নিজেকে ভারতীয় হিসেবে গর্ব করার দশটি গুরুত্বপূর্ন কারণ

ভারত পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে, চীনের পর।ভারতের জনসংখ্যা যেমন অনেক বেশি তেমনি ভারতের সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ,সবই হাজার হাজার বছরের পুরনো।পৃথিবীর আর কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ভারতের মতো এতো বৈচিত্র একসাথে সহাবস্থান করছে সম্প্রীতির বন্ধনে।তা, সে বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ভাষা ,বিভিন্ন ধর্ম, বর্ন ও সংস্কৃতি হোক না কেন।তাই কবির ভাষায়
“নানা ভাষা নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের  মাঝে দেখ মিলন মহান।”

তাই আমরা আমাদের দেশ ভারতবর্ষকে নিয়ে বিশ্বের দরবারে দীপ্ত কন্ঠে ও উন্নত শিরে অহংকার করতে পারি।তবে শুধুমাত্র ধর্ম আর আচার অনুষ্ঠান দিয়ে এই দেশের পৃথিবীতে অবস্থান নির্ধারণ করা হবে তা কিন্তু নয়।মেধার দিক দিয়েও এই দেশ বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নত দেশগুলিকে মোকাবিলা করতে পারে।
আজ আপনাদের জানাবো এমন দশটি গুরুত্বপূর্ন তথ্য আমাদের মাতৃভূমি ভারতবর্ষ সম্পর্কে যা জানলে আপনার নিজেকে ভারতীয়  হিসেবে গর্ববোধ হবে

Source

সংস্কৃত ভাষা সকল উন্নত ভাষার জনক

ভারতের প্রাচীনতম ভাষা সংস্কৃত। পুরাকালে এই ভাষায় রচিত বেদ ,উপনিষদ এমনকি ভারতে হিন্দুদের  পবিত্র ধর্ম গ্রন্থগুলি যেমন রামায়ন, মহাভারত ও গীতা সবই সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিল।এই ভাষা সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও তাই  ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে এই ভাষা কম্পিউটার সফটওয়ার তৈরি করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ভাষা। ইংরাজি ভাষা যা সারা পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষ চর্চা করেন বা এই ভাষায় কথা বলেন তার অনেক শব্দ এই আমাদের ভারতীয় প্রাচীন ভাষা সংস্কৃত থেকে নেওয়া হয়েছে।যেমন “Mother” শব্দটি  এসেছে সংস্কৃত শব্দ “মাতৃ”থেকে , “Cheetah ” এসেছে “চিত্রক” শব্দ থেকে ।এরকম  অনেক উদহারন পাওয়া যায় আরও অনেক অনেক এরকম উদাহরণ আছে।
Brother > ভাতৃ, New > নব, Same > সম, Diva/ Divine > দেবী/দেব, Serve > সেবা,
Rose > রোজা

Source

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ ভারত

ভারতের আয়তন পৃথিবীর অন্যান্য ছয়টি দেশের তুলনায় আয়তনে কম হলেও এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে চীনের পরে হলেও এই দেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ।এই ১২০কোটির বেশি জনসংখ্যা যুক্ত দেশে একক ভোটদানের মাধ্যমে সারাদেশ জুড়ে ভোট পর্ব সম্পন্ন হয় প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যে।এই দেশে তিনটি ধর্মের সূচনা হয়েছিল ,হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ ধর্ম।এই দেশের জনগণের মধ্যে ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয়।এহেন ধর্মের মানুষ নেই যা ভারতে বসবাস করেন না সম্প্রীতির সুরে।

Source

ভারতের সংবিধান পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো  লিখিত সংবিধান

১৯৪৭ সালে ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা পাওয়ার পর ভারতের প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ভারতের অন্যতম স্তম্ভ সংবিধান কার্যকর হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি।ভারতীয় সংবিধান বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম লিখিত সংবিধান।
মূল ভারতীয় সংবিধান হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় হাত দিয়ে লিখিত।এই মূল সংবিধানের ২ কপি হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি বাক্সে রাখা আছে ভারতের সংসদের লাইব্রেরিতে।
ভারতীয় সংবিধান রচনা করতে মোট সময় লেগেছিল ২বছর ১১মাস ১৮দিন।ভারতীয় সংবিধান যার তত্ত্বাবধানে লেখা হয়েছিল তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর যাকে আমরা বি. আর. আম্বেদকর  নামে জানি।সংবিধান রচনার পূর্বে মোট ১৬৬টি অধিবেশন বসেছিল যা করতে দুই বছরের বেশি সময় লেগেছিল।মূল ভারতীয় সংবিধানে  ৩০৮জন সদস্যের স্বাক্ষর আছে।এই সদস্যরা ২৪শে জানুয়ারি ১৯৫০সালে তাদের স্বাক্ষর করেন।
ভারতীয় সংবিধানে মোট ৪৪৮টি ধারা ২২টি খণ্ড,১২টি তফশিল ও ৯৭ এর বেশি বার সংশোধিত করা।

