে নবকলেবরের সময় পুরনো মূর্তিগুলিকে মাটিতে সমাধীস্ত করা হয়। ২১ দিন পর মূর্তিগুলি আর দেখা যায় না নিজে থেকে ভেঙ্গে যায়।

আরও পড়ুন : যে ১০টি কারণে দ্রৌপদী মহাভারতের আদর্শ নারী এবং সকল নারীর অনুসরণযোগ্য