Source

ভারতের বিদেশে যাওয়া ডাক্তার ও বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা সংখ্যা

পৃথিবীর মধ্যে  সবচাইতে বেশি বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তার  যারা  ভারত থেকে বিদেশে গিয়েছে।ভারতে  প্রতি বছর  প্রায় ৫০,০০০ বেশি ডাক্তার পাশ করে।তাদের মধ্যে বেশরিভাগই বিদেশে চলে যায় উচ্চতর শিক্ষা বা ভালো কাজের আশায়।তেমনি ভারতে প্রতি বছর  ৭লক্ষের বেশি ইঞ্জিনিয়ার  ভারত থেকে পাশ করে ।আর ভারতে প্রতি বছর গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা প্রায় ১২লক্ষ।তাই বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় ভারতে ডাক্তার ,বা ইঞ্জিনিয়ার বা গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি।যদিও এখানে বলে রাখা দরকার আনুপাতিক হিসেবে জনপ্রতি ডাক্তারের সংখ্যা বা ইঞ্জিনিয়ার বা গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেকটাই নীচের সারিতে ভারত।

ভারত থেকে বিদেশে ছড়িয়ে পড়া লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি

বিদেশের সব দেশের মধ্যেই ভারতীয়রাই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে ভারতীয়দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকায় বসবাসকারী ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের সংখ্যা প্রায় দশ লাখ ছাড়িয়েছে।যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।আমেরিকার ডাক্তারদের মধ্যে ৩৮% ভারতীয় বংশোদ্ভূত,আমেরিকার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১২%বিজ্ঞানী ভারতীয়,NASA তে কর্মরতদের মধ্যে  ৩৬% ভারতীয় বংশোদ্ভূত।বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কোম্পানি মাইক্রোসফট, আই বি এম,ইনটেল, জেরক্স প্রভৃতির শতকরা ৩৪%,২৮%,১৭%,ও ১৩% কর্মচারী ভারতীয়।

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবাদি পশু পালন ও দুধ উৎপাদনে ভারত প্রথম

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গবাদি পশুর সংখ্যা অর্থাৎ গরু ,ছাগল,  মোষের সংখ্যা ভারতে সবচাইতে বেশি চীন ও ব্রাজিলের আগে।ভারতে মোট গবাদি পশুর সংখ্যা  ৩০ কোটির বেশি যা সারা পৃথিবীর প্রায় ৩১%। যার মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায়  ১৩কোটির বেশি।ভারতে প্রতি বছর সবচাইতে বেশি দুধ উৎপাদিত হয় ।যার পরিমান প্রায়  প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টন  সাল২০১৪-১৫এর হিসাব অনুযায়ী যা সারা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত দুধের  ১৮.৫%।

Source

ভারতীয় রেল পরিষেবায় বিশ্বের সবচাইতে বেশি  কর্মচারী কাজ করে অন্যান্য দেশের রেলের তুলনায়

ভারতীয় রেল যা সারা পৃথিবীতে রেলপথের হিসাবে পঞ্চম যা আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার ও কানাডার পরেই।তবে ভারতীয় রেলে মোট নিযুক্ত কর্মচারীর সংখ্যা সারা পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি ।এর সংখ্যা প্রায় ১৪ লক্ষ।এই কর্মচারীর সংখ্যা ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটির চেয়েও বেশি। ভারতে প্রতিদিন প্রায়  ১২৬১৭ টির মতো ট্রেন ছুটে চলেছে ।

Source

পৃথিবীর  অন্যতম প্রাচীন শহর ভারতেই আছে

ভারতের বর্তমানের বেনারস বা পূর্বের বারাণসী পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহর।যীশুখিস্ট জন্মানোর  ৫০০ বছর আগে থেকেই এই শহরের উৎপত্তি এবং শহর হিসাবে বিকশিত হয়ে উঠেছিল।বারাণসী বা বেনারস যা ভারতের পবিত্র নদী গঙ্গার তীরে অবস্থিত ।এই শহর মন্দিরেরশহর তথা হিন্দুদের জন্য মোক্ষ লাভেরও শহর বটে।

Source

কৃষিতে ভারত অনেক কিছু উৎপাদনে প্রথম

ভারতে বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে বেশি মশলা উৎপাদন করা হয় । যেমন লবঙ্গ, দারুচিনি, আদা ,রসুন, গোলমরিচ প্রভৃতি উৎপাদনে ভারত বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।এছাড়াও চা, কাজুবাদাম, নারকেল উৎপাদনেও ভারত বিশ্বে এক নম্বর।

Source

ভারতের মধ্যেই আছে বিশ্বের সবচাইতে বৃষ্টিবহুল স্থান

বিশ্বের সবচাইতে বৃষ্টি বহুল স্থানের খোঁজ ভারতেই পাওয়া যায়।ভারতের মেঘালয় রাজ্যের  চেরাপুঞ্জির মৌসিনরাম  নামক জায়গায়।এখানে  বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান  ১১,৭৭৭ মিলিমিটার।ইহা  বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে আদ্রতম জায়গা।